Sporty Magazine official website |

Popular Posts

ছোট কাজ করে ছোট টাকা উপার্জন

Monday, August 11, 2014

আশা করি সবাই ভালো আছেন। ইন্টারনেট এ ছোট ছোট কাজ করে কিছু টাকা উপার্জনের কিছু সাইট নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের সামনে। হয়তবা অনেকেই এই সাইট গুলোর নাম আগে থেকেই জানেন। যারা জানেন না তাদের জন্য আমার আজকের লিখা।

  • microworkers.com: এই সাইটটি অনেক জনপ্রিয়। কাজ করার সাত দিনের মাঝে আপনার টাকা হয়ে যাবে। একাধিক একাউন্ট করা যাবে না। নয় ডলারের বেশি হলে পেপাল, পায়জা ও মানিবুকের্স দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
  • shorttask.com: এই সাইটটি কার্যক্রম অনেক ভালো। একাধিক একাউন্ট করা যাবে না। দশ ডলারের বেশি হলে পেপাল দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
  • minuteworkers.com: এই সাইটটি ভালো সাইট হিসাবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। রেফারেল দিলে পাচ সেন্ট পাবেন ও আপনার রেফারার যদি একটি কাজ সফলভাবে শেষ করেন তবে দশ সেন্ট পাবেন। দুই ডলারের বেশি হলে ১০% ফী দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন। তবে দশ ডলারের বেশি হলে কোনো ফী দিতে হবে না। পেপাল ও পায়জা দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
  • microtoilers.com: এই সাইটটিতে একাউন্ট করার সাথে সাথে এক ডলার পাবেন। এই সাইট এ রেফারেল এর বেবস্থা আছে। প্রথমবার টাকা তুলতে পচিশ ডলার বেশি হতে হবে। এরপর নয় ডলারের বেশি হলে পেপাল ও পায়জা দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন। (তবে এই সাইটটিতে আমি কখনো কাজ করিনি)
  • jobboy.com: এই সাইটটিতে একাউন্ট করার সাথে সাথে এক ডলার পাবেন। এই সাইট এ রেফারেল এর বেবস্থা আছে। দশ ডলারের বেশি হলে পেপাল ও পায়জা দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
  • microjob.co: এই সাইটটিতে আপনি নিজের প্রোফাইল তৈরী করে আপনার কাজের বর্ণনা দিতে পারবেন পাশাপাশি ছোট ছোট কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন। পেপাল, পায়জা ও মানিবুকের্স দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু টাকা পাঠাতে ত্রিশ কর্ম দিবস সময় নিয়ে থাকে।
  • centworkers.com: এই সাইটটিতে আপনি রেফারেল দিলে দশ সেন্ট পাবেন ও আপনার রেফারার যদি কাজ করে একশ ডলার উপার্জন করেন তবে এক ডলার পঞ্চাশ সেন্ট পাবেন। পাচ ডলারের বেশি হলে পেপাল, পায়জা ও মানিবুকের্স দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন।
  • pointdollars.com: এই সাইট এ রেফারেল এর বেবস্থা আছে। প্রথমবার টাকা তুলতে পচিশ ডলার বেশি হতে হবে। এরপর নয় ডলারের বেশি হলে পেপাল ও পায়জা দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন। (তবে এই সাইটটিতে আমি কখনো কাজ করিনি)
  • deshiworker.com: এটি একটি বাংলাদেশী সাইট। এর মান ঠিক রাখতে এডমিনগণ যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যারা ইংলিশ একটু কম পারেন, তারা এই সাইটটিতে চেষ্টা করতে পারেন। এই সাইটটি সম্পর্কে বেশি কিছু বলছি না, কারণ সাইটটি বাংলায়। তাই কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হবার কথা না।

মা-বাবার কাছে ফিরতে ব্যাকুল শাওন

Saturday, April 19, 2014

নোয়াখালী শহরের মাইজদী বাজারে শাওন নামের একটি শিশুকে পাওয়া গেছে। শিশুটির ভাষ্য, তার বাড়ি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে। বাবা রিকশাচালক মুক্তার হোসেন ও মা আছমা গৃহকর্মী। মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে ব্যাকুল শাওন। 
শাওনের ভাষ্যমতে, গত বুধবার সকালে সে বাসার পাশের রাস্তায় খেলছিল।  এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে চকলেট কিনে দেবে বলে সঙ্গে যেতে বলে।  এরপর ওই ব্যক্তি তাকে নিয়ে একটি বাসে ওঠে। তাকে সামনের একটি সিটে বসিয়ে ওই ব্যক্তি পেছনে বসেন। শাওন জানায়, বাসটি দুপুরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় থামে।  এ সময় সে বাস থেকে নেমে দৌড়ে আরেকটি বাসে ওঠে। বাসটি নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে পৌঁছালে শিশুটি নেমে পড়ে। এর বেশি কিছু বলতে পারেনি শাওন।
বাজারের স্থানীয় ইজিবাইকের চালক সফিউল্লা ওরফে সোহাগের ভাষ্য, শাওন একটি  যাত্রীবাহী বাসের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল, এ সময় তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করেন। শাওন তাঁর হেফাজতে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি শিশুটিকে প্রথম আলো কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে ঢাকার ভাষায় শিশুটি জানায়, সে যাত্রাবাড়ীতে থাকে। তার বাবা রিকশাচালক ও মা গৃহকর্মী। 
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে ইজিবাইকের চালকের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুটির সন্ধানে কেউ না এলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার একটা ব্যবস্থা করা হবে।

খাগড়াছড়িতে গুলিতে নিহত ১

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা সদরের জুর্গাছড়ি গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে জয় কুমার চাকমা (৫০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তাঁর মেয়ে কল্পনা রানী চাকমা। আজ শনিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রামগড় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যদের মধ্যে এই গোলাগুলি হয়েছে।
নিহত জয় কুমার চাকমা কোন পক্ষের লোক, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

৫৩ হাজার ভুয়া পরিচয়পত্রসহ আটক ২

রাজধানীতে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার রাতে আমিনুল ইসলাম ও তৌফিক ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫৩ হাজার ১০০টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যক্তির ৩৬ হাজার ৩০০ রঙিন ছবি ও পরিচয়পত্র তৈরিতে ব্যবহার করা একটি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্রের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত সোয়া ১০টার দিকে ১৭৫/এ পূর্ব ধোলাইরপাড় এলাকার পদ্মা ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে আমিনুল ইসলামকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গাজীপুর জেলার আরিচপুর বাজার এলাকার আট নম্বর শেরে বাংলা রোড থেকে তৌফিক ইসলামকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৫৩ হাজার ১০০টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ৩৬ হাজার ৩০০ রঙিন ছবি, ভুয়া জাতীয়পত্র তৈরিতে ব্যবহূত কম্পিউটারসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা মোবাইলের সিম কিনতে এসব ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে। এই চক্রটি গত দেড় মাস ধরে কাজ করছিল। জাতীয় পরিচয়পত্রগুলো সাধারণত ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি করা হতো। আটক হওয়া তৌফিকুল ইসলাম এই চক্রটির অন্যতম সদস্য। আমিনুল ইসলাম ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের বিক্রেতা। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হবে।

আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বারডেমের চিকিত্সকেরা

বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত কর্মবিরতি শেষে চিকিত্সকেরা এ ঘোষণা দেন। এ সময় হাসপাতালের বর্হিবিভাগে রোগীরা সেবা পাননি।
চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, আগামীকাল একইসময়ে তাঁরা আবারও এক ঘণ্টারও কর্মবিরতি পালন করবেন। বারডেম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিত্সক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যতদিন পর্যন্ত চিকিত্সকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার না হবে ততদিন পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনে চালিয়ে যাবেন।
কর্মবিরতির সময় হাসপাতালের বর্হিবিভাগে রোগীরা সেবা পাননি। এ সময় বারডেম হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মিলনায়তনে শতাধিক চিকিত্সক অবস্থান নেন। তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কয়েকজন চিকিত্সক সেখানে যোগ দেন। চিকিত্সকেরা বলেছেন, তাঁরা রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই কঠোর কোনো কর্মসূচি দিচ্ছেন না।
কাল মামলা হতে পারে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিত্সকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। এ ব্যাপারে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আগামীকাল মামলা হতে পারে।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে আজ
সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর  ঘটনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন,পরিচালক (ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস) মির্জা মাহবুবুল হাসান। 
যে কারণে আন্দোলন
১৩ এপ্রিল রাতে বারডেম হাসপাতালে সিরাজুল ইসলাম নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। চিকিত্সকেরা অভিযোগ করেন, ওই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। তাঁরা তিন চিকিত্সককে মারধর করেন। একজন নারী চিকিত্সক প্রাণভয়ে টয়লেটে লুকালে সেখান থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই ঘটনায় ইন্ধন দেন মাসুদ হোসেন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের এপিএস এম এ বাবু। চিকিত্সকেরা অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। ১৫ এপ্রিল থেকে বহির্বিভাগে রোগী দেখা ও নতুন রোগী ভর্তি করা থেকে তাঁরা বিরত থাকেন। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। পরে ১৭ এপ্রিল বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সকেরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ায় চিকিত্সকেরা এই সিদ্ধান্ত নেন।

সন্দেহভাজন খতিয়ে দেখছে ডিবি

পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের তালিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে আদালতে আবু বকর জবানবন্দি দিয়েছেন, তা ধরে তদন্তকাজ চলছে।
আজ মিন্টো রোডে ডিএমপির তথ্য কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
আবু বকরের অপহরণ খুব সুপরিকল্পিতভাবে নিপুণতার সঙ্গে ঘটানো হয়েছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে যত তথ্য পাওয়া যাবে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। যারা এই অপহরণ করেছে, কী কারণে করছে, সেসব খুঁজে বের করাই উদ্দেশ্য।’
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মুনিরুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় আবু বকরের অপহরণের সময় যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর অনুসন্ধানে কাজ চলছে। সব বিষয়ে আবু বকরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

হোটেলের এসিতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মমতা

Friday, April 18, 2014

বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রচারে তিনি এখন মালদায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর হোটেলের ঘরের এসি মেশিনে আগুন লাগে। ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। আগুনের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারে মালদায় তিনি। সেখানেই একটি বেসরকারি হোটেলে রয়েছেন ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই হোটেলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের এসি মেশিনে আগুন লাগে। আলো নিভে যায়। ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর। অসুস্থ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন সকলেই। তৃণমূল সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন টুইটে জানান, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়ে কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কীভাবে আগুন লাগল চিঠিতে তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
এদিকে এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আগুন লাগার খবরে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী কেমন রয়েছেন সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেন সূর্যকান্ত মিশ্র। পার্থবাবুর সাথে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দেখে যান চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, ভালোই আছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

কালিয়াকৈরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২॥ আহত ৪

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় টেম্পু উল্টে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। 
আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হরতকীতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঢাকার ধামরাই থানার ধানতারা এলাকার জয়নাল আবেদীন (৩৫) ও একই এলাকার ওয়াহেদ আলী (২৮)। দু’জনই লেবু ব্যবসায়ী। তারা জয়দেবপুর লেবু বিক্রি করে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। 
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হরতকীতলা এলাকার ফরেষ্ট চেক পোস্টের সামনে কালিয়াকৈর থেকে সাতজন যাত্রী নিয়ে একটি টেম্পু চন্দ্রা রওয়ানা হয়। পথে একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে টেম্পুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে টেম্পুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় টেম্পুর যাত্রীরা আহত হন। আহতদের চারজনকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে দু’জন মারা যান। লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টেম্পুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালে বরফ ধসে ১২ পর্বতারোহীর প্রাণহানি

এভারেস্ট পর্বতমালায় বরফ ধসে ১২ পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয়ের ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ পবর্তারোহী নিহতের সংখ্যা।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পাশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার আটশ’ মিটার উচ্চতায় ‘পপকর্ণ ফিল্ড’ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় কর্মকর্তাটি।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহন কৃষ্ণ জানান, নিহত ও নিখোঁজ পর্বতারোহীদের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। 
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মধূসুদন বুরলাকোটি বিবিসিকে জানান, উদ্ধারকাজের জন্য তিনটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এখন এভারেস্ট আরোহনের মৌসুম চলায় পর্বতারোহীদের ভীর বেশি।

গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন গুম হয়ে গেছে : ব্যারিস্টার রফিক


দেশে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন গুম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেছেন, দেশে চলমান খুন ও গুমের অবস্থা দেখে মনে হয় গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনও গুম হয়ে গেছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক যুব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। দুই বছরে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর খোঁজ না দেয়ার প্রতিবাদে স্বাধীনতা ফোরাম এ সমাবেশের আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, ‘র’ এর এজেন্ট এসে বাংলাদেশ থেকে একজনকে ধরে নিয়ে যায়। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তা হলে আমরা কোন দেশে বাস করছি।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এড. ছানাউল্লাহ মিয়া, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

পদ্মা সেতুর ৪০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে : যোগাযোগমন্ত্রী



জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজ মিলিয়ে পদ্মা সেতুর  প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে দাবি করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই সাথে আগামি জুন মাসেই সেতু নির্মাণ কাজের আদেশ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৯ম নিটল-নিলয় ঢাকা মোটর শো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। আগামি জুন মাসেই সেতু নির্মাণ কাজের আদেশ দেয়া হবে। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের সব সড়ক কংক্রিটের করা হবে। বর্তমানের বিটুমিনের রাস্তাগুলো অনেক পুরাতন হয়ে গেছে, মেরামত করে এগুলো আর চালানো যাচ্ছে না। তাই কংক্রিটের তৈরি রাস্তার দিকেই আমাদের যেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামি জুন মাসে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হবে। জয়দেবপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত র‌্যাপিড ট্রানজিট গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের আগে জেনে নিন

বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকের স্থান সেন্ট মার্টিন। এই সেন্ট মার্টিনে ঘুরতে এসে এ সপ্তাহে মারা গেলেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এখনো নিখোঁজ দুইজন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। তবে তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই, এমন ধারণাই অধিকাংশের। আর সময় যত যাচ্ছে তাদের লাশ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত কমছে।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে এসে আহসানউল্লাহর শিক্ষার্থীদের মত আপনার আনন্দও মাটি হতে পারে যদি সতর্ক না হন।

সমুদ্রে ভাটার সময় পায়ের গোড়ালির বেশি নামবেন না
আপনি সাঁতার জানেন তো? সাঁতার না জানলে সমুদ্রে আপনার নিরাপদ এলাকা হচ্ছে, ভাটার সময় পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আর জোয়ারের সময় হাঁটু পর্যন্ত পানিতে নামা। তাও যদি আশেপাশে সাঁতার জানা লোক থাকে।

জেনে নিন জোয়ার-ভাটার সময়
সমুদ্রে নামার আগে জেনে নিন জোয়ার চলছে, না ভাটা চলছে। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা ভয়ঙ্কর বিপদজনক। খুব বেশি নিরুপায় হলে ভাটার সময় বড়জোর পায়ের গোড়ালি ভেজাতে পারেন, এর বেশি নয়।

আগে জানুন তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কি না
জোয়ারের সময় যদি সাতার কাঁটতে বা গোসল করতে পানিতে নামতে চান, তাহলে প্রথমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হন কোন জায়গাটা সাঁতার বা গোসলের জন্য নিরাপদ। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজারের বিশাল সৈকতে সাঁতারের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকনাফ বা সেন্টমার্টিনের সৈকতে সাঁতার বা গোসল করতে নেমে বিপদে পড়ে। এ বিষয়টি ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে, কক্সবাজারের মত এতো ধীর ঢালের এবং দীর্ঘ সৈকত পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে। তাই হাঁটু পানি থেকে কোমর পানিতে যাবার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করুন। ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন ওখানে কোনো বিপরীত তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কি না।

গভীর সমুদ্রে সাঁতার জানার পরও অনেকে ডুবে যান
আপনি নিশ্চয়ই সাঁতার জানেন। কিন্তু এটা খেয়াল আছে কি, কতদিন আগে আপনি শেষবারের মত সাঁতার কেটেছেন? এ কথা সত্যি যে সাঁতার শিখলে তা ভোলা সম্ভব না। কিন্তু সাঁতার হচ্ছে একটি কঠিন ব্যায়াম যাতে শরিরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সাঁতার কাটতে গেলে অনেক সময় পায়ের পেশী সংকোচন সমস্যা দেখা দেয়। পেশী সংকোচন হলে যে যন্ত্রণা হয় তাতে সাঁতার অব্যাহত রাখা মুশকিল হয়ে পরে। এ কারণে সমুদ্রের গভীর এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে সাঁতার জানা থাকার পরও ডুবে যান।

সেন্ট মার্টিনে হাঁটু-পানির বেশি দূরত্বে যাওয়া নিরাপদ নয়
সেন্ট মার্টিনে গিয়ে কখনো জেটি থেকে নেমেই ডান দিকের (দ্বীপের পূর্ব দিক) সৈকত ধরে আগাবেন না (ম্যাপে নীল চিহ্নিত দাগ)। তা না করে বরং মূল রাস্তা ধরে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে চলে যান। সেখানে গিয়ে সমূদ্রে নামুন। তারপরও জোয়ার-ভাটার বিষয়ের সাথে সাথে খেয়াল রাখুন সেন্টমার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এর সৈকত খুবই সংকীর্ণ এবং এখানে হাঁটু-পানির চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়া মোটেই নিরাপদ নয়, তা আপনি যত বড় সাঁতারুই হোন না কেন।

উত্তর-পূর্ব সৈকতে রয়েছে অনেকগুলো ডুবো গর্ত
সেন্ট মার্টিনের জেটি থেকে নামার পর যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোনো ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং হাঁটতে হাঁটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন। দ্বীপের এই সৈকতে পরস্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত তৈরি হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

চট্টগ্রামে তেলবাহী বগি লাইনচ্যুত

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ১নং প্লাটফর্মে দুহাজারী বিদ্যুৎ স্টেশনের তেলবাহী ওয়াগনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। 
চট্টগ্রাম রেল স্টেশন মাস্টার শামসুল আলম জানান, তেলবাহী ওয়াগনটি একপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ওয়াগনের একটি বগি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানান তিনি। 

তিস্তা অভিমুখে রোডমার্চ শুরু : এ সরকারকে কেন জনগণ খাজনা দিয়ে পুষবে : সিপিবি সভাপতি

যে সরকার দেশের মানুষের দাবি আদায় করতে পারে না, তাকে কেন জনগণ খাজনা দিয়ে পুষবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। 
একইভাবে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে বাংলাদেশ এখন অরক্ষিত। সরকারের সুবিধাভোগী কিছু লোক চাইছে নদী শুকিয়ে চর জেগে উঠুক, যাতে ওই চরের জায়গা দখলে নিয়ে বিক্রি করে দেয়া যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 
রংপুরের ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে রোডমার্চের যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সিপিবি-বাসদের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় এ রোডমার্চ।
সমাবেশে সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, ভারতের পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা শুকিয়ে গেছে, তিস্তা নদীর উজানে দেয়া বাঁধের ফলে তিস্তাও শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে।
এতে আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম নদীর ওপর। তাই আজ নদীর ওপর নির্ভর করে আমাদের খাদ্য ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পালা।
সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ৫০টি বাঁধ দিয়ে ভারত ৮০ শতাংশ পানি আটকে দিয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ২০ শতাংশ পানি। তবে এই ২০ শতাংশ পানির অর্ধেকও যদি আনা যায়, তাহলেও সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এই ২০ শতাংশ পানিও দিতে চান না মমতা ব্যানার্জি। রোডমার্চটি গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুরে সমাবেশ শেষে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানেই রাতযাপন করার কথা। শুক্রবার সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জে সমাবেশের মাধ্যমে আবার যাত্রা শুরু করবে রোডমার্চ। এরপর বিকাল ৪টায় বগুড়ায় সমাবেশ করে রংপুরে রাতযাপন করবে। শনিবার সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সমাবেশ করবে। এরপর বিকাল ৪টায় তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ মাঠে সমাপনী সমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বেল দশে দশ, নেইমার দশে শূন্য!


কিন্তু শেষে এসে পাশার দান উল্টে গেল। এখন দেখা যাচ্ছে বেলই তাঁর ঔজ্জ্বল্যে ম্লান করে দিয়েছেন নেইমারকে। এই মৌসুমে রিয়ালকে প্রথম ট্রফিটাও এনে দিলেন এই বেলই। ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ তাই দশে দশ পাচ্ছেন। নেইমার দশে শূন্য!
পরিসংখ্যানের বিচারে নেইমারকে সবদিক দিয়েই পেছনে ফেলেছেন বেল। এবারের মৌসুমে লা লিগায় দুজনেই খেলেছেন ২৫টি ম্যাচ। এর মধ্যে বেল গোল করেছেন ১৪টি। নেইমার ৯টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলের গোলসংখ্যা ২০। নেইমারের ১৫।
গোল করার মতো গোল করানোর দিক দিয়েও এগিয়ে আছেন বেল। এবারের মৌসুমে তাঁর পাস থেকে সতীর্থরা করেছেন ১৫টি গোল। বেলের আগমনে নতুন মাত্রাই পেয়েছে রিয়ালের আক্রমণভাগ। বেল, বেনজেমা আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—বিবিসি-ত্রয়ী ভীতি ছড়িয়েছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। অন্যদিকে নেইমারের সহায়তায় গোল হয়েছে ১১টি।
প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছে গিয়ে জোরালো শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি পারদর্শিতা দেখিয়েছেন বেল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ১০৯টি শট নিয়েছেন বেল। নেইমার শট নিয়েছেন ১০৮টি।
পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য বেলকে পেছনে ফেলেছেন নেইমার। লা লিগায় বেল সতীর্থদের পাস দিয়েছেন ৫০০ বার। নির্ভুল পাসের পরিমাণ শতকরা ৭৫.৯ ভাগ। অন্যদিকে ৮৪.৩ ভাগ নির্ভুলতায় নেইমার পাস দিয়েছেন ৭৯৭ বার। অবশ্য বার্সার খেলার ধরনের কারণেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছেন নেইমার। 
গ্যারেথ বেলকে দলে ভেড়ানোর জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে যে রিয়াল কোনোই ভুল করেনি, সেটা কোপা ডেল রের ফাইনালেই সবচেয়ে ভালোভাবে প্রমাণ করেছেন ওয়েলসের এই ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গার। দলের প্রাণভোমরা রোনালদোর অনুপস্থিতিও টের পেতে দেননি। ৮৫ মিনিটে বুলেট গতিতে ছুটে গিয়ে যে গোলটা করেছেন, সেটা নিশ্চয়ই দীর্ঘদিনই মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। এই গোলের সুবাদেই মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
শিরোপা জয়ের দিক দিয়েও বেল এগিয়ে আছেন নেইমারের চেয়ে। ইতিমধ্যেই একটি শিরোপা জিতে নিয়েছেন বেল। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের লড়াইয়েও মাদ্রিদ টিকে আছে ভালোভাবেই। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রথম মৌসুমটা কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ হতে পারে নেইমারের। অবশ্য স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতিয়েছেন নেইমার, কিন্তু সেই ট্রফিটা নিতান্তই সান্ত্বনা পুরস্কারের বেশি মর্যাদা পায় না। 
ইতিমধ্যেই কোপা ডেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়েছে বার্সেলোনা। লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে গ্রানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারায় টলোমলো হয়ে পড়েছে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও। নেইমারের সময়টা আরও দুঃসময়ের ঘোরে বন্দী হয়ে গেছে চোটের কারণে। চোটের কারণে প্রায় এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হলো তাঁকে।

‘আল্লাহর কাছে ছেলেকে ভিক্ষা চেয়েছিলাম’

‘আল্লাহর কাছে আমি ছেলেকে ভিক্ষা চেয়েছিলাম। আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন। ছেলেকে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমার শান্তি।’
আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বসে এসব কথা বলেন আবু বকর সিদ্দিকের মা মঞ্জুরা জলিল।
কার্যালয়ের ভেতরে ছেলে আবু বকর ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বাইরে ছেলের অপেক্ষায় রোদের মধ্যেই বসে আছেন মা। বয়স তাঁর ৭০ পেরিয়েছে।
জীবনের এই প্রান্তে এসে ছেলের জন্য ৩৫ ঘণ্টা ধরে চরম উত্কণ্ঠায় দিন কাটাতে হয়েছে মাকে। ছেলে মুক্ত হওয়ার খবর শুনেই ছুটে গেছেন ধানমন্ডি থানায়। বুকে জড়িয়ে ছেলেকে আদর করে শান্ত হয়েছেন তিনি। প্রথমআলোকে আজ তিনি বলেছেন এ অভিজ্ঞতার কথা।
মা মঞ্জুরা জলিল বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আমি জানতে পারি ছেলে ফিরে এসেছে। দেরি না করে ছুটে যাই। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আদর করি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেন অপহরণ করা হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। সৃষ্টিকর্তাই জানবেন কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে সংসারের ব্যাপারে মেজো ছেলে আবু বকরের ওপর বেশি ভরসা করেন বলে জানান মঞ্জুরা জলিল। তিনি বলেন, ‘ও-ই আমার সংসারের ভরসা। পুরো সংসারটা ওই বেশি দেখভাল করে।’ চুপচাপ স্বভাবের ছেলে আবু বকরের শত্রু থাকতে পারে না উল্লেখ করে মা বলেন, ‘আমার জানামতে ছেলের কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। সে খুব কম কথা বলে। মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে চলে। যখন শুনেছি যে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে, তখন আমি একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা রেখেছি। বিশ্বাস ছিল ছেলে ফিরে আসবে।  ছেলে ফিরে আসাতেই আমি খুশি।’ 

নারায়ণগঞ্জ আদালতে রিজওয়ানার স্বামী

পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিককে নারায়ণগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবু বকরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও রয়েছেন।
আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আবু বকর সিদ্দিককে মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হবে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবু বকর সিদ্দিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ।
আবু বকরের ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক শাখার কর্মকর্তারা।
বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে পুলিশের  পিকআপ ভ্যানে আবু বকর ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখান থেকে আবু বকরকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আবু বকরের ফিরে আসাগতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকায় তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এ সময় তাঁর চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। দীর্ঘ সময় গামছা বেঁধে রাখার কারণে তাঁর নাকের ওপরে কালসিটে দাগ পড়ে যায়। তাঁর পোশাক কিছুটা ছেঁড়া ছিল। গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ধানমন্ডি থানায় আবু বকর সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। তাঁর চোখ সার্বক্ষণিক বাঁধা ছিল। ধরে নেওয়ার সময় কিছু কিল-ঘুষি ছাড়া তাঁকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এ কথা বলার সময় থানায় তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আবু বকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গতকাল রাতে তাঁকে মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার সময় পকেটে ৩০০ টাকা দিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। তিনি সেন্ট্রাল রোডের বাসায় যাওয়ার জন্য প্রথমে একটি রিকশায় উঠে কাজীপাড়া পর্যন্ত আসেন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পান। অটোরিকশার চালক হাফিজুর রহমান তাঁকে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় নিয়ে যেতে রাজি হন।
হাফিজুর প্রথম আলোকে বলেন, লোকটি এসে তাঁকে বলেন, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে রওনা দেন। পথে কলাবাগান এলাকায় পুলিশ তাঁদের আটকায়।
কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক বাবুল রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকি অটোরিকশাটিকে আটক করে। এ সময় ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অশোক কুমার চৌহান পুরো বিষয়টি জেনে আবু বকরকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন। অশোক চৌহান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলে, লোকটি জানান তাঁর নাম আবু বকর সিদ্দিক। তিনি রিজওয়ানা হাসানের স্বামী, নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহূত হয়েছিলেন। এ সময় কিছুটা কাঁপছিলেন ও কাঁদছিলেন আবু বকর। এরপর অশোক চৌহান তাঁর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ফোন করেন। ওই কর্মকর্তা এক মিনিটের মধ্যে রিজওয়ানার নম্বর দেন অশোককে। ওই নম্বরে ফোন করে অশোক ফোনটি ধরিয়ে দেন আবু বকরকে। কথা বলতে বলতেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন আবু বকর। এরপর তাঁকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বজন-বন্ধু, গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড় জমে যায় থানায়। তখন রাত সোয়া একটা।
‘এক সেকেন্ডের জন্যও চোখ খুলে দেওয়া হয়নি’
রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এক সেকেন্ডের জন্য চোখ খুলে দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কিন্তু কেন তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, তা সম্পূর্ণ রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। তারা ‘মোটিভ ক্লিয়ার’ করেনি। অপহরণকারীরা নিজেরা নিজেরা টাকার কথা বলছিল। তবে কেউ টাকা চায়নি। এমনকি তাঁর কাছে পরিবারের নম্বরও চায়নি। রিজওয়ানা আরও বলেন, ‘টাকার জন্য এই অপহরণ করা হয়েছে বলে আমি প্রাথমিকভাবে মনে করছি না। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ কিসের চাপ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের চাপ তো ছিলই। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্দেশনা দিয়ে পুরো বিষয়টি তদারকি করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতাও ছিল অনেক বেশি।
কারা এটা করেছে? জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, ‘আধা ঘণ্টার মধ্যে এত কিছু জানতে পারা যায় না। তবে অপহরণকারীরা যে অপেশাদার নয়, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।’ রাত সোয়া তিনটার দিকে থানা থেকে বাসায় যান আবু বকর।
ঘটনা শুনে থানায় যান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
যেভাবে অপহরণ
আবু বকর সিদ্দিক গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় থেকে অপহূত হন। এরপর রিজওয়ানা হাসান ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘পেশাগত কারণে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে আসছি, যা অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব মহল বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচারমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস দিয়ে আবু বকরকে বহনকারী গাড়িটির পেছনে ধাক্কা দেয়। চালক মো. রিপন গাড়ির কোনো ক্ষতি হলো কি না, দেখতে নামলে তাঁর ঘাড়ে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে প্রায় অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রিপনের চোখে পেপার স্প্রে (মরিচের মতো ঝাঁজালো এক ধরনের রাসায়নিক) ছোড়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অপহরণকারীরা আবু বকরের মুঠোফোন দুটিও নেয়নি। আর পুরো ঘটনাটি তারা ঘটায় এক মিনিটের মধ্যে। দক্ষ ও পেশাদারদের পক্ষেই এ রকম সম্ভব বলে পুলিশ বলছে।
ধরন একই
 ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীকে রাজধানীর বনানী থেকে ধরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন ও পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ইলিয়াসের গাড়িটিকে প্রথমে পেছন থেকে ভারী কোনো জিপ দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়। এরপর চালক গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে নামলে তাঁদের দুজনকেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার শব্দ ও হইচই শুনেছেন।
আবু বকরকে অপহরণের প্রত্যক্ষদর্শী মোটর মেকানিক আবুল কালাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একটি গাড়ি মেরামতের পর তা পরীক্ষামূলক চালানোর জন্য বের হন। এ সময় তিনি লাল রঙের কার থেকে একজনকে মাইক্রোবাসে ধরে নিয়ে যেতে দেখেন। ওই রাস্তাটিতে যানবাহনের চাপ বেশি। অল্প সময়ের মধ্যেই আরও কয়েকটি গাড়ি সেখানে দাঁড়ায়। পরে তিনি ওই গাড়ির পিছু নিয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত যান। গিয়ে দেখেন, গাড়িটি বাঁ দিকে ঘুরে ঢাকার দিকে গেছে। গাড়ির নম্বর প্লেটে শুধু চট্ট মেট্রো লেখাটি তিনি দেখতে পেয়েছেন।
মাইক্রোবাসের নম্বর ভুয়া
জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার রাত একটার দিকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাইক্রোবাসের ছবিটি পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, বুধবার দুপুর দুইটা ৫৩ মিনিটে মাইক্রোবাসটি ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় টোল দেয়। গাড়িটির নম্বর প্লেট কিছুটা ঝাপসা ছিল। তবে বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি ভুয়া নম্বর।

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ সংবাদ মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

Sunday, April 13, 2014

ঢাকার আশুলিয়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার দুপুরে তাঁরা এসব কর্মসূচি পালন করেন।
আশুলিয়ার উনাইল দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী আকলিমা গত মঙ্গলবার দুপুরে অপহূত হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। দুর্বৃত্তরা আকলিমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
আশুলিয়া থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে উনাইল দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজন বলিভদ্র বাজার থেকে মিছিল বের করেন। পরে আশুলিয়া থানার সামনে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, আকলিমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল সকালে খলিল, আবদুল জলিল, শাহীন আলম ও জুয়েল রানা নামের চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে

সাংসদের ভাইয়ের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজল দেবনাথকে কক্সবাজার সদরের সাংসদ সাইমুন সারোয়ারের ভাই তানভীর সারোয়ার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই শিক্ষক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (১০ এপ্রিল) নগরের বাদশাহ মিঞা সড়ক এলাকার চারুকলা ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন ছাত্রাবাসের মাঠ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন কাজল দেবনাথ। এ সময় তাঁর পথ রোধ করেন তানভীর সারোয়ার ও তাঁর সঙ্গী রফিক। পরে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করে তানভীর। তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন নেই বলে জানান কাজল দেবনাথ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তানভীর ‘টাকা পাব কি, পাব না দেখাচ্ছি’ বলে ওই শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে ছাত্রাবাসের বাইরে নির্জন স্থানে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই সাইমুন সারোয়ারের প্রভাব খাটিয়ে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছেন তানভীর। সে লক্ষ্যে তিনি বহিরাগত হয়েও ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। তানভীর আর্ট কলেজ থেকে পাস করেছেন। এই আর্ট কলেজই পরে চারুকলা ইনস্টিটিউট হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।
এদিকে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আজ রোববার চারুকলা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ক্ষমতাসীন সরকারের ওই সাংসদের ছোট ভাইয়ের দ্রুত শাস্তি এবং শিক্ষকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান। কর্মসূচি পালনের সময়ও ক্যাম্পাসে এসে তানভীর শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন ও মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের ছবি তোলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লাঞ্ছনার শিকার কাজল দেব নাথ আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘টাকা পাওয়ার কথা বলে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে তানভীর। সে বহিরাগত হয়েও নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসছে এবং আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।’
শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তানভীর সারোয়ার প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘কাজল আমার ছাত্র। সে আমাকে গুরু হিসেবেই জানে। এখন তার কাছ থেকে পাওনা টাকা চাওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলছে। সে মানসিকভাবে অসুস্থ।’
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি পালনের সময় ছবি তুলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর বলেন, ‘আমার সামনেই কিছু শিক্ষার্থী কর্মসূচি পালন করেছে, তবে আমি ছবি তুলিনি। পরে একজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।’
তবে তানভীরের সঙ্গে কোনো ধরনের টাকা-পয়সার লেনদেন নেই বলে দাবি করে কাজল দেব নাথ বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছি, আর সে পাস করেছে আর্ট কলেজ থেকে। সে কেমনে আমার গুরু হয়?’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। জড়িতের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব আমরা।’

‘আর ডাকাতি করব না’

Saturday, April 12, 2014

কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গিয়েছিলাম সরেজমিন প্রতিবেদন করার জন্য। বিষয়টা আগেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু থানা সদরে পৌঁছানোর পরপরই শুনলাম, আগের রাতে ভয়াবহ ডাকাতি হয়েছে এখানকার একটি বাড়িতে। নির্ধারিত বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখে ছুটে যাই সেই বাড়িটিতে। গিয়ে দেখি ডাকাতেরা বাড়ির লোকজনকে মেরে গুরুতর জখম করার পর সোনা, নগদ টাকাসহ মূল্যবান সবকিছুই নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়েছে। খোঁজখবর করার সময়ই শুনতে পাই, একই রাতে আরও কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। অবাক হয়েছিলাম গ্রামের লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে। যেন এটাকেই নিয়তি বলে মেনে নিয়েছেন তাঁরা। থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরাও অসহায়ত্ব পকাশ করলেন। জেনেছিলাম, শুধু আনোয়ারা না, পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী বা চকরিয়ায়ও ডাকাতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ওই ঘটনার পরদিন প্রথম আলোয় আনোয়ারার ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে অবস্থার যে খুব পরিবর্তন হয়েছিল, তা-ও বলা যায় না।
সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে কয়েক বছর আগের সেই ঘটনা মনে পড়ল আবার। পাশাপাশি কিছুটা বিস্ময়ও জেগেছে মনে। বিস্ময়ের কারণটা জানানোর জন্য প্রতিবেদনটির মূল বিষয়টি এখানে তুলে ধরছি।
গত ১৭ মার্চ চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা সাইক্লোন শেল্টারে ৪০-৪৫ জন ডাকাত ও তাঁদের অভিভাবকেরা এসে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে ঘোষণা দেন যে তাঁরা আর কোনো দিন ডাকাতি করবেন না। এমনকি এলাকায় কোনো ধরনের ডাকাতির ঘটনা হলে তাঁরাই খুঁজে এনে ডাকাতদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করবেন।
আবেগঘন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সভায়। ডাকাতদের কেউ কেউ অকপটে বলেছেন, অনেক অন্যায় করেছেন তাঁরা, একবার সুযোগ পেলে প্রায়শ্চিত্ত করবেন এবং বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন।
চকরিয়া এলাকায় চিংড়িঘেরে ডাকাতির বিষয়টি ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তা ছাড়া বাড়িঘর বা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে গাড়ি আটকে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। ডাকাতদের এ রকম ‘আত্মসমর্পণ’ বা আত্মসংশোধনের ঘোষণায় নিশ্চয় কিছুটা স্বস্তি পাবেন ভুক্তভোগীরা। কথা হচ্ছে, এই ডাকাতদের প্রতিশ্রুতির ওপর কতটা নির্ভর করা যায়, কেনই বা তাঁরা হঠাৎ দীর্ঘদিনের ‘পেশা’ পরিবর্তন করতে চান?
এর তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়া যায়নি। কৌতূহলবশত ডাকাতিপ্রবণ এলাকা আনোয়ারা ও বাঁশখালীতেও খোঁজ নিয়েছি। সেখানকার সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, ডাকাতির ঘটনা সেখানেও আজকাল প্রায় নেই বললেই চলে। এর কারণ নির্দিষ্ট করে কেউ জানাতে না পারলেও মোটা দাগে তাঁদের ধারণা, মানুষের আয়-উপার্জন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপক প্রচলন হয়েছে চট্টগ্রামের শহরে ও গ্রামে। এই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করা যায়, তাতে মোটামুটি সংসার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক পেশায় জড়িত হতে চান না কেউ। এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে জরিপ বা গবেষণা হতে পারে। তবে গ্রামাঞ্চলে মোটের ওপর ডাকাতির প্রকোপ যে কমেছে সন্দেহ নেই।
দুর্ভাগ্য, আমাদের কোনো সুসংবাদই যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গ্রামাঞ্চলে ডাকাতি কমেছে এই সংবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেই পত্রিকান্তরে ছাপা হয়েছে নৌপথে ডাকাতির সংবাদ। গত ১৬ মার্চ রাতে সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে একদল জলদস্যু একটি মাছ ধরার ট্রলারে হামলা চালিয়ে লুট করে নিয়ে গেছে মাছ, জালসহ মূল্যবান সরঞ্জামাদি। পাশাপাশি ট্রলারসহ জেলেদেরও অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে তারা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাগর ও নদীপথে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে ডাকাতির ঘটনা।
এসব নিয়ন্ত্রণ করছে জলদস্যুদের অন্তত ১১টি দল। ডাকাতির পর এসব লুণ্ঠিত সামগ্রী নদীপথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে এসে বিক্রি করা হয়। এসব কেনাবেচায় জড়িত আরও চারটি সিন্ডিকেট। প্রতিটি সিন্ডিকেটে ৮-১০ জন সদস্য। এরাই অগ্রিম টাকা দিয়ে জলদস্যুদের ডাকাতি ও লুণ্ঠনের জন্য প্ররোচিত করে থাকে। ডাকাতির মাল বিক্রি হয় সদরঘাটের বিআইডব্লিউটিসি ঘাট, চাক্তাইখাল, চরপাথরঘাটা, বার আউলিয়া ঘাট, পারকির চর প্রভৃতি এলাকায়। কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকের নামই নৌঘাট এলাকায় লোকমুখে শোনা যায়। এমনকি পত্রপত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে অনেকের নাম। কিন্তু কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না তার কারণ ‘অজ্ঞাত’। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার চৌধুরী সম্প্রতি পত্রিকান্তরে বলেছেন, ‘সাগর ও নদীপথে চোরাইকৃত মালামাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হওয়ার কথা কিছুটা শুনেছি। এটা নিয়ে আমরা কাজও করছি। তবে বেশি দূর যেতে পারিনি।’
বেশি দূর যেতে বলি না। নদী-সাগরে জলদস্যুতা হলে তার দায় অনেকটাই কোস্টগার্ডের ওপর বর্তায়। কিন্তু ডাঙ্গায় এসে যখন সেই লুণ্ঠিত মালামাল কেনাবেচা হয়, সেখানে মাল জব্দ বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের আটক করতে বাধা কোথায়? লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির পথ রুদ্ধ হলে, এ কাজে অগ্রিম টাকা বিনিয়োগ করা লোকগুলোকে আইনের আওতায় আনা গেলে জলদস্যুতা কমে আসবে।
বাবুল আক্তার চৌধুরী আরও বলেছেন, ‘যে এলাকায় চুরি-ডাকাতি হয়, মামলাও সাধারণত সেখানে করা হয়। ফলে সেখানকার পুলিশ বিষয়টি দেখে থাকে। এ কারণে আমাদের পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’ এসব শিশুতোষ যুক্তি গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্রের জবানিতে মানানসই নয়। যে এলাকায় মামলা, সে এলাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ধরা যাবে না, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, এমন যুক্তি দাঁড় করালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়হীনতার ব্যাপারটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জেলে সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে, জলদস্যুতা আর সম্পদহানির আশঙ্কায় জেলেদের জন্য সাগরে মাছ শিকার দিন দিন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্রুতগতির ফিশিং ট্রলার নিয়ে জলদস্যুরা সারা বছরই অতর্কিত জেলেদের ওপর হামলা করে জাল, মাছ, ইঞ্জিন ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়। শারীরিক নির্যাতন চালায়, এমনকি খুন করে সমুদ্রে ফেলে দেয়।
জলদস্যুতা রোধে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ৪২ ধারায় মৎস্যশিকারি নৌযান, মাছ ধরার খুঁটি, যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামাদির ক্ষতি বা ধ্বংস করার অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
এসব বিধান যে যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না বা জলদস্যুরা এর তোয়াক্কা করছে না তার প্রমাণ পত্রপত্রিকা খুললে তো পাওয়া যাচ্ছেই, পাঠকের অগোচরে থাকছে তার চেয়েও বেশি সংবাদ। শুরু করেছিলাম সুসংবাদ দিয়ে। চকরিয়ার ডাকাতেরা আর ডাকাতি করবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মসংশোধনের সুযোগ চেয়েছেন। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাঁদের আয়-উপার্জন বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা অনুষঙ্গের পাশে যে কথাটি বলা হয়নি, তা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। জলদস্যুতা প্রতিরোধেও সে রকম সক্রিয় ভূমিকা দেখতে চাই তাদের। যাতে এই ডাকাতদের মতো জলদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে প্রকাশ্যে এসে কবুল করতে বাধ্য হন, ‘আর ডাকাতি করব না।’
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: লেখক ও সাংবাদিক।

কখনো একইভাবে দুবার হারবে না: চাক নরিস

তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আজকের সুন্দর সকালে আমাকে তোমাদের সামনে কিছু বলতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। 
আমি স্বীকার করি, এই কাজটা আমি একদমই করতে পারি না। এটাই আমার প্রথম সমাবর্তন বক্তৃতা।
জীবনে সৃষ্টিকর্তা সব সময়ই আমাকে সাহায্য করে গেছেন, পথ দেখিয়েছেন। আমার জন্ম ওকলোহামাতে। বলতে বাধা নেই, আমার পরিবারে অনেক অভাব ছিল; কিন্তু আমার মা ছিলেন অসাধারণ একজন নারী। আর আমার বাবা ছিলেন একজন মদ্যপ, তিনি বলতে গেলে আমার জীবনে কোনো ভূমিকাই রাখেননি। 
ছোটবেলায় আমি অনেক লাজুক ও আত্মমুখী ছিলাম; খেলাধুলাও তেমন করতাম না। আমি কখনো স্কুলে আমার ক্লাসে সবার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে পারিনি। যখনই শিক্ষক আমাকে কিছু বলার জন্য ডাকতেন, আমি আমার নিজের সিটে বসে মাথা ঝাঁকাতাম। কারণ, আমি ভয় পেতাম, আমি কথা বললে সবাই হাসবে। যদিও আমার বসে থাকা দেখে অনেকে হাসত এবং এতে লজ্জায় আমার চেহারা লাল হয়ে যেত।
হাই স্কুল পাস করে আমি বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়ে কোরিয়া চলে গেলাম এবং সেখানেই মার্শাল আর্ট বিষয়টার সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। ১৯৬১ সালে যখন আমি সেখান থেকে ফিরে আসি, আমার সঙ্গে ছিল তায়েকোয়ান্ডোর ব্ল্যাক বেল্ট ও জুডোর ব্রাউন বেল্ট। তখন আমেরিকার খুব বেশি লোক মার্শাল আর্ট সম্পর্কে জানত না। আমি একটি মার্শাল আর্ট ক্লাব খুললাম এবং সবাইকে আমন্ত্রণ জানালাম। আমি ভাবলাম, আমাকে নিশ্চয় আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সামনে কিছু বলতে হবে। আমি আধা পৃষ্ঠার একটি বক্তৃতা তৈরি করলাম এবং সাত দিন সেটা মুখস্থ করলাম। সেটা আমি এত ভালো মুখস্থ করেছিলাম যে উলটো দিক থেকেও তা বলতে পারতাম।
আমি ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির মাঝখানে হেঁটে গেলাম, আর বললাম, ‘শুভসন্ধ্যা। আমার নাম চাক নরিস এবং আমি আপনাদের এখানে অভিবাদন জানাচ্ছি’—এটাই ছিল শেষ বাক্য, যেটা আমার মনে আছে। এরপরের যে স্মৃতি আমার মনে আছে, সেটা হলো অতিথিদের মাঝখান থেকে চলে আসার এবং কিছু কায়দা দেখানোর স্মৃতি। আমি এখনো জানি না, সেদিন আমি অতিথিদের সামনে কী বলেছিলাম। আমি যে কাজটা করেছিলাম, সেটা ছিল ২১ বছর ধরে যে অবিশ্বাস নিজের মধ্যে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিলাম, সেটাকে ভেঙে ফেলা।
আমি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথম মার্শাল আর্ট স্কুল খুললাম। মার্শাল আর্টের মূল যে শিক্ষাটি আমি পেয়েছি সেটা হলো, একজন তখনই হারে, যখন সে পরাজয়ের অভিজ্ঞতাটি থেকে কোনো শিক্ষা পায় না। তাই আমি আমার ছাত্রদের শেখাই, তোমরা হারতে পারো, কিন্তু কখনো একইভাবে দুবার হারবে না।
আমার স্কুল ভালোই চলছিল, এ সময় একটি কোম্পানি এসে আমার স্কুলের স্বত্ব কিনে নিতে চাইল। তখন আমার তিনটি স্কুল ছিল। কোম্পানিটি আমাকে জানায়, তারা সারা দেশে ‘চাক নরিস মার্শাল আর্ট স্কুল’ খুলতে চায়। আমি ভাবলাম, ভালোই তো। আমি আমার স্কুলকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেব। এর দুই বছর পরে সেই কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে যায় এবং আমি আমার সব কটি স্কুল হারাই।
আমি কিন্তু থেমে যাইনি। নতুন করে কিকস্টার্ট নামে একটি ফাউন্ডেশন চালু করলাম। ১৫ বছর ধরে আমি হাজারো তরুণের মধ্যে মার্শাল আর্টের দর্শনকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছি। আমেরিকার লাখো মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের বাণিজ্যিক মার্শাল আর্ট স্কুলে পাঠাতে পারেন না। আমি ভেবেছি, কীভাবে তাঁদের সাহায্য করতে পারি। আমি ঠিক করলাম, প্রতি শহরের মিডল স্কুলগুলোতে বিনা মূল্যে আমি মার্শাল আর্ট শেখাব, যার ব্যয়ভার নেবে আমার ফাউন্ডেশন। 
এটা ছিল ১০ বছর আগের কথা। এর মধ্যে আমাদের স্কুল থেকে এক লাখ ৫০ হাজার তরুণ মার্শাল আর্ট শিক্ষা নিয়েছে। কিন্তু একজন ছেলের কথা আমি বিশেষ করে বলতে চাই, যে ছিল আমাদের জন্য সাফল্যের একটি বড় প্রেরণা। আমরা স্কুলে মূলত ষষ্ঠ,সপ্তম, অষ্টম মানের শিশুদের শিক্ষা দিই। কারণ, এ সময়েই শিশুরা সবচেয়ে দ্রুত শেখে। আমাদের লক্ষ্য থাকে, যাতে তারা এ সময়ে সঠিক পথ থেকে সরে না যায় এবং জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখে। কিন্তু আমাদের সেই ছেলেটি এই সময়ে একটি সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ছেলেটি ষষ্ঠ মানে পায় ‘ডি’ গ্রেড এবং তখন বাইরের দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। কিন্তু মার্শাল আর্ট শুরু করার পরে তার চরিত্র পাল্টে যেতে থাকে এবং বাস্তবিকই সে ভালোর পথে আসে। সে তার অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে এবং তার পড়ালেখাতেও উন্নতি করতে থাকে। সপ্তম মানে তার গ্রেড আসে ‘সি’ এবং অষ্টম মানে এসে সে পায় ‘বি’ গ্রেড। মার্শাল আর্ট তার মনজগৎকে বদলে দেয় এবং ছেলেটি নবম থেকে ১২শ মান পর্যন্ত টানা ‘এ’ গ্রেড পেয়ে এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। 
মার্শাল আর্ট আমার জীবনকে পরিবর্তন করেছে। আমি মনে করি, এটা আরও অনেক তরুণের জীবন গড়ে দিতে সক্ষম। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সব সময় সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তোমরা তাঁর ওপর বিশ্বাস আনো আর পরিশ্রম করে যাও, জীবনের সবকিছু ভালোভাবেই এগোবে। 
তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। 
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে ভাষান্তর: মনীষ দাশ