Sporty Magazine official website |

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের আগে জেনে নিন

Friday, April 18, 2014

Share this history on :
বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকের স্থান সেন্ট মার্টিন। এই সেন্ট মার্টিনে ঘুরতে এসে এ সপ্তাহে মারা গেলেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এখনো নিখোঁজ দুইজন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। তবে তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই, এমন ধারণাই অধিকাংশের। আর সময় যত যাচ্ছে তাদের লাশ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত কমছে।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে এসে আহসানউল্লাহর শিক্ষার্থীদের মত আপনার আনন্দও মাটি হতে পারে যদি সতর্ক না হন।

সমুদ্রে ভাটার সময় পায়ের গোড়ালির বেশি নামবেন না
আপনি সাঁতার জানেন তো? সাঁতার না জানলে সমুদ্রে আপনার নিরাপদ এলাকা হচ্ছে, ভাটার সময় পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আর জোয়ারের সময় হাঁটু পর্যন্ত পানিতে নামা। তাও যদি আশেপাশে সাঁতার জানা লোক থাকে।

জেনে নিন জোয়ার-ভাটার সময়
সমুদ্রে নামার আগে জেনে নিন জোয়ার চলছে, না ভাটা চলছে। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা ভয়ঙ্কর বিপদজনক। খুব বেশি নিরুপায় হলে ভাটার সময় বড়জোর পায়ের গোড়ালি ভেজাতে পারেন, এর বেশি নয়।

আগে জানুন তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কি না
জোয়ারের সময় যদি সাতার কাঁটতে বা গোসল করতে পানিতে নামতে চান, তাহলে প্রথমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হন কোন জায়গাটা সাঁতার বা গোসলের জন্য নিরাপদ। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজারের বিশাল সৈকতে সাঁতারের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকনাফ বা সেন্টমার্টিনের সৈকতে সাঁতার বা গোসল করতে নেমে বিপদে পড়ে। এ বিষয়টি ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে, কক্সবাজারের মত এতো ধীর ঢালের এবং দীর্ঘ সৈকত পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে। তাই হাঁটু পানি থেকে কোমর পানিতে যাবার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করুন। ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন ওখানে কোনো বিপরীত তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কি না।

গভীর সমুদ্রে সাঁতার জানার পরও অনেকে ডুবে যান
আপনি নিশ্চয়ই সাঁতার জানেন। কিন্তু এটা খেয়াল আছে কি, কতদিন আগে আপনি শেষবারের মত সাঁতার কেটেছেন? এ কথা সত্যি যে সাঁতার শিখলে তা ভোলা সম্ভব না। কিন্তু সাঁতার হচ্ছে একটি কঠিন ব্যায়াম যাতে শরিরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সাঁতার কাটতে গেলে অনেক সময় পায়ের পেশী সংকোচন সমস্যা দেখা দেয়। পেশী সংকোচন হলে যে যন্ত্রণা হয় তাতে সাঁতার অব্যাহত রাখা মুশকিল হয়ে পরে। এ কারণে সমুদ্রের গভীর এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে সাঁতার জানা থাকার পরও ডুবে যান।

সেন্ট মার্টিনে হাঁটু-পানির বেশি দূরত্বে যাওয়া নিরাপদ নয়
সেন্ট মার্টিনে গিয়ে কখনো জেটি থেকে নেমেই ডান দিকের (দ্বীপের পূর্ব দিক) সৈকত ধরে আগাবেন না (ম্যাপে নীল চিহ্নিত দাগ)। তা না করে বরং মূল রাস্তা ধরে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে চলে যান। সেখানে গিয়ে সমূদ্রে নামুন। তারপরও জোয়ার-ভাটার বিষয়ের সাথে সাথে খেয়াল রাখুন সেন্টমার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এর সৈকত খুবই সংকীর্ণ এবং এখানে হাঁটু-পানির চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়া মোটেই নিরাপদ নয়, তা আপনি যত বড় সাঁতারুই হোন না কেন।

উত্তর-পূর্ব সৈকতে রয়েছে অনেকগুলো ডুবো গর্ত
সেন্ট মার্টিনের জেটি থেকে নামার পর যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোনো ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং হাঁটতে হাঁটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন। দ্বীপের এই সৈকতে পরস্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত তৈরি হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment