
একইভাবে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে বাংলাদেশ এখন অরক্ষিত। সরকারের সুবিধাভোগী কিছু লোক চাইছে নদী শুকিয়ে চর জেগে উঠুক, যাতে ওই চরের জায়গা দখলে নিয়ে বিক্রি করে দেয়া যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুরের ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে রোডমার্চের যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সিপিবি-বাসদের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় এ রোডমার্চ।
সমাবেশে সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, ভারতের পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা শুকিয়ে গেছে, তিস্তা নদীর উজানে দেয়া বাঁধের ফলে তিস্তাও শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে।
এতে আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম নদীর ওপর। তাই আজ নদীর ওপর নির্ভর করে আমাদের খাদ্য ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পালা।
সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ৫০টি বাঁধ দিয়ে ভারত ৮০ শতাংশ পানি আটকে দিয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে ২০ শতাংশ পানি। তবে এই ২০ শতাংশ পানির অর্ধেকও যদি আনা যায়, তাহলেও সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এই ২০ শতাংশ পানিও দিতে চান না মমতা ব্যানার্জি। রোডমার্চটি গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুরে সমাবেশ শেষে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানেই রাতযাপন করার কথা। শুক্রবার সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জে সমাবেশের মাধ্যমে আবার যাত্রা শুরু করবে রোডমার্চ। এরপর বিকাল ৪টায় বগুড়ায় সমাবেশ করে রংপুরে রাতযাপন করবে। শনিবার সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সমাবেশ করবে। এরপর বিকাল ৪টায় তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ মাঠে সমাপনী সমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
0 comments:
Post a Comment