Sporty Magazine official website |

সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতি দূর করতে ১৬ সুপারিশ

Wednesday, March 5, 2014

Share this history on :
সোনালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখায় রূপসী গ্রুপ ২৬৮ কোটি টাকার ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা ও আমদানি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে ওই লেনদেনকে ফোর্স লোনে পরিণত করে। এতে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরা পড়ে।একই শাখায় মোট ও অগ্রিম ঋণের ১৪০৪ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৭৪৭ কোটি টাকা হচ্ছে বিরূপ শ্রেণীকৃত। প্রায় শতভাগ ঋণ ও অগ্রিমের গুণগত মান অসন্তোষজনক। শুধু নারায়ণগঞ্জ শাখা নয়, অধিকাংশ শাখায় এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে। হলমার্কের ঘটনার পরও অনিয়মের মাত্রা হ্রাস পায়নি। এদিকে সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি সুপারিশ করেছে। সুপারিশের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংকের ১১৮৮ শাখার তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়, ব্যাংকটির শাখাওয়ারি ঋণ ও অগ্রিম থেকে প্রাপ্ত সুদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমানতের ওপর প্রদত্ত সুদ, মোট ঋণ ও অগ্রিম এবং আমানতের তথ্যে গরমিল রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির শাখাওয়ারি মোট পুনঃতফসিলকৃত, মওকুফকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি.এ প্রসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। কোনো আর্থিক সূচকেই ভালো বলা যাবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে ১৬টি সুপারিশ করেছে।অডিট রিপোর্ট সংশোধন : প্রথম সুপারিশে বলা হয়, ত্র“টিপূর্ণ অডিট রিপোর্ট ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক চিত্রের প্রতিফলন না ঘটায় এটি সংশোধন করতে হবে।পলিসি প্রণয়ন : ব্যাংকটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিধি বিবেচনায় এনে দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়, ব্যাংকের কার্যকর কোনো ক্রেডিট পলিসি, লিকিউডিটি ম্যানেজমেন্ট পলিসি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিপালন পলিসি, স্ট্র্যাটেজিং প্লানিংসহ অন্যান্য পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।জবাবদিহিতা : সুপারিশে বলা হয়, লাইন ম্যানেজমেন্টের কার্যক্রম তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও অডিট কমিটিকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।শাস্তির ব্যবস্থা : গুরুতর আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদমর্যাদা নির্বিশেষে দ্রুত যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ মতে অডিট, মনিটরিং ও কমপ্লায়েন্স ইউনিট থাকা বাধ্যতামূলক। এই তিনটি ইউনিট অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। বর্তমানে সমন্বয়হীনতার অভাবে সুষ্ঠুভাবে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না। এজন্য স্বতন্ত্র অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিপালন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে স্বাধীন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়।কর্পোরেট গভর্নেন্স নিশ্চিতকরণ : পলিসির বিচ্যুতিসহ অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে সংঘটিত অনিয়মগুলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল উদঘাটন ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করেনি। এছাড়া ব্যাংকের কর্পোরেট গভর্নেন্স সন্তোষজনক নয়। এক্ষেত্রে কর্পোরেট গভর্নেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিরূপ শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সক্রিয় ভূমিকা, ঋণ দেয়ার আগে গ্রহীতার সম্ভাব্যতা যাচাই, ডকুমেন্টেশন ও ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ ও অগ্রিমের ক্ষেত্রে মোট কমিটমেন্ট ও তাদের মেয়াদপূর্তির তারিখ শাখাওয়ারি তথ্য সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তারল্যের পরিমাণ একচুয়াল ভিত্তিতে নিরূপণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে ব্যাংকের এমআইএস জোরদার, এমওইউ শর্ত বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment