
বুড়িগঙ্গা
নদীর পানি দূষণমুক্ত করার প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়ে গেছে।
পানি আনতে দায়সারাভাবে গত বছর খনন করা ২৫ কিলোমিটারের বেশির ভাগ স্থান
ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। ওখানে কৃষকরা রীতিমতো ধান চাষ শুরু করছেন।
প্রকল্পের নানা অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে এসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের
টাস্কফোর্সের রিপোর্টে। অথচ রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াই
চলতি বছর আরও ২৫ কিলোমিটার নদী খননের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, ত্র“টিপূর্ণ এ প্রকল্পের ভয়াবহ সব অনিয়ম ও দুর্নীতির আলামত ইতিমধ্যে
বেরিয়ে এসেছে।জানা গেছে, টাঙ্গাইলসহ আশপাশ এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
নিউ ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশী ও ঢাকার তুরাগ নদীর ১৬২ কিলোমিটার খনন করার
পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পটিতে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প
বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত অর্থবছরে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে
২৫ কিলোমিটার নদীপথ খনন করা হয়েছিল। এক বছরেই খননকৃত স্থানে পলি পড়ে।
সরকারের বরাদ্দ দেয়া পুরো টাকাটাই গেছে পানিতে।অথচ চলতি বছরের গত দুই
মাসে আরও নতুন কয়েকটি স্থানে খনন করে ইতিমধ্যে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা
ঠিকাদারদের পরিশোধ করা হয়ে গেছে। আগামী জুন মাসের আগে আরও ৩০ কোটি টাকা
বিল পরিশোধের সংস্থান রাখা হয়েছে। অপরিকল্পিত খনন : পাউবোর টাস্কফোর্স এই
প্রকল্পটি নিয়ে দুটি রিপোর্ট দেয়। রিপোর্টে বলা হয়, গত অর্থবছরে ৭টি
প্যাকেজে ৬ জন ঠিকাদারের কেউই নকশা অনুযায়ী খনন করেনি। শতভাগ খনন তো দূরের
কথা, কেউ কেউ অর্ধেক কাজও করেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএ অ্যান্ড ইই
জয়েন্টভেঞ্চার লিঃ খনন করেছে ৪৩.৬০ ভাগ। একই প্রতিষ্ঠান আরেকটি প্যাকেজে
খনন করেছে ৫৬.৭০ ভাগ। পিটিএসএল এসটিসি জয়েন্টভেঞ্চার খনন করেছে ৭৪ ভাগ।
এইচবি অ্যান্ড টিআই ৭৬ ভাগ, আবুল হোসেন জয়েন্টভেঞ্চার ৬৭ ভাগ, এসএ-এসআই ৬৮
ভাগ এবং মেসার্স তাজুল ইসলাম খনন করে ৭৫ ভাগ। এই ঠিকাদারদের কেউই কার্যাদেশ
ও নকশা অনুযায়ী নদী খনন করেননি। এর ফলে পুরো কাজটিই বিফলে গেছে।গত
বছরের ২১ নভেম্বর ও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পাউবোর প্রধান পর্যবেক্ষককে দুটি
রিপোর্ট দেন টাস্কফোর্স আহ্বায়ক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী তোফায়েল হোসেন।
তার প্রথম রিপোর্টে বলা হয়, পুংলী নদীতে এই গুরুত্বপূর্ণ ড্রেজিং কাজটি
‘বাংলা ড্রেজার’ নামে যন্ত্র দিয়ে খনন করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ স্থানে নকশা
অনুযায়ী খনন হয়নি। এ ধরনের খনন কাজে সরকারের উদ্দেশ্য কতটুকু সফল হবে তার
তদন্ত প্রয়োজন। টাস্কফোর্সের প্রথম রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ১
জানুয়ারি দ্বিতীয় রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে খননকৃত স্থান পর্যবেক্ষণ করে নকশার
মাধ্যমে বাস্তব অবস্থা উপস্থাপন করা হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, খননকৃত
বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত করাসহ কিছু স্থানে অল্প পরিমাণে মাটি কাটা
হয়েছে। নদীর উপরে এবং নিচে খনন না করে মাঝামাঝি জায়গায় খনন করায় তা ভরাট
হয়ে গেছে। প্রকৌশলীদের ভাষায়, নদীর আপ এবং ডাউন নির্ণয় করে নদী খননের নকশা
প্রণয়ন করা হয়। তুরাগ নদীকে ডাউন অর্থাৎ নিচু এবং নিউ ধলেশ্বরীর উৎসস্থল আপ
অর্থাৎ উপরের দিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।টাস্কফোর্সের রিপোর্টে বলা হয়,
বর্তমানে খননকৃত নদীর কোনো কোনো স্থানে কৃষকরা ধান চাষ করেছেন। অথচ গত
বছরের খননকৃত কাজের উপরের অংশে আরও ২৫ কিলোমিটার খনন কাজে হাত দেয়া হয়েছে।
ফেব্র“য়ারি মাস থেকে কাজও শুরু হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, এই অংশের কাজ শেষ
হলে আগামী বর্ষায় আবার তা ভরাট হয়ে যাবে। তাই এ ধরনের ড্রেজিং কাজ নদীর
নাব্যতা ধরে রাখতে ফলপ্রসূ কোনো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে না। মাঝখানে
দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে শুধু টাকার অপচয় করা হচ্ছে। অথচ এবারও নতুন
অনেকগুলো কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।সরেজমিন চিত্র : পুংলী নদীর যে ২৫
কিলোমিটার খনন করা হয় তা সরেজমিন দেখে টাস্কফোর্সের রিপোর্টের সঙ্গে বেশ
মিল পাওয়া যায়। ২৫ ফেব্র“য়ারি ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাজার গিয়ে
দেখা যায়, পাশের পুংলী ব্রিজের নিচেই ধানক্ষেত। ব্রিজ সংস্কারে থাকা
স্থানীয় রাজমিস্ত্রি তৈয়ব আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে যুগান্তরকে তিনি বলেন,
গত বছর এখান থেকেই ৬ কিলোমিটার কাটা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষায় সে জায়গা ভরাট
হয়ে গেছে। নদীর পাড় ধরে কিছুদূর যেতেই দেখা যায়, খননকৃত অনেক স্থানে বড় বড়
গর্ত। আবার কোনো কোনো স্থানে নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী না কেটে নদীর একপাশ
দিয়ে ৩-৪ ফুট চওড়া করে খালের মতো কেটে রাখা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত স্থানীয়
কয়েকজন বাসিন্দার কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদককে বলেন, ‘নদী
কেটে গভীর করার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মাঝে মাঝে এ রকম গর্ত করে শুধু
মাটি বেচা হয়েছে।’বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছাকাছি প্রকল্পের উৎসস্থলে গিয়ে
দেখা যায়, দেশীয় ফর্মুলায় তৈরি ড্রেজার দিয়ে নিউ ধলেশ্বরী নদীর তলদেশ থেকে
পলিবাহিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু উত্তোলন করা বালু দূরে অপসারণ না
করে নদীর পাড় এবং আশপাশের বাড়িঘরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।নিউ ধলেম্বরী
নদী ড্রেজিং কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর টাঙ্গাইল ডিভিশনের একজন
কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এ প্রকল্প হাতে নেয়া
হয়েছে। খননও হয়েছে যা-তাভাবে, এভাবে ড্রেজিং করে বুড়িগঙ্গায় পানি নেয়া যাবে
না। পানি নিতে হলে পুংলী, নিউ ধলেশ্বরী, তুরাগ ও বংশীসহ এই চারটি নদীর ১৬২
কিলোমিটার একযোগে খনন করতে হবে। কিন্তু এভাবে প্রকল্প নিতে হলে অন্তত ২০টি
সেতু ভেঙে সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এতে করে প্রকল্প ব্যয়
বহুগুণ বেড়ে যাবে। কিন্তু শুধু প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য যদি এভাবে
জোড়াতালি মার্কা এই প্রকল্প চালু রাখা হয় তাহলে কাজের কাজ কিছুই হবে না।
যেটুকু খনন হবে পরের বছর বর্ষায় তা ফের ভরাট হয়ে যাবে।ত্র“টি নিয়ে
বিতর্ক : ২০১২ সালের ৭ মে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব শেখ
আলতাফ আলীর সভাপতিত্বে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় উপস্থিত
কর্মকর্তাদের মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় প্রকল্পটি বহুলাংশে বিতর্কিত। বৈঠকের
কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সুনীল বরণ দেবরায় ওই সভায়
বলেন, অনুমোদিত ডিপিপিতে নিউ ধলেশ্বরীর উৎসমুখে একটি অফটেক রেগুলেটর
(স্লুইস গেট) ও একটি ফিস পাস রেগুলেটর (মাছ আসা-যাওয়ার বিশেষ ধরনের পথ)
নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কারিগরি কমিটি এ প্রস্তাবে
আপত্তি উত্থাপন করে। তাদের মতে, এ ধরনের স্লুইস গেট ও ও ফিস পাস রাখা হলে
পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টিসহ নৌচলাচল সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময়
সিনিয়র সচিব শেখ আলতাফ আলী কারিগরি কমিটির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন,
প্রকল্প বাস্তবায়নে এ সমস্যাগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। এভাবে এই প্রকল্প গ্রহণ
করার আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা
উচিত ছিল। সভায় তিনি আরও বলেন, নিউ ধলেশ্বরীর উৎসমুখ থেকে তুরাগ পর্যন্ত
১৬২ কিলোমিটার পথে ২০টি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সেতুর পিলারের ক্যাপ নদীর
তলদেশ থেকে উপরে। এসব জায়গায় ড্রেজিং করা হলে সেতুর ক্ষতি হবে। তাই এ
বিষয়ে পুনরায় নকশা প্রয়োজন। সেজন্য রেল ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা
করতে হবে।সচিব বলেন, ২০০৪ সালে আইডব্লিউএম (ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার
মডেলিং)-এর পরামর্শ এবং পর্যালোচনায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় ৮
বছর (২০১২ সাল পর্যন্ত) পেরিয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময়ে ঢাকার নিকটবর্তী
নদীগুলোর গতি-প্রকৃতি পাল্টে গেছে। তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পুনরায়
পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্রিজের তলদেশ পানিপ্রবাহ
বাধাগ্রস্ত হলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, দ্রুত
পরিবর্তনশীল এই সময়ে ৮ বছর আগের পর্যবেক্ষণ দিয়ে কিভাবে প্রকল্পটি অনুমোদন
নেয়া হল? প্রকল্পটি পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে কারিগরি পর্যবেক্ষণ করা অবশ্যই
জরুরি।আলোচনা শেষে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা সার্কুলার ওয়াটার ওয়ের
(তুরাগ নদী) যে অংশ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত তা সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে
নতুন কোনো কাজ আপাতত শুরু করার প্রয়োজন নেই।তবুও নতুন দরপত্র : জানা
গেছে, তৎকালীন পানিসম্পদ সচিব শেখ আলতাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত
স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের
কর্তাব্যক্তিরা। সচিব নতুন নকশার মাধ্যমে দরপত্র আহবান করার সিদ্ধান্ত
দিলেও তারা বিতর্কিত বিদ্যমান নকশায় ৬টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করেন। এরপর
যথারীতি নদী খননের কার্যাদেশও দেন। এমনকি সম্প্রতি টাঙ্গাইলের নির্বাহী
প্রকৌশলী ফারুক ভুঁইয়া আরও কয়েকটি প্যাকেজ নির্দিষ্ট করে দরপত্র দিতে পানি
উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গিয়াস উদ্দিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
কিন্তু প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে তিনি নতুন কোনো প্যাকেজে
(দরপত্রের ফাইলে) স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তবে গত অর্থবছরে
কার্যাদেশ দেয়া প্যাকেজগুলোর কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।‘টেন পার্সেন্ট’
পদ্ধতি : পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদমর্যাদার এক
কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সাবেক পানিসম্পদ সচিব
শেখ আলতাফ আলীর দেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কোনো
সভা হয়নি। এমনকি নতুন কোনো নকশাও গ্রহণ করা হয়নি। ২০০৪ সালের নকশা অনুযায়ীই
কাজ চলছে। অথচ রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার এই প্রকল্প কোনো কাজেই আসবে না।পাউবোর
কর্মকর্তারা কেন এত আগ্রহী হয়ে নতুন নতুন দরপত্র আহ্বান করছেন জানতে চাইলে
এই প্রকৌশলী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গত অর্থবছরে ৭০ কোটি টাকা
বরাদ্দ দেয়। এরপর আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে কার্যাদেশ দেয়া হয় ২৫৮ কোটি
টাকার। তিনি জানান, অথচ ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের
উপসচিব সৈয়দ আবদুল মমিন প্রকল্পের কাজের পরিমাণ কমিয়ে বাস্তবায়ন এবং ডিপিপি
সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে
কার্যাদেশ দেয়ার পেছনে কাজ করে ‘টেন পার্সেন্ট’ পদ্ধতি। প্রতিটি দরপত্র
থেকে ‘টেন পার্সেন্ট’ কমিশন ঠিকাদারদের কাছ থেকে আগেই নেয়া হয়ে গেছে। এ
হিসেবে কাজের আগেই পর্দার আড়ালে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়। এই
কমিশন হালাল করার জন্যই একের পর এক টেন্ডার।এদিকে আলোচ্য প্রকল্পের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন,
টেন্ডারে টেন পার্সেন্ট কমিশন তো নিয়মিত ঘটনা। বলা যায় ওপেন সিক্রেট। তিনি
জানান, শুধু বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করার এই প্রকল্প নয়, সব ধরনের টেন্ডারে
টেন পার্সেন্ট কমিশন দিতে হয়। এই কমিশনের টাকা আগাম না দিলে সর্বনিু দরদাতা
হলেও কার্যাদেশ দেয়া হয় না। তিনি বলেন, ‘ভাই আমার নাম লিখলে কিন্তু বারোটা
বাজবে। অনেক বিল পাওনা রয়েছে।’সংশ্লিষ্টরা যা বললেন : এ বিষয়ে জানতে
চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গিয়াস উদ্দিন যুগান্তরকে
বলেন, তিনি এ দায়িত্বে নতুন। তবে গত বছর প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির
সিদ্ধান্ত ছিল ‘বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে’ পুংলী নদীর উজানে প্রায় ২৪
কিলোমিটার খনন করা হবে। সেই আলোকে দরপত্র আহ্বান এবং বাস্তবায়নের নির্দেশনা
ছিল। কিন্তু নকশা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নদী খননের যে কাজ
সম্পন্ন হয়েছে সে স্থান ভরাট হয়ে যাওয়ার তথ্য তিনি পেয়েছেন। এক প্রশ্নের
জবাবে তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনেক সমস্যা রয়েছে। এগুলো আগেই
সমাধান করা প্রয়োজন ছিল। তবে বাস্তব অবস্থা জানার পর তিনি টাঙ্গাইল অংশে
পুংলী নদী খননে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব অনুমোদন করেননি। যাচাই-বাছাই
না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর কোনো দরপত্রের অনুমোদন দেবেন না।প্রকল্পের
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও পাউবোর কেন্দ ীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মাহতাব
উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, তিনিও এই প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে
দায়িত্বে নতুন। তবে শেখ আলতাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির
নির্দেশনা মেনেই বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের খনন কাজ চলছে। প্রকল্পের
যেসব স্থান ভরাট হয়ে গেছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা আবার কেটে দেবেন। এক
প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় নতুন
নকশা প্রণয়নসহ কিছু নির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল এটা ঠিক। পরের
দুটি সভায় আলোচনা এবং সিদ্ধান্তের আলোকেই সমস্যার সমাধান ও নতুন নকশায় নদী
খনন শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের জুন
পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আসলে এটি একটি পাইলট প্রকল্প।প্রসঙ্গত,
শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গায় পানি আনার এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর
অগ্রাধিকারমূলক একটি প্রকল্প। ২০১১ সালের ৬ এপ্রিল প্রকল্পটি একনেকে
অনুমোদন হয়। ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ছিল ৩ বছর। প্রকল্পের
অধীনে নদীর উৎসস্থলে একটি অফটেক রেগুলেটর (স্লুইস গেট), একটি ফিস পাস (মাছ
আসা-যাওয়ার বিশেষ পথ) রেগুলেটর, ১৬২ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের সংস্থান রাখা
হয়েছে। এর মধ্যে নিউ ধলেশ্বরী আড়াই কিলোমিটার, পুংলী প্রায় ৬২ কিলোমিটার,
বংশী ২১ কিলোমিটার এবং তুরাগ ৭৮ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
0 comments:
Post a Comment