
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫টি তৃণমূল সংগঠনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। পরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ও ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ফারুক ফয়সল।
পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক ও ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে কানাডার হাই কমিশনার হিদার ক্রুডেন। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ব্রাজিলের হাই কমিশনার ভানিয়া কাম্পোস দা নেবরেগা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ বিষয়ক মহাপরিচালক সাইদা মুনা তাসনীম। আরো উপস্থিত ছিলেন ক্লিক ইত্তেফাক.কমের নির্বাহী সম্পাদক তারিন হোসেন মঞ্জু এবং স্পেক্ট্রা গ্রুপ এর চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন।
প্রধান অথিতির ভাষণে কানাডার হাই কমিশনার হেদার ক্রুডেন বলেন, বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়ে গেলেও সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। পরিস্থিতি অন্যান্য অনেক দেশের মতোই। বাংলাদেশে যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে না, তবে গত কয়েক বছর ধরে এদেশে নারীরা নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছে। কখনও রাজনৈতিকভাবে, কখনও জাতিগতভাবে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন কার্যকরণে কানাডা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ভানিয়া কাম্পোস দা নেবরেগা বলেন, নারীরা সবখানেই কোনো না কোনো ভাবে ভোগান্তির ভেতর দিয়ে দিনযাপন করছে। এই ভোগান্তির জন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। কখনও রাষ্ট্রীয়, কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। এ কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরার জন্যই অনন্যা শুরু করি। অনন্যা সবসময় নারীদের পাশে ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অনন্যা এগিয়ে এসেছে। সকল ধরনের সহিংসতার বাইরে রাখা হোক নারী ও শিশুদের।
বাংলাদেশে ইউএন ওমেন প্রতিনিধি, ক্রিস্টিনা হান্টার বলেন, জাতিসংঘ ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন ঘোষণার মাধ্যমে ২০০৪ সালকে একটি ঐতিহাসিক বছরে পরিণত করে। শান্তি আলোচনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবার জোরাল দাবি এই রেজ্যুলিউশনের মাধ্যমে প্রথম উঠে আসে।
সাইদা মুনা তাসনীম ১৯৭১ সালে নারীর আত্মত্যাগের কথা সম্মানের সাথে স্মরণ করে বলেন, দেশের অগ্রগতির সকল ক্ষেত্রে নারীরা অবদান রাখছে। তারপর তারা মানসিক, শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জোটের সফলতা কামনা করে গণমাধ্যমের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
তারিন হোসেন মঞ্জু সকল প্রকার প্রচারণার মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তায় জোটের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
১৫টি তৃণমূল নারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে হোসনে আরা জলি বক্তব্য রাখেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আফতাব উদ্দিন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ও কানাডার প্রস্তাবনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ঐতিহাসিক ১৩২৫ প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবনায় বিশেষ গুরুত্ব সহকারে সংঘাত প্রতিরোধে এবং সংঘাত নিরসনে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আনা হয়।
প্রস্তাবনাটিতে বলা হয় যে, শান্তি আলোচনায়, শান্তি সংগঠনে, শান্তি রক্ষায়, সংকটে মানবিক সহায়তায় এবং সংঘাত-উত্তরকালে পুনর্বাসনে নারীদের পুরুষের সমান ও সামগ্রিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা ব্যাতিরেকে শান্তি ও নিরাপত্তাকে যেমন স্থায়ী করা যাবে না তেমনি শান্তিময় পরিস্থিতিকে টিকিয়েও রাখা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানে ১৩২৫ প্রস্তাবনাটির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
0 comments:
Post a Comment