
প্রধানমন্ত্রী পুলিশের নিরলস ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশে শান্তি ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের একটি মডেল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পুলিশসহ দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষই এ সাফল্যের অংশীদার।
শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা দেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়ার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের জঙ্গি-সন্ত্রাসী বাহিনী সারাদেশে হরতাল ও অবরোধের নামে ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছিল। তারা দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করার হীন ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যরা জনগণের জানমাল রক্ষা করতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এসব ঘটনায় ১৬ জন পুলিশ প্রাণ দিয়েছেন। তিনি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক কল্যাণে সম্ভব সবকিছু করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ বিভাগে ৬১৪টি ক্যাডার পদসহ ৩০ হাজার ৮৩৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ২টি সিকিউরিটি এন্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। সর্বস্তরের জনগণ এর সুফল পাচ্ছে।
এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণীর পদ হতে ২য় শ্রেণী এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণীর পদ হতে ১ম শ্রেণীর পদে উন্নীত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত আইজিপি'র র্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। আইজিপি'র পদকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় এবং ২টি গ্রেড-২ পদকে গ্রেড-১ পদে উন্নীত করা হয়েছে। এপিবিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার গঠন এবং সারাদেশে ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে।
প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা খাতে অর্থ বরাদ্দকে সরকার বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এ বছর ১০৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম ) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম ) প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও ৬৯ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চার ধরনের পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা), প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ও অপরাধের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশের আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের যে কোনো নাশকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে শান্তিপ্রিয় সাধারণ জনগোষ্ঠীর প্রধান ভরসা। তাই প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িকে জনগণের প্রকৃত আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পুুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে কোনো ত্রুটি ও গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করতে আমরা থানাগুলো সংস্কার করবো। যাতে পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে তাদের পাশে থাকতে পারে। যাতে তারা জনগণের সমস্যা আন্তরিকভাবে ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারে। গ্রামের মানুষের শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, এডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) শহিদুল হক তাকে স্বাগত জানান। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জাতীয় সালাম প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা গাড়িতে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে তিনি পদক বিতরণ করেন। বিএনপি-জামায়াতের হরতাল অবরোধের সময় নিহত পুলিশ সদস্যের স্বজনদের হাতে পদক তুলে দেয়ার সময় তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজাবে সরকার'
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ যাতে সহজে পুলিশের সেবা পেতে পারে সে লক্ষ্যে তার সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেল পুলিশ, র্যাব, শিল্প পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও নদীর পুলিশসহ সকল বিভাগ মসৃণভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে চালানো খুব কঠিন কাজ'। তাই আমরা এসব বিভাগকে পৃথক করে এবং জনশক্তি নিয়োগ দিয়ে পুরো মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর বিষয়টি বিবেচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শুধু পুলিশ বিভাগই নয়, জনগণের সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে পুরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই ঢেলে সাজাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৪ উপলক্ষে তার কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মূল্যায়ন সভায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব সিকিউকে মুসতাক আহমেদ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হাসান মাহমুদ খন্দকার ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক বক্তৃতা করেন।
0 comments:
Post a Comment