
মানবাধিকার ভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, সাতক্ষীরা যশোর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকাতেও নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহতসহ আটক ও ধর্ষণের ঘটনাও চলছে ভয়াবহভাবে। রাজধানীর যুবদল নেতা মামুন হাসানসহ বেশ কয়েকজন নেতার স্ত্রী-কন্যাদের আটক করা হয়েছিল ২৯ ডিসেম্বর। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ সাবেক এমপি শাম্মী আক্তারকেও আটক করে জেলে পাঠানো হয় ।
নারীকে পুড়িয়ে মারতে এখন আর ডাইনি বলতে হয় না। একুশ শতকে নতুন ধারায় ডিজিটাল সরকার থেকে এ দেশের নারীরা জামায়াত-শিবির আখ্যা পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে মিছিলে-মিটিংয়ে নামতে বাধ্য হওয়া নারীদের এভাবেই মারছে সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জন নারী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। মিছিল মিটিং করায় পাঁচ সাবেক মহিলা এমপিসহ শতাধিক নারী র্যাব-পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছে।
অন্যদিকে নারী ও শিশু ধর্ষণের মচ্ছব চলছে। নির্যাতন, ধর্ষণ মচ্ছবের অঙ্গুলিও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের দিকে তুলছেন নির্যাতিতরা। মহিলা পরিষদের তথ্যে নারী নির্যাতনের যে চিত্র রয়েছে, তার মধ্যে অর্ধেকই (প্রায় ২ হাজার) নারী ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টার চিত্র রয়েছে। ডিজিটাল সরকারের রাজনৈতিক নিপীড়নে ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে নারী। গত বছর এবং চলতি দুই মাস পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মামলার তদন্ত ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপে বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গড়ে ১৫ নারী
পাচার হচ্ছে।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘অগ্রগতির মূলকথা : নারী-পুরুষ সমতা’। দিবসটি উপলক্ষে গত দুই মাসে দেশের বর্তমান নারী নির্যাতন পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন সূত্র এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ কর, নারীর সমতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত কর’ প্রতিপাদ্য বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করবে সরকার। আজ শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জেলা ও উপজেলা সদরে নারী সমাবেশ করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চ প্রতি বছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালন করা হয়। দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে সরকারের লাঠিয়াল বাহিনীর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়েই নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।
0 comments:
Post a Comment