Sporty Magazine official website |

রাশিয়ার সঙ্গে মিশে যেতে চায় ক্রিমিয়া

Thursday, March 6, 2014

Share this history on :
ইউক্রেনের স্বায়ত্ত্বশাসিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যরা রাশিয়া ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা রাশিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছে যাতে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। রাশিয়া তাদের দাবি মেনে নিলে সিদ্ধান্তের ওপর জনগণের রায়ের জন্য আগামী ১৬ মার্চ গণভোট হবে বলেও পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনুক। খবর বিবিসি ও সিএনএন'র।

ইউক্রেনের মস্কোপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ক্ষমতাচ্যুতির পর গত কিছুদিন ধরেই ক্রিমিয়া নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাশিয়াপন্থি এবং রুশ বাহিনী ক্রিমিয়া উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে। উপদ্বীপের অধিকাংশ জনগনই নৃতাত্ত্বিকভাবে রাশিয়ান। ক্রিমিয়ারা পার্লামেন্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্রিমিয়াকে ফেডারেশনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানানো হয়েছে। ক্রেমলিন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিন এই বিষয়টি জেনেছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার সের্গেই তেসকভ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জন্মভূমি থেকে আলাদা ছিলাম। এখন আবার একত্র হতে চাই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগন আমাদের সিদ্ধান্তের পক্ষেই ভোট দেবে। পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়া যদি তাদের আবেদন গ্রহণ করে তাহলে ক্রিমিয়ার জনগনকে আগামী ১৬ মার্চ দুটি প্রশ্নের ওপর ভোট দিতে হবে। তা হলো, জনগন ক্রিমিয়াকে রাশিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করতে চায় নাকি ইউক্রেনের অংশ হয়ে থাকতে চায়।

ইউক্রেনের নতুন সরকার ক্রিমিয়ার বর্তমান নেতৃত্বকে বৈধ বলে মনে করে না। জরুরি অবস্থার মধ্যে তাদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। ক্রিমিয়ার প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আসকিয়োনোভের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেনের সরকার। পার্লামেন্ট গত সপ্তাহে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল। ক্রিমিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনুক গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অবিচ্ছেদ্য অংশ আছে এবং থাকবে। তিনি আরো বলেন, এই ধরনের গণভোটের বৈধ কোনো ভিত্তি নেই। ইউক্রেনের সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইউক্রেনের কোনো অংশের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে হলে প্রকাশ্যে পুরো ইউক্রেনে গণভোট হতে হবে। কিন্তু ক্রিমিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী রুস্তম তেমিরগালিয়েভ বলেছেন, ক্রিমিয়া কিয়েভের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ মনে করে না। আর সে কারণেই গণভোট করাটা আইনসম্মত।

ক্রিমিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার সেনা মোতায়েনের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নিয়ে বৈঠকে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮ টি দেশের নেতারা। গতকাল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউক্রেন-সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়াকে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে রুশ পররাষ্ট্রন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপিয়ান অন্যান্য দেশের মন্ত্রীদের সাথে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখা করলেও ইউক্রেনের ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী সরকারের কারো সঙ্গে তিনি দেখা করেননি। তবে বর্তমান সংকট সামাধানের জন্য জার্মানির চ্যান্সেলর আ্যাাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে নানা বিষয়ে টেলিফোনে আলাপ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিকে, জাতিসংঘের প্রধান প্রতিনিধি রবার্ট সেরি ক্রাইমিয়াতে পরিদর্শনে গেলে সেখানে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের হুমকির ফলে, সেখানে তিনি ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করেছেন।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment