Sporty Magazine official website |

জবি ছাত্র ইউনিয়নের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

Wednesday, March 5, 2014

Share this history on :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধার আন্দোলনের ১৮তম দিনে আন্দোলনকারী ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনজন আহত হয়। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফটকে তালা লাগিয়ে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন’ সংবলিত একটি সাইন বোর্ড টানিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষকদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। আজও (বৃহস্পতিবার)আন্দোলন অব্যাহত থাকছে।
অন্যদিকে সমবায় সমিতির জায়গা দখল করে ‘জবি টিএসসি’ ঘোষণা করায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, গতকাল বুধবার প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় রঙতুলি দিয়ে ‘হল চাই’ লেখাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিসহ ৩ জনকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজীব জানান, তাদের কয়েক কর্মী রাস্তায় রং দিয়ে হলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখছিল। এ সময় ছাত্রলীগের রাসেল, প্রিন্স ও আশরাফ এসে তাদের লিখতে বাধা দেয় এবং মারধর করে রংয়ের কৌটা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, দফতর সম্পাদক সাদিক শুভ আহত হন।
এ ব্যাপারে জবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। মনে রাখতে হবে এটা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। একক বা দলীয় ক্রেডিটের কোনো মূল্য এখানে নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল হল উদ্ধার ও নির্মাণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সকাল ১১টায় দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ব্যাংক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকলে অচল হয়ে পড়ে ব্যাংকটি। পরে সেখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা এখন মতিঝিলে’ সংবলিত হাতে লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে আশপাশের সব সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখায় সদরঘাট, বাংলাবাজার, সিএমএম কোর্ট ও লক্ষ্মীবাজার এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের দাবিতে স্লোগান দিয়ে ‘রাস্তার ওপর হল চাই’-এর রঙতুলির কাজ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় সাঁজোয়া যান, জলকামানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে ভাষাসৈনিক শহীদ রফিক ভবনের সামনে ক্লাস বর্জন করে হল উদ্ধার, নতুন হল নির্মাণ, লালবাগ জোনের ডিসি হারুনুর রশীদ ও কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে অপসারণসহ আট দফা দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দেয় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও প্রগতিশীল জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে হলের দাবিতে গান, কবিতা, দেশাত্মবোধক গান ও বক্তৃতায় সমাবেশটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বেরা ২টায় এই সমাবেশ থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) বংশালে অবস্থিত বজলুর রহমান হল উদ্ধারের ঘোষণা দেয়া হয়। ক্যাম্পাস থেকে রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত র্যালি করবে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, আমরা দাবি আদায়ের জন্য আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছি। কাল (বৃহস্পতিবার) কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি র্যালি করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানান্তরের আল্টিমেটাম দিয়ে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, এখান থেকে যদি বাংলাদেশ ব্যাংক সরিয়ে নেয়া না হয়, তাহলে সমবায়ের জমি যেভাবে দখল হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাটিও সেভাবে দখল করা হবে। আর এই উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ব্যাংকের গভর্নর দায়ী থাকবেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রদলও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এ সময় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন জবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না।
আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন,‘শিক্ষার্থীরা কারও বাড়া ভাতে ছাই দিচ্ছে না। তারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। বেদখল ১১টি হল তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তাদের এই আন্দোলন থামানোর চেষ্টা অবশ্যই ব্যর্থ হবে। ছাত্রদল এই আন্দোলনের সঙ্গে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সমবায় ব্যাংকের জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ ক্ষোভ প্রকাশের কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কে বা কারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য ওই জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে, এ জন্য দেশের দেড় কোটি সমবায়ী দুঃখ পেয়েছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল ওই জায়গায় একটি নিজস্ব ভবন হবে। ভবনের সব কিছু চূড়ান্তও করা হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘স্থানটি যাতে সমবায়ীদের থাকে, সে জন্য ছাত্রদের সতর্ক থাকতে হবে। তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে সুবিধা নিতে না পারে।’
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment