Sporty Magazine official website |

ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধাকে প্রথম আলোর সংবর্ধনা

Saturday, March 1, 2014

Share this history on :

বাংলাদেশের নারীরা পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, গুপ্তচরের কাজ করেছেন এবং সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছেন। অথচ তাঁদের এই অবদানের কথা বহুলাংশে অশ্রুতই রয়ে গেছে। আজ শনিবার প্রথম আলো এমন ছয়জন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে।

এই ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধা হলেন পুষ্পরানী শুল্কবৈদ্য, মালতি রানী শুল্কবৈদ্য, হীরামণি সাঁওতাল, ফারিজা খাতুন, সাবিত্রী নায়েক ও রাজিয়া খাতুন। ‘চেতনা ’৭১’ হবিগঞ্জের মহাসচিব কেয়া চৌধুরীর সাত বছরের চেষ্টায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান। এঁদের কেউ সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছেন, কেউ সন্তানসহ আর্মি ক্যাম্পে অবরুদ্ধ ছিলেন দিনের পর দিন, কেউ বোমার আঘাতে অঙ্গ হারিয়েছেন।

প্রথম আলো বোমার আঘাতে পা হারানো ফারিজা খাতুনকে কৃত্রিম পা লাগানোয় সহযোগিতা করে। গতকাল এঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছে।

চেতনা ’৭১-এর মহাসচিব কেয়া চৌধুরী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা মানিক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে আঞ্চলিক অবদানের কথা বলেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকে তিনি হবিগঞ্জের নারী মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেন। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তাঁদের খুঁজে বের করেন, স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে পাঁচ বছরেরও বেশি সময়।

অনুষ্ঠানে এস ফোর্সের অধিনায়ক কে এম সফিউল্লাহ মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া খাতুনকে সম্মাননা তুলে দেন। তিনি বলেন, ‘আজও মা-বোনদের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো মন-মানসিকতা হয়নি আমাদের। তাঁদের স্বীকৃতি যত দিন না আমরা দেব, তত দিন আমাদের কাজ শেষ হবে না।’

মানবাধিকার নেত্রী হামিদা হোসেন এ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান কেয়া চৌধুরীকে।
কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন বলেন, এই ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধা বাঙালির ‘অস্তিত্ব, পরিচিতি, স্বাধীনতা’। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় যাঁরা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাঁদের খুঁজে বের করে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই কাজ সরকারের একার নয়।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘তেলিয়াপাড়ায় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছিল। এই ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধা সেখান থেকে খুব দূরে ছিলেন না। অথচ তাঁদের খুঁজে বের করা যায়নি। এই ব্যর্থতা আমাদের।’

সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান বলেন, সিরাজগঞ্জে এমন ২১ জন নারী আছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এমন নারীরা আছেন। তাঁদের স্বীকৃতি দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক আমেনা মহসীন বলেন, ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে একজন সাঁওতাল আছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তারই প্রমাণ এই নারী।

সাবেক সাংসদ ও চিত্রনায়িকা কবরী সারোয়ার বললেন, তিনি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথি হয়ে, সারথি হয়ে থাকবেন আজীবন।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, প্রথম আলোয় গত ১৮ ডিসেম্বর এঁদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরই, মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা বীরাঙ্গনা তাঁরা কেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন না জানতে চেয়ে তাঁরা মামলা করেছেন।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি আমরা পুরুষ। আমরাই সব। আমরাই মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ক্যাপ্টেন। নারীদের ভূমিকা অনেক সময় আমরা ভুলে থাকি। মুক্তিযুদ্ধে নারীরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন অদিতি মহসীন। ছয় নারী মুক্তিযোদ্ধাকে ৫০ হাজার টাকার চেক ও উপহার তুলে দেন মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান, ক্যাপ্টেন (অব.) সাহাবুদ্দিন আহমেদ বীর উত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) আকরাম আহমেদ বীর উত্তম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এস আই নূরুন্নবী খান বীর বিক্রম, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক। উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) ওয়াকার হাসান বীর প্রতীক।

Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment