Sporty Magazine official website |

মানিকগঞ্জে শ্রমিক লীগ-সমর্থক নেতাদের চাঁদা আদায়

Monday, February 10, 2014

Share this history on :
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী ছয় শতাধিক অটোবাইক থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে সাত লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখ টাকাই আদায় করছেন জাতীয় শ্রমিক লীগ-সমর্থক সমিতির দুই নেতা। চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গতকাল সোমবার তিন ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করেন সাধারণ অটোবাইকের চালক ও মালিকেরা।
মানিকগঞ্জ পৌরসভা ও অটোবাইক মালিক সমিতি সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে তিন শতাধিক ব্যাটারিচালিত ও প্রায় দুই শ সিএনজিচালিত অটোবাইক চলাচল করে। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড-বাংলাদেশ হাট সড়কে শতাধিক অটোবাইক চলাচল করে।
বেশ কয়েকজন অটোবাইকের চালক-মালিক জানান, পৌর এলাকায় পাঁচ শতাধিক অটোবাইক থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে মাসে সাড়ে চার লাখ টাকা এবং মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড-বাংলাদেশ হাট সড়কে চলাচলকারী শতাধিক অটোবাইক থেকে ৪০ টাকা করে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেন সমিতির লোকজন। অটোবাইকের মধ্যে সিএনজিচালিত ২০০টি থেকে মাসে অতিরিক্ত ৭০০ টাকা করে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
এই হিসাবে ছয় শতাধিক অটোবাইক থেকে কমপক্ষে সাত লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া নতুন কোনো অটোবাইক রাস্তায় নামালে মালিককে তিন-চার হাজার টাকা সমিতির নেতাদের দিতে হয়। চাঁদার এসব টাকা মালিক সমিতির নেতা ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন অটোবাইক আটক করে ৫০০-৬০০ টাকা আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক অটোবাইকের চালক।
চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত পৌর এলাকার অটোবাইকের চালক-মালিকেরা ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় তারেক হোসেন, টিটু মিয়া, মোসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন অটোবাইক মালিক জানান, সমিতির নেতারা ট্রাফিক পুলিশ ও সমিতির কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় করেন।
চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদা আদায়ের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের কেউ জড়িত নন।’
অটোবাইকের চালক রুবেল অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় গত রোববার বিকেলে সমিতির সভাপতি ওয়াসিম তাঁকে মারধর করেন।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অটোবাইক মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একে অপরকে দোষারোপ করেন। দুজনই শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
সমিতির সভাপতি ওয়াসিম হোসেন বলেন, ‘আমি মাস খানেক আগে সভাপতি হয়েছি। সমিতির সেক্রেটারি চাঁদার টাকা আদায় করেন।’ সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বলেন, চাঁদার ৩০ টাকা ছাড়াও ওয়াসিম চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন। না দিলে তিনি চালকদের মারধর করে থাকেন। তিনি বলেন, চাঁদা উত্তোলনের টাকা দিয়ে সমিতির কার্যালয়ের খরচ, তিনজন কর্মীর বেতন ও পৌরসভার টার্মিনাল ফি দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড-বাংলাদেশ হাট সড়কে চাঁদা আদায়কারী শরিফুল ইসলাম বলেন, চাঁদার টাকার অধিকাংশই ট্রাফিক পুলিশকে ও সুপারভাইজারের বেতন দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সচিব আবদুল আজিজ বলেন, পৌর এলাকায় অটোবাইক টার্মিনালের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ইজারা দেয়নি। কাজেই টার্মিনাল ফি নেওয়ার কথা অবাস্তব।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment