পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে জেলার ইটভাটাগুলোতে ১১ লাখ ৮০ হাজার মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন সময় বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, মেহেন্দিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ইটভাটা লোকালয়ের কাছে স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ ভাটায় করাতকল স্থাপন করে কাঠ চেরাই করতে দেখা গেছে। দুই-একটি ইটভাটায় অল্প পরিমাণে কয়লার স্তূপ দেখা গেলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না।
উজিরপুরে পরমানন্দ সাহা গ্রামের খান ব্রিকস ও হাজি ব্রিকস, চৌধুরী হাটের মেসার্স ফাইভ স্টার এবং সাকরাল গ্রামের মোস্তফা ব্রিকসে অবৈধ ড্রামচিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভাটায় করাতকল স্থাপন করে কাঠ চেরাই করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ১২০ ফুট উঁচু চিমনির মহসিন ব্রিকসে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়াতে দেখা গেছে।
খান ব্রিকসের কারিগর মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কয়লা না থাকায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। দুটি চিমনির একটি ভাটায় দিনে প্রায় ৩০০ মণের বেশি কাঠ প্রয়োজন হয়। ইটভাটাটির মালিক কাইউম খান বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু ড্রামচিমনিতে ছাড়পত্র না দেওয়ায় আধুনিক ইটভাটা করার জন্য এক বছর সময় চেয়েছি।’ স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম জানান, এ অঞ্চলের কোনো ইটভাটাতেই কয়লা ব্যবহার করা হয় না।
মেহেন্দিগঞ্জের লেঙ্গুটিয়া, গাজির চর, চর গোপালপুর, পাতারহাট এলাকার সবগুলো ভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ চেরাই করতে দেখা গেছে। এসব ভাটা কৃষিজমি ও লোকালয়ে স্থাপন করা। সবগুলোতেই অবৈধ ড্রামচিমনি রয়েছে।
ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঠ পোড়ানো এবং কম উচ্চতার চিমনির কারণে কার্বন মনোক্সাইড বেশি উৎপন্ন হয়; যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় করাতকল স্থাপন ও কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়েও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভাটাগুলোকে জিগজ্যাগ কিলন, হাইব্রিড হফম্যান কিলন এবং ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন পদ্ধতিতে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক এসব পদ্ধতিতে কাঠ পোড়ানোর ব্যবস্থা নেই। আধুনিক পদ্ধতি চালু না হলে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
ওই কার্যালয়ের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, কয়েকটি উপজেলার বেশ কিছু ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ড্রামচিমনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার করাতকল ও কাঠ জব্দ করা হয়েছে এবং আর্থিকভাবে জরিমানাও করা হয়েছে। তার পরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভাটার মালিকেরা আবার ড্রামচিমনি স্থাপন করছেন। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, যাঁদের ১২০ ফুট উঁচু চিমনির অনুমোদন রয়েছে, তাঁদের আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল কার্যালয়ের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। অবৈধ ড্রামচিমনির ব্যবহার, পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকা এবং কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগে ৩৩টি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ভাটার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
0 comments:
Post a Comment