
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো আরএডিপির আকার ও বরাদ্দ সমন্বয়ের নীতিকৌশল-সংক্রান্ত আদেশে এ কথা বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বরাদ্দ কমানোর যুক্তি হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু এবং নদী শাসনের কাজের চুক্তি বিলম্বিত হবে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। আর সেতু বিভাগের দাবি, তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে পদ্মা সেতুর জন্য ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে পাঁচ হাজার ২৫ কোটি টাকা রয়েছে। বাকি অর্থ প্রকল্প সাহায্যের। তবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রকল্প-সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রতিবছরের বাজেটেই অর্থ বরাদ্দ থাকবে। সেতু নির্মাণের স্বার্থে এ অর্থ ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হবে।
সচিবালয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, অতিরিক্ত সচিব অমলেন্দু মুখার্জি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চলতি অর্থবছরের বাজেটেই পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি ব্যয় পরিকল্পনা দেওয়া রয়েছে বলেও জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে বলে বলা হচ্ছে। ব্যাপারটি ও রকম নয়। পত্রপত্রিকায় ভুল ভাবে প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে এক হাজার ৮৭৮ মার্কিন ডলার, এই তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি যে, এ রিজার্ভ থেকে পদ্মা সেতুর জন্য ২০২ কোটি ডলার ব্যয় করতে হতে পারে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু করা হবে নিজেদের অর্থায়নে। কারণ, অন্যদের সাহায্যের ক্ষেত্রে নানা শর্ত আছে। তা ছাড়া নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। গত বছরের জানুয়ারি থেকেই সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর বাজেটে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের নির্মাণ ব্যয়ের একটি কাঠামো।
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য চার আগ্রহীর মধ্যে তিনটির দরপত্র মূল্যায়ন চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য ওবায়দুল কাদের (যোগাযোগমন্ত্রী) ভালো জানেন। এটা তাঁর ব্যাপার। অর্থমন্ত্রী জানান, সেতুর তিন গুরুত্বপূর্ণ অংশের দরপত্রের কাজ চলছে এখন। এর দুটির দরপত্র খোলা হবে এ মাসের শেষে। আর একটি খোলা হবে আগামী জুনে।
গণমাধ্যমকে দায়ী করে মুহিত বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে খুব খারাপভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্পাদকীয় পর্যন্ত লেখা হয়েছে ইত্তেফাক-এ। তিনি বলেন, ‘আমি আজ (সোমবার) ইত্তেফাক-এর মালিক সাহেবকে বললাম, তুমি আমাকে টেলিফোন করলেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে পারতাম।’
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন না করাটা বিশ্বব্যাংকের ভুল ছিল, আর এ নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া উঠতে-বসতে বলছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির গন্ধও নেই এতে। আর তাই তাদের (বিশ্বব্যাংক) স্থগিতকে আমরা মেনে নিইনি।’
পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয় প্রক্রিয়াটা আদতে কী রকম হবে, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের বাজেটেই বরাদ্দ থাকছে। যেমন, এ বছরের জন্যও ছিল। এ বছর অবশ্য ব্যয় কম হবে। বড় বড় চুক্তির জন্য এ বছর কোনো ব্যয় হয়নি, সম্ভবত হবেও না।
ব্যয় প্রক্রিয়ার বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব দেন আতিউর রহমানকে। তিনি বলেন, ব্যাপারটা হলো, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হবে। ইতিমধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে তা খোলাও হয়েছে। ওই হিসাবে জমা হওয়া টাকাকে ডলারে রূপান্তর করবে অগ্রণী ব্যাংক। ডলার কম পড়লে অগ্রণী ব্যাংক তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য চাইবে।
0 comments:
Post a Comment