Sporty Magazine official website |

সুপার কম্পিউটার টাইটান

Monday, February 17, 2014

Share this history on :

সাধারণত কম্পিউটার বললে আমরা বুঝি একটা মনিটর, একটা কেসিং, একটা কী-বোর্ড আর একটা মাউস। তবে টাইটান দেখলে মোটেও মনে হবে না যে এটি সাধারণ একটি কম্পিউটার। টাইটান সুপার কম্পিউটার। একটি ভবনের প্রায় সাড়ে চার হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সুপার কম্পিউটারটিকে। এর মেমোরি বা র্যাম আছে প্রায় ৭০০ টেরাবাইট ( ১ টেরাবাইট = ১০০০ গিগাবাইট), যেখানে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে আমরা দুই থেকে চার গিগাবাইট মেমোরিতেই সন্তুষ্ট থাকি। এর হার্ড ডিস্ক প্রায় ৪০পেটাবাইট ( ১ পেটাবাইট = ১০ লাখ গিগাবাইট)।
পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই টাইটান। কাছ থেকে টাইটানের কর্মযজ্ঞ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার প্রাক্তন কর্মস্থল যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এর অবস্থান। টাইটান সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত না হওয়ায় এটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ একটি দুর্লভ সুযোগ বলতে হবে। সেকেন্ডে ১৭ পেটাফ্লপস গাণিতিক হিসাব করতে সক্ষম এই সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এনার্জি মন্ত্রণালয় । 
বর্তমানের পার্সোনাল কম্পিউটারের গতি সাধারণত কয়েক গিগাহার্টজ পর্যন্ত হয়ে থাকে। যার মানে এই কম্পিউটারগুলো সেকেন্ডে কয়েক বিলিয়ন গাণিতিক হিসাব করতে সক্ষম। কিন্তু টাইটান সেকেন্ডে প্রায় ১৭ মিলিয়ন বিলিয়ন (১৭ পেটাফ্লপস) গাণিতিক হিসাব করতে সক্ষম। টাইটানের  গতি আমাদের সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় অনেকটা এক কোটি ৭০ লাখ গুন বেশি।ওক রিজ ল্যাবরেটরিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জাতীয় পতাকা
এত দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারে কী কাজ হয়? সাধারণত গবেষণার কাজের এই রকম মিলিয়ন বিলিয়ন গিগাহার্টজ গতির প্রয়োজন পড়ে। আমি বর্তমানে জিনোম অ্যাসেম্বলি নিয়ে গবেষণা করছি।  এটি অনেকটা জিগস পাজল সমাধান করার মতো। এ ধরনের গবেষণার জন্য অনেক কম্পিউটার হর্সপাওয়ার প্রয়োজন। এছাড়া আরো অনেক গবেষণার ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে দ্রুতগতির কম্পিউটার ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়।
টাইটানের কথা বলতে গেলে একটি বিষয় গর্ব করে বলতে হয় আর তা হচ্ছে টাইটানেও আমাদের জাতীয় পতাকা রয়েছে। টাইটানের লবিতে ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দেশের পতাকার সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের পতাকাও রয়েছে। এই ল্যাবরেটরিতে বর্তমানে কয়েকজন বাংলাদেশি কাজ করছেন।
২০১২ সালের শেষের দিকে টাইটান পৃথিবীর দ্রুততম সুপার কম্পিউটারের খেতাব পায়। ‘টপ৫০০ নামের একটি সংস্থা ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুই বার বিশ্বের দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারের তালিকা প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি বিশ্বের দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটার তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে  চীনের তিহানহে-২ । এই তালিকায় শীর্ষ ১০ সুপার কম্পিউটারের মধ্যে আছে  যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি, জার্মানির দুইটি, চীনের একটি, সুইজারল্যান্ডের একটি এবং জাপানের একটি সুপার কম্পিউটার। 
লেখক: মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার প্রকৌশলী
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment