
মামলার আসামিরা হলেন শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মিজানুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান এবং পুলিশ সদস্য হানিফ।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নরসিংদী পুলিশ সুপারকে আদেশ দেন আদালত। মামলা দায়েরকালে আদালতে সদর মডেল ওসি আসাদুজ্জামান, আদালত পরিদর্শক মিজানুর রহমান এবং আদালত উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক বাদী ছিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা আইন অমান্য করে মহসীন মিয়াকে আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে না পাঠিয়ে নিজ হেফাজতে রাখেন। এ ছাড়া থানার নিজস্ব হাজতখানা থাকা সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে থানার দ্বিতীয় তলায় টর্চার সেলে ৪৩ ঘণ্টা আটকে রেখে বলপূর্বক অপরাধ স্বীকার করতে নির্যাতন করে। থানার দায়িত্বরত পুলিশ ও রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন নির্যাতনের ঘটনাটি দেখেছেন।
নির্যাতনের পর মহসীনকে দীর্ঘ সময় অনাহারে রাখায় এবং আহত অবস্থায় কোনো চিকিত্সার ব্যবস্থা না করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আসামিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তা ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
মামলার বাদী ছিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমি জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেছি। মামলা দায়েরকালে আদালতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, আদালত পরিদর্শক মিজানুর রহমান, আদালত উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁরা অন্য লোকজনের মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।’
মামলার আইনজীবী খালেদ হোসেন বলেন, একটি মামলা দায়ের করার সময় রাষ্ট্রপক্ষ বা আসামিপক্ষের কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। অথচ আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণকালে পুলিশ আইনবহির্ভূতভাবে বাদীকে বাধা প্রদান করেছে। এটি খুবই দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে আদালত পরিদর্শক মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ছিদ্দিকুর রহমানকে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা অসত্য।’
স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত মহসীন মিয়া উপজেলা চক্রধা ইউনিয়নের বাড়ৈগাঁও এলাকার সুলতান উদ্দিনের ছেলে। গত ১ জানুয়ারি গভীর রাতে ডাকাত সন্দেহে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। ৩ জানুয়ারি সকালে থানার একটি কক্ষের জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে পুলিশ দাবি করছে, মহসীন আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু মহসীনের পরিবার বলছে, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে মামলা করা থেকে বিরত রাখেন।
0 comments:
Post a Comment