
সংসদে জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র জোটের সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে বিরোধী দলের সমর্থনে এগিয়ে আসে সরকারি দল।
আজ সোমবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের, ঐকমত্যের, নাকি জাতীয় ঐকমত্যের, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। সরকার ঐকমত্যের হলে আমরা আছি কোনো জায়গায়? বিশ্বে এ ধরনের কোনো নজির নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দলে থাকলে বিরোধী দলে থাকা যায় না। বিরোধী দলে থাকলে সরকারি দলে থাকা যায় না।’
রুস্তম আলী বলেন, ‘বিরোধী দল জাতীয় পার্টির যাঁরা মন্ত্রী হয়েছেন, কোনো বিল আনলে তাঁরা কী করবেন? দল যদি বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে তো তাঁদের দলের পক্ষে ভোট দিতে হবে। না হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সদস্যপদ চলে যাবে। তাই জাতীয় পার্টি সরকারে না গিয়ে বিরোধী দলে থাকলে ভালো হতো।’
জবাবে জাতীয় পার্টির সাংসদ ও সরকারের শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ‘সরকারে ও বিরোধী দলে নজির বর্তমানে পাকিস্তানে, ইসরাইল ও জার্মানিতে আছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা ডেমোক্র্যাট দলের। কিন্তু তাঁর ডিফেন্স মিনিস্টার রিপাবলিকান দলের। সংবিধানের কোথায় লেখা আছে, বিরোধী দল ও সরকারে একসঙ্গে থাকা যাবে না?’
মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘সরকার যদি গণবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমরা দলের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করব। সংসদে ওয়াকআউট করব, আবার আসব। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব। কিন্তু লাগাতার সংসদ বর্জন করব না।’
এরপর কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জাতীয় পার্টির সমর্থনে বলেন, ‘পত্রিকায় পড়েছি, রওশন এরশাদ বলেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকার সময় উনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উনার এই মানবিক দৃষ্টিকোণের প্রশংসা করি। শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করলেই শক্তিশালী বিরোধী দল বলে না।’
0 comments:
Post a Comment