Sporty Magazine official website |

ঢাকার গণপরিবহন প্রায় মুমূর্ষু

Thursday, February 20, 2014

Share this history on :
সংকেত বাতি
সংকেত বাতি চালু থাকার পরও অধিকাংশ স্থানে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়
বাড়তি ভাড়া
সরকার নির্ধারিত হারের পরিবর্তে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে বাসমালিকদের বিরুদ্ধে
১০টি উদ্যোগ
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে গত পাঁচ বছরে নেওয়া অন্তত ১০টি উদ্যোগের বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছে বা মাঝপথে থেমে গেছে
ঢাকার গণপরিবহন এখন মুমূর্ষু প্রায়। অসহনীয় যানজট আর যাত্রী ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী। সরকার বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় তিনটি উড়ালসড়ক করেছে। মানুষ আশা করেছিল, এগুলো চালু হলে সুদিন আসবে। কিন্তু এখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটে নগরবাসীর। গবেষকেরা অঙ্ক কষে যানজটের বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি দেখিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আরও একটি উড়ালসড়কের কাজ চলছে। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকায় হাতে নেওয়া হয়েছে আরও তিনটি উড়ালসড়ক প্রকল্প।
ঢাকায় গণপরিবহন বলতে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব। বাস বা অটোরিকশা খাত কীভাবে যাত্রীবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ট্যাক্সিক্যাব প্রায় উঠেই গেছে বলা যায়। গণপরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটাও কারও জানা নেই।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব সমস্যা সমাধানে একের পর এক ঘোষণা আর বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। নগরবাসী শুনছেন কিন্তু আর আশাবাদী হতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিদেশি পরামর্শকদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তিনটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু এর কোনোটাই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রতিটি সরকারই নিজেদের সুবিধামতো বিপুল অর্থায়ন আর বড় প্রকল্পের পেছনে ছুটেছে। যে প্রকল্পগুলো কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনায়, সেগুলোই আগে বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছে সরকার। তিনটি বড় পরিকল্পনা হচ্ছে ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট স্টাডি (১৯৯৪), ২০ বছরের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (২০০৫) এবং ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক স্টাডি (২০১০)।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার মতো শহরের জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সমন্বিতভাবে নেওয়া জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ১০-১১টি সরকারি সংস্থা আলাদা আলাদা প্রকল্প নিচ্ছে। এগুলো সমন্বয় করার কেউ নেই।
বড় প্রকল্পের নিচে চাপা পড়েছে ছোট প্রকল্প: ৬৫০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা কুড়িল ও মিরপুর উড়ালসড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার মেয়র হানিফ উড়ালসড়কও চালু হয়েছে। তার পরও ঢাকার যানজট কমার কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থায় প্রায় পৌনে ৮০০ কোটি টাকায় তেজগাঁও-মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ হাজার কোটি টাকার ঢাকা-আশুলিয়া উড়ালসড়কের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বনানী-কুতুবখালী উড়ালসড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে তিন বছর আগে। বিজয়নগর-গোলাপশাহ মাজার-বুড়িগঙ্গা সেতু পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকার উড়ালসড়ক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেলের পেছনে সাড়ে চার বছর ছুটে অর্জন বলতে গেলে এর পথ নির্ধারণ। আগামী দুই বছরে এর নকশা প্রণয়ন করা হবে। বাসের বিশেষ লেনেরও বিস্তারিত নকশা শেষ করতে পারেনি সরকার।
অথচ শহরের ভেতরে চাপ কমানোর জন্য আশুলিয়া-গাবতলী-সদরঘাট পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ, আমুলিয়া-বিরুলিয়া-বনশ্রী সড়ক, মাঝিনা-কয়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়ক নির্মাণ, সদরঘাট-পাগলা-কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু সংযোগ সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক প্রকল্প অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সব কটি প্রকল্প মিলে এক হাজার কোটি টাকা হবে না। কিছু কিছু প্রকল্প শেষ পর্যায়ে। কিন্তু অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না বলে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এগুলো বাস্তবায়িত হলে যানজট ও দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে যেত।
স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ ব্যর্থ: ঢাকার যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ যৌথভাবে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১০টি উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এর বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছে কিংবা মাঝপথে থেমে গেছে তদারকির অভাবে।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে লেন মেনে গাড়ি চলতে বাধ্য করা, স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতির মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ১৫ বছরের পুরোনো বাস-মিনিবাস তুলে দেওয়া, স্কুলবাস চালু করা, দড়ি-বাঁশের সাহায্যে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহারে উৎসাহিত করা, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামা বন্ধ করা, গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক করা, যানবাহন চালানো অবস্থায় মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ করা এবং একেক দিন একেক এলাকার বিপণিবিতান বন্ধ রাখা।
বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটাই এখন পর্যন্ত কার্যকর আছে। পুরোনো যানবাহন তুলে দেওয়ার উদ্যোগ বক্তৃতা-বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ। সংকেত বাতি চালু থাকার পরও প্রায় সব স্থানে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।
সরকার পরিবর্তনে সিদ্ধান্ত বদল: ২০০৮ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ঢাকায় আর কোনো মিনিবাসের অনুমোদন দেওয়া হবে না। বরং ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে একসঙ্গে অনেক যাত্রী পরিবহন করা যায়, এমন যান উৎসাহিত করা হবে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শুরুতে সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মালিক সমিতির চাপে এই সিদ্ধান্ত টেকেনি।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অন্তত ১০টি সংস্থা সরাসরি জড়িত। কিন্তু এই সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য সরকার ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) গঠন করেছে। কিন্তু ডিটিসিএর সমন্বয় কিংবা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ জনবলই নেই।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment