
রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউল হক ও পূর্ব ইলিশা ইউপির চেয়ারম্যন মো. সিরাজ বলেন, ১০ বছরে উত্তর রাজাপুর মেঘনায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। এখন স্রোত ভোলাসহ দক্ষিণ রাজাপুরে সরাসরি আঘাত হানছে।
এতে বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ইলিশা ফেরিঘাট, ভোলা-লক্ষ্মীপুর সিট্রাক ঘাট, ইলিশা-ঢাকা লঞ্চঘাট, ইলিশা-চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড, জংশন বাজার, ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, মৌলভীরহাট হোসাইনিয়া ডিগ্রি ফাজিল মাদ্রাসা, মৌলভীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজ, রাজাপুর ল্যাবরেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতা বাজার, ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে রয়েছে। হাজার হাজার পরিবারের আবাসন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই অবিলম্বে দক্ষিণ রাজাপুর ঢালীর খাল থেকে বিশ্বরোডের দক্ষিণ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক ফেলা দরকার।
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরের পল্লি চিকিৎসক আবদুল মালেকসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুরের মধ্যে ইলিশা ও মেঘনা নদীর মোহনা পড়েছে। আর বর্ষায় উত্তর মেঘনা থেকে নেমে আসা পানির স্রোত ভোলার উত্তরাংশের ভাঙনের জন্য দায়ী। এই স্রোত থেকে বিগত সময়ে ভোলাসহ দক্ষিণ রাজাপুরকে ঢালের মতো রক্ষা করেছে উত্তর রাজাপুর। কিন্তু উত্তর রাজাপুর বিলীন হওয়ার পর থেকে পানির স্রোত সরাসরি দক্ষিণ রাজাপুরে আঘাত হানছে।
ভোলা সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, উত্তরের স্রোতে গত ১০ বছরে ভোলা জেলার উত্তরের শিবপুর, ধনিয়া, কাচিয়া, পূর্ব ইলিশা ও রাজাপুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নের ২০টি মৌজার ১৫টি বিলীন হয়ে গেছে, যার জমির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার একর। পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চারটি মৌজার প্রায় সাত হাজার একর জমি বিলীন হয়েছে।
জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সাংসদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘পুরো ভোলাই ভাঙনকবলিত এবং ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। ভোলাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করব।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও ভোলা-৪ আসনের সাংসদ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, ভোলায় ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ফেরিঘাট অচল হয়ে পড়বে। যোগাযোগব্যবস্থা থমকে যাবে। ভোলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুশীল চন্দ্র সাহাও একই রকম কথা বলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভোলার উপসহকারী প্রকৌশলী ফজলে এলাহী বলেন, দক্ষিণ রাজাপুরের ঢালীর খাল থেকে বিশ্বরোডের দক্ষিণ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক ফেলতে হবে। নইলে দক্ষিণ রাজাপুর ও ইলিশাসহ ভোলার ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষা করা কঠিন হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা বলেন, ভোলার দক্ষিণ রাজাপুর-ইলিশা এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment