
ওত্তাচার করে হ্যান্ডকাপে জুলিয়ে আমাদেরকে নির্যাতন করা হয়। মানুষের মত মারে না, মনে হয় আমরা গরু, ছাগল। অন্যাই ছাড়া আমাদের হান্ডক্যাপে মারা হয়। তত্বাবধায়ক আনোয়ারুল করিম’
টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকের ভবনের পঞ্চম তলার জানালা দিয়ে কিশোরদের ছোড়া একটি চিরকুটের লেখা এটি। কেন্দ্রে থাকা কিশোরদের অনেকেই এভাবে চিরকুট লিখে পথচারীদের উদ্দেশে ছুঁড়ে মারছে। চিরকুটগুলোতে লেখা, কেন্দ্রে তাঁদের ওপর কী অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এ রকম একটি চিরকুট প্রথম আলো সংগ্রহ করে।
কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক এস এম আনোয়ারুল করিম। গতকাল বৃহস্পতিবারই সমাজসেবা মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ২০ কিশোর তাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার ও খাবারের কষ্টের কথা জানাতে নিজেদের দেহ কেটে ক্ষতবিক্ষত করে প্রতিবাদ জানায়। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পরে তারা এ ঘটনা ঘটায়। ওই দিনই টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে তাদের চিকিত্সা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে আজ সকালেও কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানের খোঁজ নিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন।
শাহ আলম ও কহিনুর বেগম কিশোরগঞ্জ থেকে এসেছেন ছেলে শাহাবুদ্দিনের খোঁজ নিতে। ছেলেকে দেখে আসার পর কেন্দ্রের মূল ফটকে শাহাবুদ্দিনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ওঠেন তাঁরা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলের দুই হাতে ২৪টা সেলাই। মাথায় ২০টা সেলাই। জিগাইলাম, বাবা এ রকম কীভাবে অইল? পুলায় কইল, “এত অত্যাচার আর সহ্য অয় না। নিজে নিজেই করছি”।’
টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকের ভবনের পঞ্চম তলার জানালা দিয়ে কিশোরদের ছোড়া একটি চিরকুটের লেখা এটি। কেন্দ্রে থাকা কিশোরদের অনেকেই এভাবে চিরকুট লিখে পথচারীদের উদ্দেশে ছুঁড়ে মারছে। চিরকুটগুলোতে লেখা, কেন্দ্রে তাঁদের ওপর কী অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এ রকম একটি চিরকুট প্রথম আলো সংগ্রহ করে।
কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক এস এম আনোয়ারুল করিম। গতকাল বৃহস্পতিবারই সমাজসেবা মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ২০ কিশোর তাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার ও খাবারের কষ্টের কথা জানাতে নিজেদের দেহ কেটে ক্ষতবিক্ষত করে প্রতিবাদ জানায়। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পরে তারা এ ঘটনা ঘটায়। ওই দিনই টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে তাদের চিকিত্সা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে আজ সকালেও কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানের খোঁজ নিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন।
শাহ আলম ও কহিনুর বেগম কিশোরগঞ্জ থেকে এসেছেন ছেলে শাহাবুদ্দিনের খোঁজ নিতে। ছেলেকে দেখে আসার পর কেন্দ্রের মূল ফটকে শাহাবুদ্দিনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ওঠেন তাঁরা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলের দুই হাতে ২৪টা সেলাই। মাথায় ২০টা সেলাই। জিগাইলাম, বাবা এ রকম কীভাবে অইল? পুলায় কইল, “এত অত্যাচার আর সহ্য অয় না। নিজে নিজেই করছি”।’
শাহ আলম ও কহিনুর বেগমের মতো কামরাঙ্গির চরের কিশোর সাজ্জাদের বাবা, রাজধানীর জোয়ার সাহারার কিশোর রিপনের বাবা জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক সন্তানের খোঁজ নিতে এসেছেন।
কিশোরদের সঙ্গে তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎ
হাইকোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা আজ কিশোরদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তাঁরা কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনে গণমাধ্যমের কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম জানান, কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। একজন চিকিত্সক আহত কিশোরদের পর্যবেক্ষণ করছেন।
হাইকোর্টের রুল
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে ‘২০ কিশোরের ভয়ংকর প্রতিবাদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা রোধে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অব্যবস্থাপনা রোধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
0 comments:
Post a Comment