
মেয়েটি সবেমাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে তার মায়ের চাকরি হয়েছে একটি এনজিওতে। বাবা থাকেন প্রবাসে। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। পড়ালেখার সুবিধার জন্য মেয়েটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার চাঁনপুর গ্রামে খালার বাড়িতে।
সেখানে পীর সৈয়দ বাহাউদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয় সে। এরপর যৌন হয়রানির শিকার হয় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম (৫০)। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মেয়েটির স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে গ্রামে সালিস বসলে অভিযোগ স্বীকার করে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর জীবনে এমন কাজ করব না।’ তবে স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, শুধু দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু মেয়েটি নয়, এর আগেও শিক্ষার্থীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছেন শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। এসব ঘটনার পরও এলাকার মানুষ ভয় ও নিজেদের সম্মানের কথা ভেবে এত দিন তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেনি।
গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, পীর সৈয়দ বাহাউদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের যৌন হররানির শিকার হয়েছে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী। যারা তার স্কুলেরই বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়া শিক্ষার্থী।
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা আত্মসম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি চেপে গেছেন। আবার অনেক সময় গ্রামের মোড়ল মাতবররা ওই শিক্ষকের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিকটিম শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সর্বশেষ দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েটির বিষটিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার মানুষ।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ রইছ উদ্দিন বলেন, ‘কী আর বলব। বিষয়টি নিয়ে আমরা লজ্জায় পড়ে গেছি। আগামী সোমবার চাঁনপুর গ্রামে ও মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা হবে। সেখানে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়েটির খালু বলেন, ‘ঘটনাটি মেয়েটির মাকে জানানো হয়েছে। গ্রামের লোকজনের কথা শুনে আমরা থানা পুলিশের কাছে যাইনি। তবে ওই শিক্ষকের বিচার চাই আমরা।’
0 comments:
Post a Comment