
দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে৷ সে কারণে এদেশে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে৷ সন্ত্রাসী এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ না করলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব নয়৷ যুদ্ধারাধীদের বিচারের পাশপাশি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা আমরা বার বার বলেছি৷ কিন্তু সরকার একবার প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছে নিষিদ্ধ করবে আবার বলছে এটা রাজনৈতিক দল৷
সরকারের সিদ্ধানত্মহীনতা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে৷ উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বিরোধী তিনদিনের রোডমার্চ কর্মসূচির প্রথমদিন শুক্রবার রাতে শহরের কাটনারপাড়ায় তন্ময় কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন৷
প্রশ্নঃ গণজাগরণ মঞ্চ হেফাজতের হামলার শিকার হয়েছিল৷ বগুড়াতেও হামলা হয়েছে৷ প্রশাসন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ এ প্রসংগে আপনার বক্তব্য কি?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ জামায়াত কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়৷ রাজনৈতিক সংগঠনের যে চরিত্র থাকার কথা জামায়াতের মধ্যে তার বিন্দুমাত্র নেই৷ এরা একটা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী; যারা দেশের স্বাধীনতায় বিরোধিতা করেছে৷
তাই জামায়াতে ইসলামী একটা সন্ত্রাসী সংগঠন৷ গণজাগরণ মঞ্চ মনে করে, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব নয়৷ যা সরকারকে বার বার বলা হয়েছে৷ কিন্তু সরকার একবার প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছে নিষিদ্ধ করবে আবার বলছে এটা রাজনৈতিক দল৷
সরকারের সিদ্ধানত্মহীনতা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে৷ তিনি বলেন, আজ দেখেন জামায়াত-শিবির সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুরো দেশকে সারাবিশ্বের কাছে হেয় করছে৷ বিশ্বের কাছে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ জামায়াতের এ চরিত্র অনেক পুরাতন৷ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর ১৯৫৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি করেছিল৷
বর্তমানে দেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসসহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পিছনে জামায়াতে ইসলামী৷ যেসব জঙ্গিবাদী সংগঠন সন্ত্রাস করছে তাদের হোতারা জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতা৷ এরা আফগান থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত৷ সুতরাং এ ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকার কথা নয় যে, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং এদেরকে রেখে আমাদের কাংখিত লৰ্যে পৌছা সম্ভব৷
এখন সে বিষয়টি সরকার ও রাষ্ট্রের যারা দায়িত্বশীল ও রাজনীতিকদের বোঝাতে হবে৷ বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত-শিবিরকে রেখে যে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা কিন্তু ভয়াবহ রূপধারন করছে৷ সুতরাং আজকে আমাদের কমিটমেন্ট করতে হবে, জামায়াত ছাড়া অন্য সকল দলকে ঐক্যমত্যে আনতে হবে৷
বোঝাতে হবে, জামায়াত বাংলাদেশের বিপৰে রাজনীতি করে৷ আমরা বলতে চাই জামায়াতের সাথে যারা সম্পর্ক রাখবে তাদেরকে বলতে হবে আমরা বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধি করেছি, মানুষ হত্যা করেছি৷ জামায়াতের কর্মকান্ডকে সমর্থন করি৷
তিনি আরও বলেন, আর যারা বিপৰে অবস্থান নিবে তাদের ক্লিয়ারলি বলতে হবে আমরা চাই বাংলাদেশে জামায়াত নামে কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না৷ কিন্তু মাঝামাঝি অবস্থান-একদিকে বলবেন সাম্প্রদায়িকতা রাজনীতি মুক্ত বাংলাদেশ চাই, আবার জামায়াত নিষিদ্ধের ৰেত্রে আপনি দোদুল্যমানতা, জামায়াতের ব্যাপারে কঠোর হবার ৰেত্রে সিদ্ধানত্মহীনতা, সেটা কিন্তু ভয়বহ রূপ ধারন করে ফেলেছে৷
সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের জোর দিতে হবে; সরকারকে বাধ্য করতে হবে, রাজনীতিবিদ বাধ্য করতে হবে যে এ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করে আজকেই বিষফোঁড়া ভেঙে ফেলতে হবে৷
প্রশ্নঃ গণজাগরণ মঞ্চের সাথে তরম্নণ প্রজন্ম বেশি৷ এখনও যারা আসছে না তাদের কি আপনারা উদ্বুব্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ সবমানুষ একসাথে কোন একটা বিষয়ে ঐক্যমতে আসবে তা নয়; আমরা কিন্তু বার বার বলেছি যারা দেশের পৰে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, শানত্মি চায় কেবল তাদেরই আসার আহবান জানিয়েছি৷ গণজাগরণ মঞ্চ কোন রাজনৈতিক দল নয়; এদের আন্দোলন কোন গোষ্ঠীর নয়৷ এটা গণমানুষের আন্দোলন৷
যারা মুক্তিযুদ্ধের পৰে যারা কাজ করে তারা প্রত্যেকে এগিয়ে আসবে৷ আমরা বলেছি যুদ্ধাপরাধীদেরকে বর্জন করে বাংলাদেশের তরম্নণ সমাজকে দাঁড়াতে হবে৷
প্রশ্নঃ কয়েকদিন আগে আপনি দেশের বাইরে যেতে চেয়েছিলেন? কিন্তু বিমানবন্দর থেকে আপনাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এটা কতটা সত্য?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ এটা সম্পূর্ণ ভূয়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ৷ একটা প্রপাগান্ডা৷ আমি কোনদিনই দেশের বাইরে যেতে চাইনি৷ আমি ফৌজদারী আদালতে আসামী নই৷ আমার বিরম্নদ্ধে কোন মামলা নেই৷ কোন অপরাধও করিনা৷ আমি বাইরে যেতে চাইলেও আমাকে তো না দেবার সুযোগ নেই৷ এটা সুস্পষ্টভাবে প্রপাগান্ডা৷
ওইদিন শাহবাগে ১১টা পর্যনত্ম সাংবাদিকদের সাথে আড্ডা দিয়েছি৷ আমরা যখন বড় কোন কর্মসূচি ঘোষণা করি তখনই শুরম্ন হয় প্রপাগান্ডা৷ তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর যখন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো তখন খেয়াল করে দেখবেন এমন প্রপাগান্ড শুরম্ন হয়৷
বলা হয় বিদেশ চলে যাচ্ছে; হামলার শিকার হয়েছে; পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে ইত্যাদি৷ আসলে গণজাগরণ মঞ্চ বিরোধীরা এসব আন্ডারগ্রাউন্ড অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে৷ দায়িত্বশীল কোন জাতীয় দৈনিকে এসব খবর আসেনা৷
এমরান সরকার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিরম্নদ্ধে শুধু ছোটখাট কন্সপ্রেসি হচ্ছে তাই নয়; এর আগেও ইংল্যান্ডের বহুল প্রচারিত গার্ডিয়ান পত্রিকা ভুল খবর প্রকাশ করেছিল৷ প্রেস ব্রিফিং করলে তারা দুঃখ প্রকাশ করে নিউজটি সরিয়ে নেয়৷ গার্ডিয়ানের মত পত্রিকায় ভুল খবর প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে৷
কয়েকদিন আগে ইকোনমিষ্ট ও নিউওয়র্ক টাইমস্ শাহবাগের আন্দোলনের ছবি সরকার বিরোধী আন্দোলনের বলে চালিয়ে দিয়েছিল৷ পরে তারাও দুঃখ প্রকাশ করেছে৷ তাই গণজাগরণ মঞ্চের বিরম্নদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না৷
প্রশ্নঃ বগুড়ায় প্রথমবারের মত এসেছেন; এখানে কেমন লাগছে? এখানকার মানুষ কেমন?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ আমি বগুড়ায় এসে অভিভূত৷ যা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি প্রগতিশীল আন্দোলন আছে এখানে৷ অনেক বেশি মানুষ আছেন যারা মুক্ত চিনত্মায় বিশ্বাস করেন; যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন৷ মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন৷ শুধু শহরে কেন্দ্রস্থল সাতমাথার সমাবেশ নয়; শেরপুর উপজেলাতেও হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এ রাতের বেলায়৷
সাতমাথায় তিনঘন্টা পর অনুষ্ঠান শুরম্ন হলেও শত শত মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন৷ যদিও এটা কোন রাজনৈতিক জমায়েত ছিলনা৷ সুতরাং আমরা মনে করি বগুড়ায় একটি বিরাট সম্ভবনার তৈরি হয়েছে৷
এখানে তরম্নন সমাজ মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল আন্দোলন গ্রহণ করেছে৷ তারা বিশ্বাস করে এদেশটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলবে৷ এই বার্তা কিন্তু সাতমাথার তরম্নণদের চোখে-মুখে দেখা গেছে৷ তিনি গণজাগরণ মঞ্চের সকল আন্দোলনে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বগুড়ার মানুষের সমর্থন প্রত্যাশা করে বলেছেন, আপনারা দেশের পৰে অবস্থান গ্রহণ করেন, আপনারা জামায়াত-শিবিরকে বর্জন করম্নন৷
প্রশ্নঃ বগুড়ায় আর কোন কর্মসূচি আছে কি?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ আপাতত বগুড়ায় আর কোন কর্মসূচি নেই৷ বগুড়ার নেতাদের সাথে আলাপ হয়েছে৷ এখানে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন জোরদার ও বেগবান করা হবে৷ শনিবার সকালে রোডমার্চের দ্বিতীয় দিন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি, রংপুরের মিঠাপুকুর, নিলফামারী, দিনাজপুরে পথসভায় অংশ নেয়া হবে৷ তৃতীয়দিন রোববার ঠাকুরগাঁয়ে সভা এবং ৰতিগ্রসত্ম এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হবে৷
প্রশ্নঃ বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ডাঃ ইমরান এইচ সরকারঃ বগুড়া শহরের সাতমাথায় গণজাগরণ মঞ্চের কাছে ও শেরপুরে গাড়ি বহরে বোমা হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি একদম তলানীতে এসে পেঁৗছেছে৷ তাদের অসত্মিত্বের শেষ পর্যায়ে এসেছে৷
এ কারণেই তাদের এই উন্মত্ততা৷ তারা যত হামলাই করম্নক সাধারণ মানুষ এ আন্দোলনের সাথেই থাকবে৷
এদিকে শনিবার সকাল পৌণে ৯টার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের রোড মার্চের গাড়িবহর বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া ত্যাগ করে৷ শুক্রবার রাতে সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের কাটনারপাড়ায় তন্ময় ও টিপটপ কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান করেন৷ পুলিশ তাদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করে৷
এরপরও রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিকটেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ বগুড়া ত্যাগের আগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত জেলার যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবুর শহরে শিববাটির বাড়িতে যান৷ সেখানে তিনি মরহুমের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যদের শানত্মনা দেন৷
অন্যদিকে গত শুক্রবার বিকালে শহরের সাতমাথায় গণজাগরণ মঞ্চের কাছে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক শহরের বাদুড়তলার আশরাফুল ইসলাম, ফারম্নক ও আবু নাসেরকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে৷
সদর থানার সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, এদের ১৫১ ধারায় চালান দেয়া হয়েছে৷ যদি তদনত্মে তাদের বিরম্নদ্ধে হামলার অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে চার্জশিট দেয়া হবে৷
0 comments:
Post a Comment