
‘আমরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সেই পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ করে দেবেন। সব দল যেন একটি অর্থবহ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সে জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। সমগ্র জাতি চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।’
২৩ জানুয়ারি, বিবৃতি
‘সমগ্র দেশবাসী ও বিরোধী দল যখন বিএনপির একদলীয় নীলনকশার নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাষণ বিদ্যমান সংকটকে তীব্রতর করবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য, স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর।’
২০১৩ সাল
১৮ আগস্ট, সংবাদ সম্মেলন
‘আমি সংবিধানে বিশ্বাস করি। যা হবে সংবিধান মোতাবেক হবে। তার থেকে এক চুলও নড়া হবে না।’
১৮ অক্টোবর, জাতির উদ্দেশে ভাষণ
‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গণতন্ত্রকে একটি সুদৃঢ় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হবে যখন তা সাংবিধানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।...২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের মতো কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকের ওপর চেপে বসে, তখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্র-পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ সবার ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। এ ধরনের অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি আর কখনোই হবে না—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।’
২ জানুয়ারি, ২০১৪ দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ
‘অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল আর জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অসুস্থ ধারাকে চিরতরে বন্ধ করার জন্য জাতীয় সংসদ বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই একটি স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে নয়।...একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলাম। তাই, সাংবিধানিকভাবেই আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
১৯৯৬ সাল
‘আসন্ন নির্বাচন হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করার নির্বাচন।... সংবিধান অনুযায়ী যদি যথাসময়ে নির্বাচন করা সম্ভব না হয় তবে দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াসহ গণতন্ত্রও বিপন্ন হবে। সংবিধান রক্ষার স্বার্থে বাধ্য হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে।...সংবিধান অনুযায়ী যতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব ততটুকু দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সংবিধান মেনে চলতে বাধ্য।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলের দাবির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করলেও কোনো অনির্বাচিত এবং মনোনীত ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারি না। এমনকি রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য রাষ্ট্রীয় সংবিধান লঙ্ঘন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের বিদ্যমান পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতে হবে। আর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’
৮ ফেব্রুয়ারি, ফেনীতে জনসভা
‘হরতাল-ধর্মঘট-সন্ত্রাস করে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
২০১৩ সাল
১৯ আগস্ট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ
‘আন্দোলনের বাতাস শুরু হলে চুল তো থাকবেই না, অস্তিত্বেও টান পড়তে পারে। জনগণের আন্দোলনের বাতাসে চুল এলোমেলো হয়ে যাবে। দিশেহারা হয়ে যাবেন।’
২০ অক্টোবর, সমর্থক পেশাজীবীদের সম্মেলন
‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কোনো ছাড় দেব না। শেখ হাসিনার অধীনেও নির্বাচনে যাব না। আপনারা পাশে থাকুন বা না থাকুন, আমি একলা হলেও দাবি আদায় করে ছাড়ব। আমার অবস্থান থেকে আমি নড়ব না।’
৩ জানুয়ারি, ২০১৪ ভিডিও বার্তা
‘আমি দেশবাসীকে নির্বাচনের নামে ৫ জানুয়ারির এই কলঙ্কময় প্রহসন পুরোপুরি বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রহসনকে দেশে-বিদেশে কোথাও কেউ নির্বাচন হিসেবে বৈধতা দেবে না। এর মাধ্যমে বৈধতার খোলস ছেড়ে অবৈধ মূর্তিতে আবির্ভূত হবে আওয়ামী লীগ সরকার।
0 comments:
Post a Comment