নতুন কাঠামোয় মজুরি দেওয়াসহ নানা দাবিতে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম ইপিজেডে সেকশান সেভেন নামের দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এ সময় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
গুলিবিদ্ধ শ্রমিকেরা হচ্ছেন মো. হাসিব (১৮), রুনা (১৮), সালমা বেগম (১৯) ও আবুল কালাম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আবুল কালামের অবস্থা গুরুতর।
পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বর্ণনায় জানা যায়, সেকশান সেভেন লিমিটেড ও সেকশান সেভেন অ্যাপারেল লিমিটেড নামের কারখানা দুটিতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। জানুয়ারি মাসেও পুরোনো মজুরি কাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে জানতে পেরে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে জানান, গত ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার কথা। বেতন বাড়ানোর অজুহাতে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি কাজও আদায় করে নিচ্ছে; অথচ এ মাসেও তাঁদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে না। গতকাল সকালে এ বিষয়ে জানতে তাঁরা সেকশান সেভেন লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কাছে যান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সদুত্তর দিতে না পারায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার বাইরে অবস্থান নেন। এ সময় কর্তৃপক্ষ ভেতর থেকে কারখানার ফটক বন্ধ করে দিলে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর জানান, উত্তেজিত শ্রমিকেরা কারখানার বাইরে থেকে ভাঙচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে সেকশান সেভেন অ্যাপারেল লিমিটেডের শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় তাঁরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। প্রথম দফায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শ্রমিকেরা আবারও পুলিশের ওপর হামলা চালান। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প পুলিশের ১০ জন সদস্যও আহত হন। তিনি আরও জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ শেষে বেপজা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় গতকাল দুপুরে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে মালিকপক্ষ আগামী নয় তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন কাঠামোয় বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে।

0 comments:
Post a Comment