Sporty Magazine official website |

টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ!

Wednesday, January 22, 2014

Share this history on :
‘তিন জমিদারের’ বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। তিন জমিদার ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ‘প্রজাদের’ বাকি সবাই। যদিও খবরটি ফাঁস করা ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্যেই।
প্রস্তাবিত ২১ পাতার খসড়ায় অনুচ্ছেদ আছে ছয়টি। ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর পয়েন্টের শিরোনাম—‘আইসিসি র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম’। এখানেই বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সময়কালে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে খেলতে হবে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। আইসিসির শীর্ষ সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের টুর্নামেন্ট এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। বর্তমান টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দশে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৮২, সাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৭। বছর শেষেও যে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ নয় ও দশ নম্বরে থাকবে, সেটি নিশ্চিতই। টেস্ট ক্রিকেটের বদলে এই দুই দেশকেই তাই চার দিনের ম্যাচ খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। সর্বশেষ (২০১৩) এই টুর্নামেন্টে খেলেছে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, আরব আমিরাত, নামিবিয়া, কানাডা, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস। সহযোগী এই আট দেশের সঙ্গে এখন শিরোপা যুদ্ধে নামতে হবে পূর্ণ সদস্য দুটি দেশকে!
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে শিরোপাজয়ী দল এরপর চ্যালেঞ্জ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে ওই সময় টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা দলের বিপক্ষে। দুটি করে টেস্ট ম্যাচের দুটি সিরিজ হবে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে। এই চ্যালেঞ্জ সিরিজে জয়ী দেশ অষ্টম দল হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে টেস্ট ক্রিকেট। হেরে যাওয়া দলকে খেলতে হবে পরবর্তী ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। ২০১৫ থেকে ২০২৩, এই আট বছর সময়কালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ হবে দুটি। নতুন নিয়মের প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা নির্ধারিত হবে ২০১৯ সালে। এ বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্তত আর টেস্ট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে বাংলাদেশ যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ও, টেস্ট আঙিনায় ফেরা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে চ্যালেঞ্জ সিরিজের ওই চার টেস্টেই। চার বছর পর টেস্টে ফিরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজে টেস্টের ৮ নম্বর দলকে হারানো হবে অসম্ভবের কাছাকাছি। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল, চ্যালেঞ্জ সিরিজও জিতে টেস্ট ক্রিকেটে আবার উত্তরণ হলো বাংলাদেশের। কিন্তু তখনো কয়টি টেস্ট খেলতে পারবে, সেই সংশয় থাকবেই। এফটিপি বাতিল হয়ে গেলে টেস্ট খেলার জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে অন্য দেশের দয়ার ওপর। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলে উঠে আসা দেশের জন্য অন্য দেশের কাছ থেকে সেই ‘দয়া’ আদায়ও খুব একটা সহজ হবে না। টেস্টে উত্তরণ হলেও তাই টিকে থাকা হবে দুরূহ।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ওপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার খড়্গ নেমে আসছে আগামী বছরই। তবে অদূর ভবিষ্যৎ ভাবলে শঙ্কায় থাকবে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটে ঘোরাফেরা তো তাদেরই। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল যদি তাদের হারিয়ে দেয়, কী হবে ভাবুন! হয়তো দেখা যাবে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান, আর ১৯২৮ সাল থেকে টেস্ট খেলে আসা, সত্তর-আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ! শঙ্কায় আসলে ‘তিন জমিদার’ ছাড়া বাকি সব দেশই। চার বছর পর তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকতে পারে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলও। কিংবা কে জানে, ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় চার বছর পর আটে নেমে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকেও তখন খেলতে হতে পারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে!
দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা তাই এককাট্টা হচ্ছে প্রস্তাবের বিপক্ষে। বাংলাদেশ কী ভাবছে? আপাতত এটা নিয়ে কথা বলতে নারাজ বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটি খুবই সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) একটি ইস্যু। প্রস্তাবটি বিস্তারিত পড়া ও আলোচনার ব্যাপার আছে। ২৩ জানুয়ারির (আগামী কাল) বোর্ড সভায় আলোচনা হবে, এরপর হয়তো মন্তব্য করা যাবে।’
বাস্তবতা হলো, টেস্ট পরিবারের নবীনতম সদস্য বাংলাদেশের পক্ষে একা কিছু করা সম্ভব নয়। আশার কথা, ওই তিন দেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোও নিশ্চয়ই এটি চাইবে না। নিউজিল্যান্ড যদিও বিস্ময়করভাবে সমর্থন দিয়েছে প্রস্তাবকে, তার পরও বাকি ছয় টেস্ট খেলুড়ে দেশ এককাট্টা থাকলে ভোটাভুটিতে হালে পানি পাবে না প্রস্তাব। বাংলাদেশের একমাত্র আশা এখন ভোটযুদ্ধের জয়ই।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment