Sporty Magazine official website |

স্মিথ-হ্যাডিনে অস্ট্রেলিয়া চালকের আসনে

Saturday, January 4, 2014

Share this history on :

প্রথম দু’দিন চালকের আসনে থেকেও সাড়ে তিন দিনেই হেরেছিল ইংল্যান্ড। সিডনিতেও চিরন্তন সেই আক্ষেপ নিয়ে প্রথম দিন শেষ করলেন কুকরা। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে দুর্দান্ত শুরুর পরও ম্যাচের লাগাম ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। মাত্র ৯৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পরও দিনশেষে সেই অস্ট্রেলিয়াই সুবিধাজনক অবস্থানে। শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ত্রাতা স্টিভেন স্মিথ ও ব্র্যাড হ্যাডিন এবং ইংলিশ পেসার বেন স্টোকস। মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা স্টোকসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং কাঁপিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু ঘরের মাঠে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি করে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচিয়ে দেন স্মিথ। আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন দুরন্ত ফর্মে থাকা ব্র্যাড হ্যাডিন। স্টোকসের ছয় উইকেট সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ৩২৬ রানে। জবাবে এক উইকেটে আট রানে প্রথম দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড। নয় উইকেট হাতে নিয়ে ৩১৮ রানে পিছিয়ে তারা। রানের খাতা খোলার আগেই মাইকেল কারবেরিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিচেল জনসন। অ্যালিস্টার কুক সাত ও জেমস অ্যান্ডারসন এক রানে ব্যাট করছেন। সিরিজে ৪-০-তে এগিয়ে থাকায় দলে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু মান বাঁচানোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ড নেমেছে তিন অভিষিক্তকে নিয়ে। পেসার বয়ড র‌্যানকিন, স্পিনার স্কট বোর্থউইকের মতো মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান গ্যারি ব্যালান্সের টেস্ট অভিষেক হল কাল। সাত ওভারে ৪৯ রান দিয়ে এক উইকেট পেয়েছেন বোর্থউইক। কিন্তু টেস্ট আঙিনায় র‌্যানকিনের প্রথম দিনটা কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। ৮.২ ওভার বল করেও উইকেটের দেখা পাননি। উল্টো হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে দু’বার মাঠ ছাড়তে হয়েছে আইরিশ বংশোদ্ভূত এই পেসারকে। অভিষিক্তরা আলো ছড়াতে না পারলেও আগুন ঝরিয়েছেন স্টোকস। ৯৯ রানে নিয়েছেন ছয় উইকেট। এর মধ্যে শেষ ওভারেই পেয়েছেন তিন উইকেট। এছাড়া ব্রড দুটি ও অ্যান্ডারসন পেয়েছেন এক উইকেট। সিডনির সবুজ উইকেটে সিরিজে প্রথমবারে মতো টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দু’বার ভাবেননি কুক। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে সময় নেননি ইংলিশ পেসাররা। ব্রড, স্টোকস ও অ্যান্ডারসনের ত্রিমুখী আঘাতে লাঞ্চের আগেই চার উইকেট খুইয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম সেশনে ওয়াটসন (৪৩) ছাড়া কেউই সুবিধা করতে পারেননি। মধ্যাহœ বিরতির ঠিক পরই দুঃসময় দীর্ঘায়িত করে ব্রডের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন বেইলি (১)। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর তখন ৯৭/৫। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে হ্যাডিনের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্মিথ। এই জুটিতে টানা পাঁচ টেস্টে প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েন হ্যাডিন। সিরিজের ৬৬.৪২ গড়ে তার সংগ্রহ ৪৬৫ রান। ব্যক্তিগত ৭৫ রানে হ্যাডিনকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন স্টোকস। পরে জনসনকে (১২) নিয়ে ৪৪ ও রায়ান হ্যারিসের (২২) সঙ্গে ৫৬ রানের আরও দুটি কার্যকর জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২৬-এ পৌঁছে দেন স্মিথ। ১৭ চার ও এক ছয়ে ১৫৪ বলে ১১৫ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। একই ওভারে প্রথম দু’বলে হ্যারিস ও সিডলকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন স্টোকস। কিন্তু পরের বলটি ঠেকিয়ে দেন লায়ন। এর আগে চার মেরে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্মিথ। তিনটি সেঞ্চুরিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্রিকইনফো। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস রান বল ৪ ৬ রজার্স ব স্টোকস ১১ ৩৯ ১ ০ ওয়ার্নার ব ব্রড ১৬ ২০ ৩ ০ ওয়াটসন এলবিডব্ল– ব অ্যান্ডারসন ৪৩ ৫৯ ৭ ০ ক্লার্ক ক বেল ব স্টোকস ১০ ২৯ ১ ০ স্মিথ ক বদলি ব স্টোকস ১১৫ ১৫৪ ১৭ ১ বেইলি ক কুক ব ব্রড ১ ৮ ০ ০ হ্যাডিন ক কুক ব স্টোকস ৭৫ ৯০ ১৩ ০ জনসন ক বদলি ব বোর্থউইক ১২ ৩২ ০ ০ হ্যারিস ক অ্যান্ডারসন ব স্টোকস ২২ ২৭ ২ ১ সিডল ক বেয়ারসটো ব স্টোকস ০ ১ ০ ০ লায়ন নটআউট ১ ৩ ০ ০ অতিরিক্ত ২০ মোট (অলআউট, ৭৬ ওভারে) ৩২৬ উইকেট পতন : ১/২২, ২/৫১, ৩/৭৮, ৪/৯৪, ৫/৯৭, ৬/২২৫, ৭/২৬৯, ৮/৩২৫, ৯/৩২৫, ১০/৩২৬। বোলিং : অ্যান্ডারসন ২১-৩-৬৭-১, ব্রড ১৯.৫-৫-৬৫-২, স্টোকস ১৯.৫-১-৯৯-৬, র‌্যানকিন ৮.২-০-৩৪-০, বোর্থউইক ৭-০-৪৯-১। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস রান বল ৪ ৬ কুক নটআউট ৭ ১৭ ১ ০ কারবেরি ক লায়ন ব জনসন ০ ৯ ০ ০ অ্যান্ডারসন নটআউট ১ ১০ ০ ০ অতিরিক্ত ০ মোট (১ উইকেটে, ৬ ওভারে) ৮ উইকেট পতন : ১/৬। বোলিং : হ্যারিস ৩-১-৫-০, জনসন ৩-১-৩-১।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment