
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) আলোচনাসভায় আরও জানানো হয়, অঙ্গ হারানো শ্রমিকেরা কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েও স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। সার্বিকভাবে এতিম শিশুদের সাহায্য করা যায়নি।
আজ রোববার সিপিডি ওই আলোচনাসভার আয়োজন করে। সেখানে ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, রানা প্লাজার ধসের পর সরকার, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কাজ হয়েছে তার তুলনায় অনেক কম। আবার যা হচ্ছে, তা বিচ্ছিন্নভাবে। তবে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা এনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলেই কেবল সামগ্রিকভাবে এগোনো যাবে ।
বক্তারা বলেন, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ সঠিকভাবে নিতে হলে শিগগিরই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এজন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রমসচিব মিকাইল শিপার। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিলসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, তাজরীন ফ্যাশন ও রানা প্লাজা ধসের পরে পোশাক কারখানায় অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে সরকারের গৃহীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার ২৫টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সাতটি পূরণ হয়েছে। পাঁচটি পূরণের পথে। তবে ১২টির ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম রানা প্লাজা ধসের পর বিজিএমইএর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, অ্যার্কড ও অ্যালায়েন্স যেভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে তাতে দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। তারা বলছে, শেয়ারড ভবনে গড়ে ওঠা কারখানা বন্ধ করে দিতে। এমনটি করলে আগামী আগস্টের মধ্যে সব কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে রাজনীতি ঢুকে গেছে। কীভাবে বাংলাদেশ থেকে এই ব্যবসা চলে যাবে, সেই রাজনীতি।
তবে বিজিএমইএর সভাপতির বক্তব্যের বিরোধিতা করে শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার বলেন, ‘আমরা আর কোনো রানা প্লাজা চাই না। সেজন্য অ্যার্কড ও অ্যালায়েন্সের মতো কঠিন কিছু এলেও তাঁকে স্বাগত জানানো দরকার। এজন্য কোনো কারখানা বন্ধ হবে না।’ তিনি বলেন, ২০১০ সালে মজুরি বাড়ানোর পর মালিকেরা বলেছিলেন, কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এবারও বলেছেন। কিন্তু এজন্য কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যায়নি।
শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, কারখানা পরিদর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। এ ছাড়া অ্যার্কড ও অ্যালায়েন্সের বাইরে থাকা দেড় হাজার কারখানা পরিদর্শন করতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এজন্য যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা অর্থায়ন করছে। তিনি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার থেকে কিছু করতে হলে আইন ও বিধিবিধান মানতে হয়। সেজন্য কিছু সময় লাগে। এটি তো দিতে হবে। শ্রমসচিব জানান, ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ১৩৬ বা ১৩৮ জনকে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭৭ জন শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment