Sporty Magazine official website |

মানিকগঞ্জে ছাই থেকে সোনা

Wednesday, January 22, 2014

Share this history on :
‘যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো মানিক ও রতন’ এই কবিতাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম, দাশারহাটি ও গোবিন্দল গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার।ছাই থেকে সোনা খুঁজে বের করার এই অসম্ভব কাজটি তারা প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে করে আসছেন। তিন গ্রামের এদেরকে কেন্দ্র করেই সপ্তাহে একদিন চারিগ্রামে বসে সোনার হাট। এখান থেকে পাইকারী ও খুচরা সোনা বিক্রি করা হয়।
পৈত্রিক পেশা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সোনা তৈরির কাজ করে আসা দাশারহাটি গ্রামের বদর উদ্দিন (৫৫) জানান, তার বাবা ও দাদা এ কাজ করেই সংসার চালাতেন। তিনি হ্যালোটুডে ডটকমকে জানান, চারিগ্রাম, দাশারহাটি ও গোবিন্দল গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত।
একই গ্রামের ফজল হক হ্যালোটুডে ডটকমকে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানের স্বর্ণের দোকানের পরিত্যক্ত ছাই তারা কিনে আনেন। সেই ছাই পুড়ে ধুলোতে রূপান্তর করা হয়। সেই মিহিন ধুলার সাথে সোহাগা, ব্যাটারির শিশা ও পুনট দিয়ে ছোট ছোট পিন্ডি (দলা) বানানো হয়। তারপর শুকনো দলাগুলো আগুনে গলিয়ে পিচ বানিয়ে ঢেকিতে পাড় দিতে হয়। তা গুড়ো করে মাটির গর্তে চুন ও ধানের তুষ দিয়ে পুড়িয়ে শিশা বের করতে হয়। তারপর ছাকনি দিয়ে ঝেঁকে পানিতে ধুয়ে শিশা আলাদা করা হয়। একটি পাত্রের মধ্যে নাইট্রিক এসিড দিয়ে শিশা থেকে লেগে থাকা স্বর্ণ আলাদা কর হয়।
ফজল জানান, স্বর্ণের দোকানের ওই পরিত্যক্ত ছাইয়ের মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি স্বর্ণ থাকে। দোকানের আকার ভেদে সেই ছাই মাটি ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম দিয়ে কিনতে হয়। এই ছাই মাটি থেকে ১ আনা থেকে শুরু করে ১০ ভরি পর্যন্ত সোনা পাওয়া যায়।
চারিগ্রামের স্বর্ণকারপট্টির ব্যবসায়ী কাজল হ্যালোটুডে ডটকমকে জানান, চারিগ্রামে গড়ে ওঠা স্বর্ণের বাজারে প্রায় ৩০/৪০ টি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। ওদের তৈরি সোনা এই ব্যবসায়ীরা কিনে থাকে।
গোবিন্দল গ্রামের সোনার কারিগর শাজাহান হ্যালোটুডে ডটকমকে জানান, তবে কেমিক্যালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন লাভ একটু কম হচ্ছে।
স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ছাই মাটি কিনে আনার সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীন হ্যালোটুডে ডটকমকে জানান, বংশ পরম্পরায় এই গ্রামের মানুষগুলো ছাই থেকে সোনা বানানোর কঠিন কাজটি করে আসছে। নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি তারা দেশের অর্থনীতিতে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকার সাপোর্ট। তবে এদের প্রয়োজন সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা।
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এদের চাওয়া বংশপরম্পরার এই কাজটি যেন তারা কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই করতে পারে। যেন এদের শিল্পটি বেঁচে থাকে আরো হাজার বছর।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment