
ভোলা প্রতিনিধি: দুলাভাই’র ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শ্যালিকা। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে পেটে ছুরিসহ শঙ্কাজনক অবস্থায় তাসলিমা (২০) নামে ওই শ্যালিকাকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরমোল্লাজী গ্রামের রাঢ়ী বাড়ির মৃত জালাল আহমেদের মেয়ে তাসলিমার বিয়ে ঠিক হয় লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের এক লোকের সাথে। এ খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় চরফ্যাশন থেকে তাসলিমার ভগ্নিপতি মোসলেহ উদ্দিন বাড়িতে এসে তাসলিমাকে নিয়ে ঘরের বাইরে পার্শ্ববর্তী জমাদার বাড়ির ছিদ্দিক মাঝির ঘরে নিয়ে যায়।
সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে তাসলিমার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় মোসলেহ উদ্দিন। তাৎক্ষণিক তাসলিমাকে লালমোহন হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার পেট থেকে ছুরি বের করতে পারেনি। পরে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় লালমোহন থানায় তাসলিমার বড় ভাই শাহজাহান বাদী হয়ে ভগ্নিপতি মোসলেহ উদ্দিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার মিজানুর রহমান।
এদিকে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তাসলিমার বড় বোন কুলসুমের বিয়ে হয় চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর এলাকার মোসলেহ উদ্দিনের সাথে। তারা চট্টগ্রাম থাকেন। তাসলিমাকেও সেখানকার একটি গার্মেন্টসে চাকরী দেয় তাঁরা। এ সময় তাসলিমা ও ভগ্নিপতি মোসলেহ উদ্দিনের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
গত ২০-২৫ দিন আগে তাসলিমা বাড়িতে আসলে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। এ খবর পেয়ে মোসলেহ উদ্দিন সোমবার রাতে তাদের বাড়িতে এসে তাসলিমাকে তার সাথে যেতে বলে। তাসলিমা যেতে রাজী না হওয়ায় তাকে ছুরিকাহত করে মোসলেহ উদ্দিন।
তবে তাসলিমার বড় ভাই শাজাহান বলেন, বড় বোনকে ঠিকমত খোরপোষ না দেয়ায় প্রতিবাদ করতো তাসলিমা। এতে ক্ষুব্দ ছিল মোসলেহ উদ্দিন। সোমবার আমাদের ঘর থেকে কথা শুনার জন্য মোসলেহ উদ্দিন তাসলিমাকে ডেকে পার্শ্ববর্তী জমাদার বাড়ির ছিদ্দিক মাঝির ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাসলিমার পেটে ছুরি বসিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় মোসলেহ উদ্দিন।
লালমোহন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সন্তোস কুমার আমাদের বলেন, পেটে ছুরি বের করা যায়নি। বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাকে রেফার্ড করা হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment