জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে আন্দোলন করেছে। হরতাল-অবরোধের নামে সারাদেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর মাঝে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর জামায়াত-শিবির দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা চালায়। এই দুই মাসের আন্দোলনে সারাদেশে সংঘর্ষে এবং গাড়িতে দেওয়া আগুনে পুড়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
এত কিছুর পরেও জাতীয় সংসদের নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি ১৮ দলীয় জোট। নির্বাচন ঠেকাতে লাগাতার অবরোধের মাঝে নির্বাচনের আগের দিন থেকে হরতাল নির্বাচনের দিন পরদিন ভোর পর্যন্ত হরতাল আহবান করে। ৫ জানুয়ারির ভোট ঠেকাতে গিয়ে এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এদিন অনেকেই নিহত হয়েছেন। তবুও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট বাতিলের দাবিতে ৫ জানুয়ারি বিকালে আবারও ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটাই ছিল সর্বশেষ হরতাল।
এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের আন্দোলনে ভাটা পড়ে। এর সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার এবং নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে হরতাল-অবরোধ থেকে সরে আসে জোটটি।
এদিকে দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনের ফাঁসির রায় হয়। এই রায়কে বিএনপি রাজনৈতিক বললেও কোনো কার্যক্রম ঘোষণা করেনি। আর নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
0 comments:
Post a Comment