বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংসদ এখন সার্কাস দলের প্যান্ডেলে পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, এরশাদ, রওশন এরশাদ, আনিসুল হক মাহমুদ ও সরকারের কিছু লোকজন ‘জোকারের’ মতো ‘সং’ সেজে ছলচাতুরি করে যাচ্ছেন।
আজ শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ঢোলরহাট ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
এরশাদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন ভোটে গেলে জনগণ তাঁকে থুতু দেবে। আবার না গেলেও থুতু দেবে। তিনি যে ছলাকলা দেখিয়ে ভোট করলেন, দেশের মানুষ এখন তাঁকে ‘থুতু বাবা’ নামে ডাকে।
আজ শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ঢোলরহাট ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
এরশাদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন ভোটে গেলে জনগণ তাঁকে থুতু দেবে। আবার না গেলেও থুতু দেবে। তিনি যে ছলাকলা দেখিয়ে ভোট করলেন, দেশের মানুষ এখন তাঁকে ‘থুতু বাবা’ নামে ডাকে।
বিএনপি কিংবা ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা কখনো সাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বরাবরই একটি সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসী দল। তারা সব সময় সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে চায়। তারাই এ দেশে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে শান্তিতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। যে ভোট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই ভোটে নির্বাচিত সরকারের নৈতিক ভিত্তি নেই। বিদেশি রাষ্ট্রও তাদের বৈধতা দেয়নি। এই সরকার জনগণের সরকার নয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সব মানুষ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন সব বিজ্ঞ, সুশীল ও সম্মানী মানুষও একতরফা নির্বাচন বন্ধ করে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাঁদের কথায় কান না দিয়ে ভোটের আয়োজন করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকার পরও জনগণ ভোট দিতে গেল না, শতকরা পাঁচ ভাগেরও কম ভোট পড়ল। এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে যে তারা জনগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভোট দিতে না যাওয়ায় সরকারের লোকজন এখন জনগণের ওপর রাগ করেছে। সেই রাগেই তারা জনগণের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও হয়রানি করে দেশে অশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সকল দল যাতে অংশ নিতে পারে, এমন একটি নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। আর ওই নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।’
মির্জা ফখরুল প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে করা মামলা তুলে নেন। এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিম একই বৃন্তের দুটি ফুলের মতো বসবাস করছে—এ সম্পর্ক নষ্ট হতে দেবেন না।
নেতা-কর্মীদের প্রতি মির্জা ফখরুল বলেন, বুকে সাহস নিয়ে দেশের কাজ করুন। অন্যায়-নির্যাতন চিরদিন পরাজিত হয়েছে। নির্যাতন করে এই সরকারও বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবদুল জব্বার। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

0 comments:
Post a Comment