
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়কে প্রহসনের বিচার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রায়ের পর আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এই মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা এই অস্ত্র আটক করল, তাদেরই বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হলো। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ রায় বিএনপিকে ধ্বংস করার মহাপরিকল্পনার অংশ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে একটিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
চোরাচালানের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫২ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় একই সঙ্গে এঁদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। অস্ত্র আইনে করা মামলায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় আসামি ছিলেন ৫০ জন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত মামলার ৩৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। এঁদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ঘাটের শ্রমিক।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়। গতকাল বিচারক দুটি মামলার রায় একসঙ্গে ঘোষণা করেন।
0 comments:
Post a Comment