
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর পাড়ের তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা গ্রামের মনোহর আলী মাস্টারের পাখিবাড়ির অভয়াশ্রমে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছিল।
বাড়ির লোকজন টের পেয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনজন শিকারিকে ধরে একটি ঘরে আটকে রাখে। আটক ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফয়ছল আহমদ (৩০), আবদুল বাছিত (২৫) ও সুমন আহমদ (২৫)।
তাঁদের কাছ থেকে একটি এয়ারগান, গুলিবিদ্ধ তিনটি লেনজা হাঁস ও একটি সাদা বক উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মো. আমিনুর রহমানকে জানানো হয়। ইউএনও গতকাল রোববার সকালে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বড়লেখা থানায় নিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া শিকারিরা গুলিবিদ্ধ অনেক অতিথি পাখি নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাল্লা পাখিবাড়ির শাহরিয়ার আহমদ জানান, সারা বছরই পাখিবাড়িটি দেশি-বিদেশি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে। কিন্তু শীতের সময় অতিথি পাখির সংখ্যা বেড়ে যায়। পাখিরা দিনভর হাওরের বিভিন্ন বিলে খাবার খেয়ে সন্ধ্যায় অভয়াশ্রমে ফিরে আসে। বাড়ির লোকজন পাঁচ-ছয় বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের মতো পাখিদের দেখাশোনা করছেন।
ইউএনও গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদল লোক পাখি শিকার করতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে আমাকে খবর দেয়। পরে পুলিশ পাঠিয়েছি। বন বিভাগের লোকজন মামলা দেবে।’
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মৌলভীবাজারের রেঞ্জার মো. ইমাম উদ্দিন গতকাল জানান, পাখি হত্যার ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
0 comments:
Post a Comment