Sporty Magazine official website |

কে দেবে কিশোরী কুমারী মায়ের স্বীকৃতি?

Sunday, January 19, 2014

Share this history on :
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: নিতানত্মই পেটের দায়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করত ১৪ বছর বয়সী কিশোরী৷ আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল তার৷
দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তির আশায় মানুষের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মাথায় নিতে হয়েছে কুমারী মাতৃত্তের আরেক অভিশাপ৷ অথচ দেশ-সমাজ-আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘটনার খলনায়ক ৬৫ বছর বয়সী ইমান হোসেন মাল নামের নরপিশাচ৷
কে আদায় করে দেবে নবজাতকের পিতৃ পরিচয়? কে দেবে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কুমারী মায়ের স্বীকৃতি? কিংবা শাসত্মি পাবে কী মানুষ নামের ওই অমানুষ ইমান হোসেন মাল? ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বলছিলেন মানবাধিকার নেত্রী অ্যাড. রওশন আরা বেগম৷
বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সদ্যজাত শিশু ও তার কুমারী মাকে দেখতে গিয়ে কথাগুলো বলেন তিনি৷ পাশে অঝোরে কাঁদছিলো সদ্য মা হওয়া কিশোরী৷ সনত্মান জন্ম দেওয়ার আনন্দের চেয়ে নিজের, সনত্মানের স্বীকৃতি আর সমাজে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তাই যার মনে বেশি প্রভাব ফেলছিল৷
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চরভয়রা বেপারী কান্দী গ্রামের প্রভাবশালী ইমান হোসেন মালের (৬৫) বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করত ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েটি৷ গত বছর মার্চ মাসে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়৷ তারপর মেয়েটিকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়৷ পরবর্তীতে অনত্মঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানায় ইমান হোসেন মালের কু-কর্মের কথা৷
লম্পট ইমান মাল স্থানীয় প্রভাবশালী সাত্তার বেপারী ও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটনের নেতৃত্বে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালায়৷ সালিশকারীরা মেয়েটির পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়৷
কিন্তু মেয়েটির মা তার কিশোরী মেয়ের স্বীকৃতি দাবিতে অনড় থাকে৷ অবশেষে গত ২০ অক্টোবর ডামুড্যা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন
মেয়েটির দিনমজুর বাবা৷ মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ইমান হোসেন মাল পলাতক রয়েছে৷
ঘটনাটি জানার পর মেয়েটির সহায়তায় এগিয়ে আসে বেসরকারি সংগঠন এসডিএস এর গার্লস পাওয়ার প্রকল্পের কর্মীরা৷ মেয়েটির চিকিত্‍সার যাবতীয় খরচ বহন করার পাশাপাশি সার্বিক সহায়তা করা হয় গার্লস পাওয়ার এর পক্ষ থেকে৷
বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে পুত্র সনত্মানের জন্ম দেয় ১৪ বছর বয়সী কিশোরী৷ কিন্তু মা ও শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রম্নত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়৷
মেয়েটির মা বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ৷ অভাবের সুযোগ নিয়ে লম্পট ইমান হোসেন আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে৷ এখন আমার মেয়ে সমাজে কিভাবে বাঁচবে, আর শিশুটিই বা কোন পরিচয়ে বড় হবে?
মেয়েটির বাবা বলেন, মামলা করার পর থেকে ইমান হোসেনের ছেলেরা আমাকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে৷ মামলা প্রত্যাহার ও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে৷
পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়েছিল৷ সালিশে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে মেয়েটির পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নিদের্শ দেয়া হয়৷
মেয়েটির পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী মানবাধিকার নেত্রী অ্যাড. রওশন আরা বলেন, ইমান হোসেন মালের মতো বিকৃত মানসিকতার নরপিশাচকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি৷ তার মতো লম্পট পুরম্নষ কোনো সমাজই আশা করে না৷
আমি এই এলাকার সর্বসত্মরের মানুষকে অনুরোধ করব অসহায় ওই কিশোরীর পাশে দাঁড়াতে৷ সবাই এক হলে ইমান হোসেনের মত অভিশপ্তরা সমাজ থেকে নির্মূল হতে বাধ্য৷
ডামুড্যা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আশরাফুল আমিন বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে৷ অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে৷
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment