
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বেলা ১১টা থেকে বেদখল হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে শিক্ষর্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা শহীদ আজমল হোসেন হল দখল করতে হল অভিমুখে যাত্রা করে। তবে পুলিশ সদরঘাট ওভার ব্রিজের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসে পড়ে হলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল আজমল হোসেন হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার টানিয়ে দিয়ে আসে। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা পুলিশের সামনে শিক্ষার্থীদের টানানো ব্যানার খুলে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিক এলাকায় হল নয়— এ দাবিতে সকাল থেকেই পাটুয়াটুলিতে দোকান বন্ধ রেখে রাস্তায় অবস্থান নেয়। হলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সদরঘাট, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলিসহ আশপাশের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ৮ দফা দাবিতে রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রায়সাহেব বাজার মোড়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ফলে সদরঘাট- বাবুবাজার- গুলিস্তান রুটে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের পর শিক্ষক সমিতির এক সমাবেশে আজকের (সোমবার) কর্মসূচি হিসেবে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেয় সভাপতি সরকার আলী আক্কাস। অন্যদিকে হল উদ্ধার আন্দোলনের সমন্বয়ক এফএম শরীফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে বেদখল হল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ছাত্র-পুলিশ-এলাকাবাসীর মধ্যকার সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের শিক্ষকদের সংগঠন সাদাদলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের হল সমস্যার সমাধান করা অর্থাত্ বেদখল হলগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের বসবাসযোগ্য করে দেয়া। অন্যথায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটে যেতে পারে।’ এ ব্যাপারে পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ীরা জানান, ‘ব্যবসায়িক এলাকায় হল তৈরি করার চেষ্টা করা হলে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে কোনো সময় ব্যাপক হারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলির ১৬ ও ১৭ নং রমাকান্ত নন্দী লেনে শহীদ আজমল হোসেন হলটির অবস্থান। নব্বইয়ের দশকে হলটি বেদখল হয়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা এর দখল নেয়। এছাড়া হলটির একাংশ স্থানীয় একটি সমিতি দখল করে নেয়। ১৯৯৬ সালে কিছু অংশ দখল করেন স্থানীয় মোশারফ হোসেন খান। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বেগম রোকেয়া (শহীদ পরিবার)’ সাইনবোর্ড টানিয়ে জায়গাটি দখল করা হয়। বর্তমানে চারটি পক্ষ হলটির মালিকানা দাবি করছে।
0 comments:
Post a Comment