
গতকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চে দেয়া ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরেন। তবে তার বক্তব্যের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল বিএনপির নেতা খালেদা জিয়ার সমালোচনা। প্রায় আধঘণ্টা ধরে দেয়া বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ওয়াদা করেন।
খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যিনি ১৫ দিনে ঘর থেকে বের হন না তিনি নির্বাচনের আগে ঘন ঘন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমাদের নামে নালিশ করেন। নালিশ করে কী পেয়েছেন। নালিশ করে বালিশ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, উনি (খালেদা) নির্বাচন ঠেকাতে দেশের পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা সেগুলো এখন আমরা সংস্কার করছি। তিনি নিজে ছিলেন ফেলু। তাই তিনি চান আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরাও ফেল করুক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি আন্দোলনের জন্য ঢাকাবাসীকে ডাক দিলেন। গোটা দেশের মানুষকে ডাক দিলেন। কেউ ওনার ডাকে সাড়া দেয়নি। যখন কেউ সাড়া দিলেন না, তখন উনি বোমাবাজি, জ্বালাও-পোড়াও শুরু করলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, হরতাল-অবরোধ-আন্দোলন চলার পরেও আওয়ামী লীগ দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। তাই আবার জয় পেয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতার এটা পছন্দ নয়। তাই তিনি আন্দোলনের নতুন সূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাড়িয়ে দেয়া লোকদের সঙ্গে ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমার সেই খুনিদের বিচার শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে যেদিন রায় হবে তার আগের দিন খুনিকে পদোন্নতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি (খালেদা) খুনিদের রক্ষা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে সেই বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমার আবার সেই বিচার শুরু করেছি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ কোথাও ধরনা দিতে যায় না। আজকে যত জায়গায় ধরনা দিক আর আশার বাণী শোনাক, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে অনেক কষ্টে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশকে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব, এটাই আমার ওয়াদা।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানিকগঞ্জে তিনি বলেছিলেন, লাশ আর রক্ত চান। তাহলে তিনি দেশ উদ্ধার করবেন। কত রক্ত হলে তার পিপাসা মিটবে আমি জানি না। তাদের আন্দোলন মানেই ধ্বংসযজ্ঞ।’
বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাঙালি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বঙ্গ বন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে জনগণের জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জোট দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং প্রভৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের অপকর্মের জন্যই ১/১১-এর অবস্থা সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ বাংলাদেশের মানুষের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি। সেজন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।’ তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। তার নীতি, আদর্শ ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পথই আমাদের লক্ষ্য।
0 comments:
Post a Comment