
২০০৯-এ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলংকার বাসে সশস্ত্র হামলা পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ওই টেস্টে অভিষেক হয়েছিল তালহার। সশস্ত্র হামলা পাকিস্তান থেকে নির্বাসিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেই ঘটনা সূচনায়ই তালহার ক্যারিয়ারেও কালো দাগ লাগিয়ে দেয়। পাঁচ বছর পর ভাগ্য ফের হাত বাড়ালো তার দিকে। এ বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলেছেন। রোববার মিরপুরে এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হল ফয়সালাবাদের ২৫ বছরের এই ডান-হাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলারের। অভিষেকেই তার প্রতি নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন মাত্র দুটি টেস্ট খেলা তালহা।
ফয়সালাবাদের দীর্ঘকায় এই পেসার কাল মাঠে নামেন পাকিস্তানের ১৯৭তম ওডিআই ক্রিকেটার হিসেবে। ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা (৫৬) এবং অজিংকা রাহানের ২৩ উইকেট নিয়েছেন তালহা। পেশিতে টান পড়ায় মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে।
ক্রিকেট মাঠে পাক-ভারত দ্বৈরথ মানেই দিল্লি-ইসলামাবাদের ব্যাটিং বনাব বোলিংয়ের লড়াই। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ, ভারতের লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপ তেমনি বিশ্বমানের। তবে এমএস ধোনির অনুপস্থিতি এশিয়া কাপে বিরাট কোহলিদের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে। পাক বোলারদের কৃতিত্ব যে, তারা ২৫০-এর কমে ওয়াঘা সীমান্তের ওপারের ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখতে পেরেছেন। এর পেছনে আরেকটি কারণ, কোহলির মাত্র পাঁচ রানে ফিরে যাওয়া। আগেরদিন জিও নিউজে সৌরভ গাঙ্গুলী স্বীকার করেন, ‘ভারতের ওয়ানডে দলে ধোনির অনুপস্থিতি একটা ফ্যাক্টর। যদিও বিরাট কোহলি খুবই ভালো ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক হিসেবেও মন্দ নয়।’ সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফের কথার সুরও ছিল প্রায় অভিন্ন।
এদিন ভারত ধোনির অভাব বোধ করেছে প্রচণ্ডভাবে। অম্বাতি রাউডুর ৫৮ এবং রবীন্দ্র জাদেজার অপরাজিত ৫২ শেষ পর্যন্ত ভারতকে পৌঁছে দেয় ২৪৫-এ। তবে রাঁচির বাড়িতে বসে এমএস ধোনি খেলা দেখতে দেখতে নিশ্চয় ভেবে থাকবেন, একজন দ্রুতগতিতে রান তোলা ব্যাটসম্যানের অভাব টের পেয়েছে ভারত। সেই ব্যাটসম্যান যে খোদ তিনি, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভারত
রান বল ৪ ৬
রোহিত ক হাফিজ ব তালহা ৫৬ ৫৮ ৭ ২
ধাওয়ান এলবিডব্ল– ব হাফিজ ১০ ১৩ ২ ০
কোহলি ক উমর ব গুল ৫ ১১ ০ ০
রাহানে ক হাফিজ ব তালহা ২৩ ৫০ ৩ ০
রাইডু ক বদলি ব আজমল ৫৮ ৬২ ৪ ১
কার্তিক ক আজমল ব হাফিজ ২৩ ৪৬ ১ ০
জাদেজা নটআউট ৫২ ৪৯ ৪ ২
অশ্বিন স্টা. উমর ব আজমল ৯ ৭ ২ ০
সামি ক সোহেব ব আজমল ০ ৩ ০ ০
অমিত মিশ্র নটআউট ১ ১ ০ ০
অতিরিক্ত ৮
মোট (৮ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৪৫
উইকেট পতন : ১/১৮, ২/৫৬, ৩/৯২, ৪/১০৩, ৫/১৫৫, ৬/২১৪, ৭/২৩৭, ৮/২৩৭।
বোলিং : হাফিজ ৯-০-৩৮-২, গুল ৯-০-৬০-১, জুনায়েদ ৭-০-৪৪-০, আফ্রিদি ৮-০-৩৮-০, তালহা ৭-১-২২-২, আজমল ১০-০-৪০-৩।
পাকিস্তান
রান বল ৪ ৬
শারজিল খান ব অশ্বিন ২৫ ৩০ ৩ ১
শেহজাদ ক অশ্বিন ব মিশ্র ৪২ ৪৪ ৬ ০
হাফিজ নটআউট ৪১ ৫৯ ২ ১
মিসবাহ রানআউট ১ ৪ ০ ০
উমর ক জাদেজা ব মিশ্র ৪ ১৭ ০ ০
সোহেব রানআউট ৩৮ ৫৩ ২ ১
আফ্রিদি নটআউট ৩৪ ১৮ ২ ৩
গুল ক রাহানে ব কুমার ১২ ১২ ০ ১
তালহা ক জাদেজা ব কুমার ০ ১ ০ ০
আজমল ব অশ্বিন ০ ১ ০ ০
জুনায়েদ নটআউট ১ ১ ০ ০
অতিরিক্ত ১৭
মোট (৯ উইকেটে, ৪৯.৪ ওভারে) ২৪৯
উইকেট পতন : ১/৭১, ২/৯৩, ৩/৯৬, ৪/১১৩, ৫/২০০, ৬/২০৩, ৭/২৩৫, ৮/২৩৬, ৯/২৩৬।
বোলিং : কুমার ১০-০-৫৬-২, মোহাম্মদ সামি ১০-০-৪৯-০, অশ্বিন ৯.৪-০-৪৪-৩, জাদেজা ১০-১-৬১-০, অমিত মিশ্র ১০-০-২৮-২।
ফল : পাকিস্তান ১ উইকেটে জয়ী -
0 comments:
Post a Comment