
সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ৪২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন), পৌর মেয়র, পৌর প্রকৌশলী, রাজউক কর্মকর্তা, কারখানা পরিদর্শক, ভবনের মালিক এবং ওই পোশাক কারখানার ১৭ মালিক-কর্মকর্তা আসামির তালিকায় থাকছেন।
মামলার সাক্ষ্য স্মারক (এমই) কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির কাছে পাঠাবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুটি মামলারই তদন্ত শেষ করেছে সিআইডি। যেকোনো দিন অভিযোগপত্র দেওয়া হতে পারে। তবে দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, আসামিদের পক্ষ থেকে অনেক চাপ ছিল। তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।
সিআইডি সূত্র জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে ভবনের নকশা প্রণয়নে জালিয়াতি, মূল নকশাবহির্ভূত তলা নির্মাণ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নির্মাণকাজ তদারক না করা, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, জোর করে ও ভয় দেখিয়ে কাজ করানো, অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া এবং পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪২ আসামির মধ্যে ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি সবাই পলাতক আছেন।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল ধসে পড়ে সাভারে রানা প্লাজা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শিল্পকারখানা বিপর্যয়ে এক হাজার ১৩৪ জন নিহত হন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যান প্রায় দুই হাজার মানুষ। এখনো মাঝেমধ্যে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে নিহত মানুষের হাড়গোড়।
মামলা-তদন্ত: মর্মান্তিক এ ঘটনা নিয়ে মোট পাঁচটি মামলা হয়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় সাভার থানায় একটি মামলা করেন। একই দিন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ একই থানায় আরও একটি মামলা করেন।
পুলিশের করা মামলায় রানা প্লাজার ধসকে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে দণ্ডবিধির ৩৩৭/৩৩৮/৩০৪ (ক)/৪২৭/৩৪ (৯) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে।
এ ছাড়া রানা প্লাজা ধসকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/৫০৬ ধারায় ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আরেকটি মামলা করেন পোশাকশ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার। আদালত এ মামলাটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে আদেশ দেন।
সিআইডির তদন্তকারী সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর প্রথম আলোকে বলেন, রাজউক ও পুলিশের করা মামলার তদন্তের সঙ্গে শিউলি আক্তারের অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহিন শাহ পারভেজ ধামরাই থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেছিলেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, এ দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ: সাভারের সাবেক ইউএনও কবীর উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনার পেছনে তাঁর অবহেলা ছিল। ভবনে ফাটল দেখার পরও স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং ভুল তথ্য দিয়ে কারখানার মালিককে কারখানা চালু রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন।
গত শনিবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রয়েছেন। শিগগিরই পদায়ন করা হবে বলে আশা করেন তিনি।
ভবনের মালিক সোহেল রানা, তাঁর বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন করা, নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ভবন নির্মাণ করা এবং ভবনে ফাটল দেখার পরও সিলগালা না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে প্ররোচিত করা।
অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ ক্ষেত্রে তদারকি না করা এবং ফাটল জানার পরও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে সাবেক পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, পৌরসভার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তর কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইয়াসমিন ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে।
রানা প্লাজা বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে নির্মাণ করার পরও সেখানে অবৈধভাবে কারখানা স্থাপন করা, ভবনের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা, ব্যবসা করা, কারখানা অনুমোদনের জন্য ভুয়া ভবন নকশা দাখিল করা, অবৈধভাবে লাইসেন্স সংগ্রহ করা, বিধিবহির্ভূতভাবে জেনারেটর বসানো এবং ফাটল দেখার পর সিলগালা না করার অভিযোগ আনা হয়েছে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মালিক-শ্রমিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে। এঁরা হলেন নিউ ওয়েব বটমস ও নিউ ওয়েব স্টাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুল সামাদ আদনান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, ফ্যান্টমের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, এ বি এম সিদ্দিক, ফরিদউদ্দিন মিলাদ, নাজিম উদ্দিন, সুরাইয়া বেগম, এ আইয়ুব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, দেলোয়ার আহমেদ ও জাফর আহমেদ।
একই অভিযোগ ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করা, নির্মাণকাজে সক্রিয় সহযোগিতা করা ও মালিকপক্ষকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী সারোয়ার কামাল, কর্মচারী আতাউর রহমান, আবদুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ঠিকাদার নান্টুর বিরুদ্ধে।
ফাটল দেখার পরও শ্রমিকদের চাকরির ভয় দেখিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে মালিকের কর্মচারী বশীর আহমেদ, নয়ন মিয়া, আবদুল হামিদ, আবদুল মজিদ, ইউসুফ আলী ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অনিল দাস, শাহ আলম ও আবুল হাসানের বিরুদ্ধে রানাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুয়া নকশার ওপর ভিত্তি করে কারখানার অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে শিল্প-সম্পর্ক শিক্ষায়তনের প্রকল্প পরিচালক বেলায়েত হোসেন, ঢাকা বিভাগের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরের সহকারী কারখানা পরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান, কারখানা পরিদর্শক মো. ইউসুফ আলী, সহকারী প্রধান পরিদর্শক মাহমুদুল হক, উপপ্রধান পরিদর্শক আমিনুল হক, যুগ্ম শ্রম পরিদর্শক জামশেদুর রহমান ও পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত না করা এবং সময়মতো নজরদারি না করার অভিযোগ আনা হয়েছে রাজউকের প্রধান ইমারত পরিদর্শক রাহেলা খাতুন ও ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
সিআইডি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ফ্যান্টম টেক্স নামের প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন ডেভিড মেয়র রেকো নামের এক বিদেশি। কিন্তু ঘটনার পরই তিনি নিজের দেশ স্পেনে চলে যান। নাম-ঠিকানা না পাওয়ার কারণে তাঁকে অভিযুক্ত করা যায়নি।
মামলার সাক্ষ্য স্মারক (এমই) কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির কাছে পাঠাবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুটি মামলারই তদন্ত শেষ করেছে সিআইডি। যেকোনো দিন অভিযোগপত্র দেওয়া হতে পারে। তবে দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, আসামিদের পক্ষ থেকে অনেক চাপ ছিল। তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।
সিআইডি সূত্র জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে ভবনের নকশা প্রণয়নে জালিয়াতি, মূল নকশাবহির্ভূত তলা নির্মাণ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নির্মাণকাজ তদারক না করা, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, জোর করে ও ভয় দেখিয়ে কাজ করানো, অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া এবং পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪২ আসামির মধ্যে ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি সবাই পলাতক আছেন।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল ধসে পড়ে সাভারে রানা প্লাজা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শিল্পকারখানা বিপর্যয়ে এক হাজার ১৩৪ জন নিহত হন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যান প্রায় দুই হাজার মানুষ। এখনো মাঝেমধ্যে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে নিহত মানুষের হাড়গোড়।
মামলা-তদন্ত: মর্মান্তিক এ ঘটনা নিয়ে মোট পাঁচটি মামলা হয়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় সাভার থানায় একটি মামলা করেন। একই দিন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ একই থানায় আরও একটি মামলা করেন।
পুলিশের করা মামলায় রানা প্লাজার ধসকে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে দণ্ডবিধির ৩৩৭/৩৩৮/৩০৪ (ক)/৪২৭/৩৪ (৯) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে।
এ ছাড়া রানা প্লাজা ধসকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/৫০৬ ধারায় ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আরেকটি মামলা করেন পোশাকশ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার। আদালত এ মামলাটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে আদেশ দেন।
সিআইডির তদন্তকারী সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর প্রথম আলোকে বলেন, রাজউক ও পুলিশের করা মামলার তদন্তের সঙ্গে শিউলি আক্তারের অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহিন শাহ পারভেজ ধামরাই থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেছিলেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, এ দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ: সাভারের সাবেক ইউএনও কবীর উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনার পেছনে তাঁর অবহেলা ছিল। ভবনে ফাটল দেখার পরও স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং ভুল তথ্য দিয়ে কারখানার মালিককে কারখানা চালু রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন।
গত শনিবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রয়েছেন। শিগগিরই পদায়ন করা হবে বলে আশা করেন তিনি।
ভবনের মালিক সোহেল রানা, তাঁর বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন করা, নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ভবন নির্মাণ করা এবং ভবনে ফাটল দেখার পরও সিলগালা না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে প্ররোচিত করা।
অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ ক্ষেত্রে তদারকি না করা এবং ফাটল জানার পরও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে সাবেক পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, পৌরসভার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তর কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইয়াসমিন ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে।
রানা প্লাজা বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে নির্মাণ করার পরও সেখানে অবৈধভাবে কারখানা স্থাপন করা, ভবনের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা, ব্যবসা করা, কারখানা অনুমোদনের জন্য ভুয়া ভবন নকশা দাখিল করা, অবৈধভাবে লাইসেন্স সংগ্রহ করা, বিধিবহির্ভূতভাবে জেনারেটর বসানো এবং ফাটল দেখার পর সিলগালা না করার অভিযোগ আনা হয়েছে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মালিক-শ্রমিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে। এঁরা হলেন নিউ ওয়েব বটমস ও নিউ ওয়েব স্টাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুল সামাদ আদনান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, ফ্যান্টমের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, এ বি এম সিদ্দিক, ফরিদউদ্দিন মিলাদ, নাজিম উদ্দিন, সুরাইয়া বেগম, এ আইয়ুব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, দেলোয়ার আহমেদ ও জাফর আহমেদ।
একই অভিযোগ ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করা, নির্মাণকাজে সক্রিয় সহযোগিতা করা ও মালিকপক্ষকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী সারোয়ার কামাল, কর্মচারী আতাউর রহমান, আবদুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ঠিকাদার নান্টুর বিরুদ্ধে।
ফাটল দেখার পরও শ্রমিকদের চাকরির ভয় দেখিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে মালিকের কর্মচারী বশীর আহমেদ, নয়ন মিয়া, আবদুল হামিদ, আবদুল মজিদ, ইউসুফ আলী ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অনিল দাস, শাহ আলম ও আবুল হাসানের বিরুদ্ধে রানাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুয়া নকশার ওপর ভিত্তি করে কারখানার অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে শিল্প-সম্পর্ক শিক্ষায়তনের প্রকল্প পরিচালক বেলায়েত হোসেন, ঢাকা বিভাগের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরের সহকারী কারখানা পরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান, কারখানা পরিদর্শক মো. ইউসুফ আলী, সহকারী প্রধান পরিদর্শক মাহমুদুল হক, উপপ্রধান পরিদর্শক আমিনুল হক, যুগ্ম শ্রম পরিদর্শক জামশেদুর রহমান ও পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত না করা এবং সময়মতো নজরদারি না করার অভিযোগ আনা হয়েছে রাজউকের প্রধান ইমারত পরিদর্শক রাহেলা খাতুন ও ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
সিআইডি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ফ্যান্টম টেক্স নামের প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন ডেভিড মেয়র রেকো নামের এক বিদেশি। কিন্তু ঘটনার পরই তিনি নিজের দেশ স্পেনে চলে যান। নাম-ঠিকানা না পাওয়ার কারণে তাঁকে অভিযুক্ত করা যায়নি।
0 comments:
Post a Comment