Sporty Magazine official website |

বেশি বয়সে বাবা হলে সন্তানের ঝুঁকি!

Saturday, March 1, 2014

Share this history on :
যে পুরুষেরা ৪৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সে বাবা হয়েছেন, তাঁদের সন্তানদের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনকি স্কুলের লেখাপড়ায়ও এমন শিশুদের মনোযোগও কম থাকতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি, স্থায়ী বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে এমন শিশুদের। এমনই সব সতর্কবাণী জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বাবার বেশি বয়সে জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্যে অটিজম, সাইকোসিস, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিস-অর্ডার এবং অ্যাটেনশন ডিফিসিয়েন্সির (এডিএইচডি) মতো সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়। আপন ভাইবোনদের মধ্যে তুলনা করে গবেষকেরা দেখেছেন, বেশি বয়সের সন্তানেরা এসব ঝুঁকিতে বেশি থাকে।
এই গবেষণার প্রথম লেখক এবং দলনেতা ব্রায়ান ডি’ অনোফ্রিও বলেন, ‘এমন একটা চিত্র দেখতে পেয়ে আমরা ভীষণ আঁঁতকে উঠেছিলাম। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না যে, পিতার বেশি বয়সই এজন্য দায়ী।’
বাবার বয়সের সঙ্গে সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক উত্কর্ষ এবং মানসিক গঠন নিয়ে এর আগেও অনেক কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এ গবেষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি যতটা ভাবা হচ্ছিল, তার চেয়ে বেশি গুরুতর। বয়স হতে থাকলে পুরুষের বীর্যে জিনগত পরিবর্তনের কারণে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এমন প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি এবং সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার জন্য ১৪ লাখ পুরুষের ঔরসজাত ২৬ লাখ শিশুর স্বাস্থ্যগত এবং শিক্ষাগত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনে ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জন্মানো শিশুদের প্রায় ৯০ ভাগকেই আনা হয়েছে এই গবেষণার আওতায়। এসব নথিপত্রের সঙ্গে এই শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাগত অর্জনের তুলনা করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের পিতার সন্তানদের মধ্যে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সে বাবা হয়েছেন এমন পুরুষদের সন্তানের অটিজমের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ ভাগ বেশি। আর মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়া, মাদকাসক্ত হওয়া এবং আত্মহত্যা করার প্রবণতার ক্ষেত্রে এমন শিশুদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আর মনোযোগ কম থাকা বা ‘এডিএইচডি’র ঝুঁকি প্রায় ১৩ গুণ। ৪৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন, এমন সন্তানের ক্ষেত্রে ‘বাই-পোলার ডিসঅর্ডার’ এর হার মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু ৪৫ বছরের বেশি বয়সে বাবা হওয়ার পর জন্মানো সন্তানের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ১৪ শতাংশ।
অবশ্য, আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত জেএএমএ সাইকিয়াট্রি সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাঁরা বলছেন, বিষয়টির অন্য আরও অনেক মাত্রাকে বিবেচনায় না এনে এই গবেষণা থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হচ্ছে না। 
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment