Sporty Magazine official website |

উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় আজ ৮১ উপজেলায় নির্বাচন : আতঙ্ক ছাড়াতে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী সহিংসতা, রাউজানে গিয়াস কাদের চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলা, কুমারখালীতে হাতুড়ি পেটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত অর্ধশত বিএনপি নেতাকর্মী, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে সাংবাদিক পুলিশসহ আহত ১০

Friday, March 14, 2014

Share this history on :
উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় দফায় ৮১ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে বিরতিহীনভাবে এ ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এক কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন ভোটার তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে রায় দেবেন আজ।
এদিকে ভোটগ্রহণের আগ মুহূর্তে গতকাল ও বৃহস্পতিবার রাতে সারাদেশে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। চট্টগ্রামের রাউজান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, ফেনীর দাগনভূঞা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায় তারা।
রাউজানে হামলা হয় বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরীর গাড়ি বহরে। এতে পাঁচ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হওয়া ছাড়াও ভাংচুর করা হয় দুটি গাড়ি। কুমারখালীতে অনুরূপ হামলায় একই দলের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়।
দাগনভূঞায় তারা অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনার পর গতকাল বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই যুবলীগ সন্ত্রাসী আহত হয়।
এছাড়া টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ভাংচুর করা হয় দলীয় কার্যালয়। সাংবাদিক ও তিন পুলিশসহ আহত হয় ১০ জন।
এদিকে আজকের ভোটগ্রহণ উপলক্ষে শুক্রবারই ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচনী উপজেলাগুলোতে সেনা ও নৌবাহিনী, বিজিবির পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি সহিংসতার শঙ্কাও রয়েছে। গত দুই উপজেলা নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনে একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৮৩ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সহিংসতার কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার
নির্বাচন স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী ৮১ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ১১৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৪২৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত। এছাড়া জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮১ উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৩১ উপজেলায় ও বিএনপির একক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৪১ উপজেলায়। ৫০ উপজেলায় আওয়ামাী লীগের ও ৪০ উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফায় ৮৩ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আইনি জটিলতার কারণে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নির্বাচনী পরিবেশ না থাকায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে ইসি। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ফলে ৮০ উপজেলায় তিন পদে (চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) ও এক উপজেলায় দুটি (চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) পদে আজ ভোট গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৯৮ উপজেলা ও ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ১১৬ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বেশিসংখ্যক উপজেলায় জয় পায়। চতুর্থ দফায় আগামী ২৩ মার্চ ও পঞ্চম দফায় আগামী ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে।
ইসির নির্দেশনা : নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা থাকলেও গত দুই নির্বাচনের মতো গতানুগতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। তবে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি ইসির বেশকিছু নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচনী উপজেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। গোলাযোগের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে তাত্ক্ষণিক ফল প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী আইনেও এসব বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এক নজরে ৮১ উপজেলা নির্বাচনের তথ্য : তৃতীয় দফায় ৮১ উপজেলায় লড়ছেন ১ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১৯, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪২৩ এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন। ভোট গ্রহণের জন্য ৫ হাজার ৪৪৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৩৫ হাজার ৩৩১ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৭০ হাজার ৬২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় ৪১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৮১ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১২টি অস্থায়ী কেন্দ্র ও ২ হাজার ৮৭৫টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সমন্বিত ফলাফল ঘোষণা করবেন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন। পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার সংখ্যা বেশি। মহিলা ভোটার ৬৬ লাখ ১৩১ জন এবং পুরুষ ভোটার ৬৫ লাখ ৬৭ হাার ৮৩২ জন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা : নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৬ হাজার ২১৬ সদস্য। স্বাভাবিক এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দু’জন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ১৫ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ, পার্বত্য, দ্বীপাঞ্চল ও হাওড় এলাকার ভোটকেন্দ্রেগুলোর নিরাপত্তায় তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যসহ ১৬ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার একজন, লাঠি/অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এপিসি একজন, লাঠিসহ ১০ জন ও চৌকিদার/দফাদার একজন পাহারায় থাকবেন।
যেসব উপজেলায় ভোট গ্রহণ আজ : ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর, দিনাজপুরের সদর ও নবাবগঞ্জ, নীলফামারীর সদর, লালমনিরহাটের আদিতমারী, কুড়িগ্রামের সদর, রৌমারী ও চিলমারী, গাইবান্ধার সদর ও সাদুল্যাপুর, জয়পুর হাটের আক্কেলপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ, নওগাঁর মান্দা, পোরশা ও ধামইরহাট, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট ও দুর্গাপুর, চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা, যশোরের মনিরামপুর, নড়াইলের লোহাগড়া, বাগেরহাটের সদর, মোড়েলগঞ্জ, রামপাল, মোংলা ও শরণখোলা, খুলনার পাইকগাছা, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ, ভোলার সদর, বরিশালের মুলাদী, হিজলা ও বাবুগঞ্জ, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী ও দেলদুয়ার, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, শেরপুরের শ্রীবরদী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, গৌরীপুর, মুক্তাগাছা, ফুলপুর ও ধোবাউড়া, নেত্রকোনার সদর ও মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের সদর, কুলিয়ারচর ও হোসেনপুর, মানিকগঞ্জের ঘিওর, ফরিদপুরের সদর, আলফাডাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙা ও মধুখালী, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, শরীয়তপুরের সদর ও নড়িয়া, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, সিলেটের দুক্ষিণ সুরমা, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, হোমনা, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়া ও তিতাস, চাঁদপুরের কচুয়া ও হাজীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, ফেনীর দাগনভূইয়া, নোয়াখালীর সেনবাগ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সীতাকুণ্ড, রাঙামাটির বরকল, বাঘাইছড়ি ও কাউখালি, এবং বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর ও আলী কদম।
এ ধাপে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি, বাছাই ১৭ ফেব্রুয়ারি ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি।
কুমারখালীতে আ.প্রার্থীর হামলা, আহত অর্ধশত
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী উম্মে সুমাইয়া রুনা’র সমর্থকের উপর হামলা চালিয়েছে আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা। সকালে উপজেলার মহেন্দ্রপুর বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয় কমপক্ষে অর্ধশত। আহতদের স্থানীয় ও কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেয়া হয়। এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা। এদের মধ্যে দু’জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রুনা (তালা প্রতীক)-এর সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে যায়। এ সময় অপর আ.লীগ সমর্থিত অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লা আল বাদশা (আনারস প্রতীক)-এর সমর্থকরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা হাতুরী, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক যখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। আহতদের মধ্যে জুয়েল রানা (২৫), তারিকুল ইসলাম (২২), সিবাস (১৮) রুবেল (২২) মুকুল হোসেন (৩২) সুলতান আহমেদ (৩৯), মো. ইমন (২২)-এর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তব্যরত চিকিত্সক।
হামলায় আহত সুলতান আহমেদ জানায়, নির্বাচনী প্রচারণায় বের হওয়ার পর চেয়ারম্যান প্রার্থী বাদশার ৪০ থেকে ৫০ জন সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী উম্মে সুমাইয়া রুনা বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী বাদশা ও তার ছেলেসহ একদল শসস্ত্র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার সমর্থকের উপর হামলা করে। এ ঘটনার পর থেকে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কুমারখালী থানার ওসি লুত্ফর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জেলা কমিটির সেক্রেটারি ও কুমারখালী থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি রশিদুর রহমান নিহত হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদটিতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে যায়। আগামী ২০ মার্চ উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাউজানে গিয়াস কাদের চৌধুরীর গাড়ি বহরে হামলা
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা সদরস্থ মুন্সীর ঘাটায় সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণাকালে উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর গাড়ি বহর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। উল্লেখ্য, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই।
তিনি জানান, এতে দু’টি গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এদিকে আনোয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করছিলাম। এসময় দুর্বৃত্তরা আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে।
হামলায় আহত উপজলো শ্রমিক দলের সভাপতি দিদারুল আলম অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের পক্ষে গণসংযোগে বের হয়েছিলাম। পথে কিছু দুর্বৃত্ত আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা করলে আমিসহ সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, হামলার খবর শুনেছি, তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাইনি।
তেরখাদা ও রূপসায় ১৯ দলের প্রার্থীদের গাড়ি বহর ও নির্বাচনী অফিসে হামলা ভাংচুর
খুলনা অফিস জানায়, খুলনার তেরখাদা ও রূপসা উপজেলায় ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনী গাড়ি বহর ও নির্বাচনী অফিসে হামলা, ভাংচুর, প্রচারে বাধা এবং ভয়ভীতিসহ হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই দুই উপজেলার ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর পৃথক চারটি লিখিত অভিযোগে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তেরখাদা উপজেলায় ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম মেজবাউল আলম রিটার্নিং অফিসার বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১১ মার্চ আনন্দনগর বাজারে তিনি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করার সময় যুবলীগের কর্মী মামুনের নেতৃত্বে ১০-১২ সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায় এবং অফিস ভাংচুর করে।
অন্য একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি (মেজবাউল) প্রচারণার সময় ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীর বাড়ির সামনে যাওয়ার সময় যুবলীগের কর্মী মামুনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপর হামলা ও গালিগালাজ করে এবং গাড়িটি দীর্ঘ সময় আটকে রাখে।
রূপসা উপজেলায় ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এম মনিরুল হাসান বাপ্পী একটি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, প্রচারণার কাজের অংশ হিসেবে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঘাটভোগ ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের চান্দির মোড়ে হ্যান্ডবিল দিয়ে প্রচার কাজ চালানোর সময় যুবলীগ কর্মী মো. জিল্লু ফকির, ও আবু সাঈদের নেতৃত্বে এম এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ওই একই সন্ত্রাসী গ্রুপটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘাটভোগ বাজারের ঘাটভোগ ইউপির নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। সে সময় ওই অফিসে ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। যুবলীগের কর্মীরা সাইফুল ইসলামসহ অন্য কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে, পরে রূপসা থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বৌবাজার এলাকায় পোস্টার টানানোর সময় প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং পোস্টার কেড়ে নিয়ে নেতা-কর্মীদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিছু সময় পর পার্শ্ববর্তী ৮নং ওয়ার্ডের নন্দনপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় এবং এলাকা থেকে বের করে দেয়। এ অবস্থায় ২নং শ্রীফলতলা ইউপির ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানো যাচ্ছে না।
অন্য একটি অভিযোগে তিনি (বাপ্পী) উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাঈদীর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছিল। পথিমধ্যে হাসান সরদার ও যুবলীগের কয়েকজন কর্মী তাদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলে নানাভাবে হুমকি দেয়। এ সময় যুবদলের আসমোদ ও হারুনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। লিখিত অভিযোগে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটি নামের তালিকা দিয়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা হচ্ছে, ভদ্রগাতি গ্রামের ছত্তার সরদারের ছেলে মিজান সরদার, একই গ্রামের মৃত আকুব্বার সরদারের ছেলে মিন্টু সরদার, ওহাব সরদারের ছেলে হাচেন সরদার, ইব্রাহীম শেখের ছেলে আলমগীর, নুরু সরদারের ছেলে নাজিম সরদার, খোশদেল মোল্লার ছেলে মহাসিন ফকির ও কামরুল, মৃত আফসারের ছেলে আমিনুল ইসলাম সাগর, মৃত শফি মুন্সির ছেলে আতিয়ার মুন্সি।
দাগনভূঞায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। গত দুদিনের হামলা, ভাংচুর ও একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এ আতঙ্ক আরো বেড়েছে। আজকের নির্বাচনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার একাধিক স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে করে সাধারণ ভোটারসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক প্রার্থীর অভিযোগ, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানালেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হাই মিলন (আনারস) জানান, গত বুধবার বিকেলে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল কবির রতনের সমর্থকরা তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট এম. শাহজাহান সাজুর ফেনী শহরের বাসা ও তার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এছাড়া বৃহস্পতিবার একই প্রতিপক্ষ ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দুধমুখা বাজারে তার নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় ও রাতে তার বাড়িতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে ও প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।
একই অভিযোগ ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আকবর হোসেনের (টেলিফোন)। তিনি জানান, গত তিন দিনে তার ১২ জন সমর্থককে মারধর ও দুটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল কবির রতনের লোকজন।
তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বৃহস্পতিবার দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার একাধিক স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হাই মিলন ও আকবর হোসেনের অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল কবির রতনের কর্মী-সমর্থকরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফেনী সদর ও পরশুরাম উপজেলা নির্বাচনের মতো কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল কবির রতন জানান, নির্বাচনে তার জয় সুনিশ্চিত দেখে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবী চন্দ জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তত্পর রয়েছেন। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন এজন্য পুলিশ ও র্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
১৫ মার্চ দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় ৬২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৮টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৯টি কেন্দ্র।
ফেনীতে বোমা বিস্ফোরণে আহত যুবলীগের নেতাকর্মী
বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে যুবলীগের দুই নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞায় আহত হয় যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম (৩০) ও মোহাম্মদ আলম (২৭)।
আহতরা হচ্ছেন উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০)। অপরজন একই ইউনিয়নের সমাসপুর গ্রামের জয়দেবপুর এলাকার নুরুল হকের ছেলে যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলম (২৭)।
তাদের প্রথমে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের আরএমও অসীম কুমার সাহা জানান, হাতবোমা বিস্ফোরণে আহতদের মুখ ঝলসে গেছে।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে তাদের স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাতবোমায় দুই যুবলীগ নেতাকর্মীর আহত হওয়ার কথা শুনেছেন বলে জানান দাগনভূঞা থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন।
তবে শনিবার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফেনীর দাগনভূঞায় শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে বোমা তৈরির সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে স্থানীয়রা জানায়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগের দিন এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে কয়েক দফা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এনামুল হক জানান, এ উপজেলায় ৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবদীন মামুন দাবি করেছেন বিএনপির কর্মীরা তাদের নেতাদের ওপর হাতবোমা ছুড়ে মারলে তারা আহত হন।
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত ১০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুর করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে এক সাংবাদিক ও তিন পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় অফিসে নির্বাচনী সভা করছিলেন। এ সময় নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কুদরত আলী অফিসে আসেন। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়। সেখানে বাবু নামের এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কুদরতের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে কুদরতের লোকজন আওয়ামী লীগ অফিসে উইলিয়ামের ওপর হামলা চালায়। অফিসের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে তারা। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নাগরপুর সরকারি কলেজের ভিপি মামুন এবং তিন পুলিশ সদস্য ও দৈনিক আমার দেশ-এর নাগরপুর প্রতিনিধি আখতারুজ্জামান বকুলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়দা খান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment