আজ ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন, ‘এটা সব ম্যাচ কা বাপ।’ পাকিস্তান কিংবদন্তির মন্তব্যের সত্যতা প্রমাণে যেন আরেকবার মাঠে নামল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই চরম উত্তেজনা, স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ম্যাচের সেই শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত কিছুতেই বলার উপায় নেই—কে জিতবে। ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো ম্যাচ শেষমেশ জিতেছে পাকিস্তান। মিসবাহ-উল হকের দল দুই বল থাকতে পকেটে পুরে নিয়েছে ম্যাচ।
কেবল পাকিস্তানই জিতেছে আজকের ম্যাচে? না, আজ জিতেছে ক্রিকেটের চিরায়ত সৌন্দর্যই। পরতে পরতে উত্তেজনা-উত্কণ্ঠায় ঠাসা ম্যাচের শুরুতেই ভারত ওভারপ্রতি ছয় করে তুললেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে সংগ্রহ আট উইকেটে ২৪৫। রান রেট ৪.৯০। ২৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ১০.৫ ওভারে বিনা উইকেটে তুলে ফেলল ৭১। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সারজিল খান ও আহমেদ শেহজাদ বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইনিংস-গাড়ি। এরপরই ছন্দপতন। ৪২ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে পথ হারানোর উপক্রম পাকিস্তান দলের। এ পর্যায়ে ম্যাচে দুম করে হেলে পড়ল ভারতের দিকে। ২৫ করা সারজিল খানকে বোল্ড করে ভারতের প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তবে পাকিস্তানের ইনিংসের মূল ভূমিকম্প শুরু হয় ১৫তম ওভারের শেষ বলে, যখন অমিত মিশ্রর শিকার হয়ে আহমেদ শেহজাদ ফেরেন ৪২ করে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেটে এসেই রান আউটের শিকার মিসবাহ-উল হক (১)। ভুল শট খেলে বিদায় আগের ম্যাচের নায়ক উমর আকমলও। ৯৩ থেকে ১১৩—এই ২০ রানেই পাকিস্তান খুইয়েছে ৩ উইকেট।
এরপর মোহাম্মদ হাফিজ ও সোহেব মাকসুদের দারুণ প্রতিরোধ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮৭ তুলে ম্যাচ আবার নিজেদের পক্ষে নিয়ে এলেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান। অশ্বিন যখন ৭৫ করা হাফিজকে ফেরালেন তখনো পাকিস্তান ম্যাচেও ভালোভাবেই রয়েছে। তবে ভারতের আশা জাগাল মাকসুদের (৩৮) রান আউটটি।
মাকসুদ যখন ফিরলেন তখন পাকিস্তানের রান দরকার ৩২ বলে ৪২, হাতে উইকেট চারটি। দেখতে দেখতে গুল, তালহাও ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। কিন্তু আফ্রিদি বোধ হয় মূল জাদুটা নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন তখনো। ম্যাচ গড়াল শেষ ওভার অবধি। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১০, ভারতে দরকার একটি উইকেট। এমন টান টান উত্তেজনাময় মুহূর্তে আফ্রিদি অশ্বিনকে সপাটে মারলেন উড়িয়ে। পর পর দুই বিশাল ছক্কা! মূলত আফ্রিদি-ঝড়েই চুরমার হয়ে গেলো ভারতের স্বপ্ন, হারল এক উইকেটে। আফ্রিদির ১৮ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসটিতে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছয়ের মার। আফ্রিদি-গুলের ৭ম উইকেট জুটিতে এল ২৩ বলে ৩২। কোহলির দলকে হারানোর পেছনে এ জুটি রাখল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ম্যাচ সেরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৭৫ করা ‘দ্য প্রফেসর’ হাফিজ।
‘সব ম্যাচ কা বাপে’ জিতল পাকিস্তান
Sunday, March 2, 2014
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 comments:
Post a Comment