
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর (১৯) বাড়ি জয়পুরহাটের মঙ্গলবাড়ি মহল্লায়। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে সায়েম উদ্দিন (২৬) নামের এক বখাটে তাঁকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। কিছুদিন আগে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সায়েম। কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে পরিবারের সদস্যরা ওই ছাত্রীকে হাকিমপুর উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামে তাঁর নানির বাড়িতে রেখে আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রী তাঁর নানির সঙ্গে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত তিনটার দিকে ওই কক্ষের টিনের চাল ফাঁক করে ছাত্রীর গায়ে দাহ্য পদার্থ ছোড়া হয়। এতে ওই ছাত্রীর ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি শরীরে আগুন জ্বলতে দেখেন। আগুনে ওই ছাত্রী ছাড়াও পাশে থাকা তাঁর নানির শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সাইদুর রহমান জানান, ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাঁকে নিয়ে স্বজনেরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
চণ্ডপুর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ওই কলেজছাত্রীর চিৎকার শোনে প্রতিবেশীরা আগুন নেভাতে ছুটে যান। এ সময় অন্তত তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ওই ছাত্রীর বিছানার ওপর একটি আধাপোড়া লাঠি পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বখাটেরা প্রথমে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারে। পরে লাঠির মাথায় প্যাঁচানো কাপড়ে আগুন ধরিয়ে টিনের ফাঁক দিয়ে ওই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে।
এ ঘটনার সত্যতা হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব গতকাল রাত সাড়ে সাতটার দিকে জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
0 comments:
Post a Comment