
সিংড়া পৌর জামায়াতে ইসলামীর সহসভাপতি রওশন আরেফিন গত সোমবার পুরোনো এই রেইনট্রি গাছটি কেটে নিয়েছেন। তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ভগ্নিপতি।
রওশন আরেফিন বলেন, ‘জমি সরকারি হলেও সেখানে গাছটি লাগিয়েছিলেন আমার বাবা। ভূমি অফিস থেকে কাটতে নিষেধ করা হলে আমি গাছের গোড়া কাটা বন্ধ রেখেছি। একই সঙ্গে আমি ভূমি অফিসে গাছটির তিন ভাগের দুই ভাগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এখন সরকারিভাবে গাছটি নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় ‘সরকারি জমির গাছ কাটলেন জামায়াত নেতা’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই রওশন আরেফিনের গাছের দাবি-সংক্রান্ত লিখিত আবেদনটি পর্যালোচনা করে উপজেলা প্রশাসন। পর্যালোচনা শেষে গাছটি সরকারি হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গত বুধবার জেলা বন কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহকে দিয়ে কাটা গাছটির স্থান মাপজোখ করে দেখা যায়, গাছটি সরকারি জমির মধ্যে পড়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে গাছটি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। বন কর্মকর্তার হিসাব মতে, কাটা গাছটিতে ১২১ সেফটি কাঠ ও ৩০ সেফটি খড়ি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন গাছটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গাছটির সর্বনিম্ন দাম ধরা হয়েছে প্রতি ঘনফুট ৩০০ টাকা, আর খড়ি প্রতি ঘনফুট মাত্র ৫০ টাকা। অথচ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে বর্তমানে প্রতি ঘনফুট রেইনন্ট্রি কাঠের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।
এত কম মূল্য নির্ধারণ করার বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান দর বেশি হলেও আমরা গত এক বছরের দামের গড়মূল্য নির্ধারণ করেছি। ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলে এর চেয়ে বেশি দামেও বিক্রি হতে পারে।’
বড়াইগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা পুরো গাছটি আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। গাছটি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রওশন আরেফিনের বাবা গাছটি লাগিয়ে ছিলেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
0 comments:
Post a Comment