
এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে ওয়ান ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মানালিতে একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্যে অভিনয়ের সময় হৃতিক-ক্যাটরিনার রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়ে যান সেখানে উপস্থিত সবাই। এ ছাড়া প্রতিদিন শুটিং শেষে অনেক সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন হৃতিক-ক্যাটরিনা।
‘ব্যাং ব্যাং’ ছবি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দীর্ঘ সময় জুড়ে কথা বলতে দেখা গেছে এ জুটিকে। তাঁদের দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, একে অন্যের সঙ্গ দারুণ উপভোগ করছেন তাঁরা। সিমলায় যে হোটেলে তাঁরা উঠেছিলেন, সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে দারুণ ভাব জমিয়েছিলেন হৃতিক-ক্যাটরিনা। হোটেল কর্মচারীদের সঙ্গে গল্প-গুজবের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ জুটি।
গত ডিসেম্বরে সুজান রোশনের সঙ্গে ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন হৃতিক রোশন। এর পরপরই দীর্ঘদিনের প্রেমিক রণবীর কাপুরের সঙ্গে মনকষাকষি শুরু হয় ক্যাটরিনার।
ক্যাটরিনার সঙ্গে হূতিকের সম্পর্কের গভীরতার খবর চাউর হয়েছে আগেই। হৃতিক ও সুজান কেউই তাঁদের বিচ্ছেদের মূল কারণ না জানালেও বলিউডে জোর গুঞ্জন, ক্যাটরিনার সঙ্গে হূতিকের ঘনিষ্ঠতা আর সুজানের সঙ্গে অর্জুন রামপালের ঘনিষ্ঠতার কারণে ভেঙেছে হৃতিক-সুজানের সংসার।
পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে হূতিকের সঙ্গে ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠতা মোটেও মেনে নিতে পারছিলেন না সুজান। ‘ব্যাং ব্যাং’ ছবির সেটে ক্যাটরিনার সঙ্গে হূতিকের উপস্থিতি নিয়ে হৃতিক-সুজানের মধ্যে শুরু হয়েছিল বাগবিতণ্ডা।
হৃতিক ও ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে গিয়ে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল হৃতিক ও ক্যাটের মধ্যে। পরবর্তী সময়েও তাঁরা বন্ধুত্ব ধরে রাখেন।
হৃতিক-ক্যাটরিনাকে এক ছবিতে অন্তর্ভুক্ত করে ফের এই জুটিকে কাছে আসার সুযোগ করে দেন ‘ব্যাং ব্যাং’ ছবির পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ। গত বছরের জুনে ছবিটির শুটিং শুরু করেন হৃতিক-ক্যাট। ছবিটির একটি ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পান হৃতিক। শুরুতে পাত্তা না দিলেও পরে স্বাস্থ্য-পরীক্ষায় জানা যায় হূতিকের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। গত বছরের জুলাই মাসে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। সে মাসেই রণবীরের সঙ্গে স্পেনে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ক্যাট। স্পেন থেকে ফিরে সরাসরি হৃতিককে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান ক্যাটরিনা।
হূতিকের অসুস্থতার কারণে ‘ব্যাং ব্যাং’ ছবির শুটিং পিছিয়ে যায়। এতে করে ক্যাটরিনার হাতে থাকা অন্যান্য ছবির শুটিং শিডিউল নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু কোনো রকম অভিযোগ না তুলে হূতিকের সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন ক্যাট।
শুধু তা-ই নয়, হৃতিক যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, এ জন্য সব সময় হূতিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাঁর মনোবল বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন ক্যাটরিনা। হূতিককে খুশি রাখার জন্য তাঁকে প্রায়ই ফোন করতেন কিংবা মজার মজার এসএমএস পাঠাতেন ক্যাট।
0 comments:
Post a Comment