
গত ৩ নভেম্বর এ ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও এ এম আমিন উদ্দিন। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আদালত আদেশের পাশাপাশি রুলও জারি করেন।
আদালত ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফেসবুকে ওই মন্তব্য কে পোস্ট করেছে, তাকে চিহ্নিত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতেও বলা হয়।
এই নির্দেশনা অনুসারে অনুসন্ধান ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির ওই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়। পরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিন সদস্যের পুলিশের ওই প্রতিবেদন অনুসারে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৪৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। আদালতের নির্দেশ অনুসারে এ অর্থ তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রতিবেদন অনুসারে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৩৩টি, বসতঘরের সংখ্যা ২৯টি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০টি, ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারিক মন্দিরের সংখ্যা ছয়টি ও বারোয়ারি মন্দিরের সংখ্যা একটি।
ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির গুজব ছড়িয়ে উপজেলার বনগ্রাম বাজার এলাকায় গত ২ নভেম্বর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০-২৫টি বাড়ি এবং দুটি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা করা হয়। এতে ১২টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৪টি বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন পাশের উখিয়া ও টেকনাফেও সাতটি বৌদ্ধবিহার ও ১১টি বসতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননার ছবি পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগ তুলে এ হামলা চালানো হলেও তদন্তে তা প্রমাণিত হয়নি।
0 comments:
Post a Comment