Sporty Magazine official website |

মাঠ নয়, আগে কেন্দ্র ঠিক করুন

Friday, February 7, 2014

Share this history on :
মাঠপর্যায়ের নেতাদের আপত্তির কারণে বিএনপির দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দলকে চাঙা করতে এ সফর কর্মসূচির জন্য গঠিত ৫৬টি কমিটির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। 
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মাঠপর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলেছেন, সংকট দলের মাঠপর্যায়ে নয়, কেন্দ্রে। তাই মাঠপর্যায়ে যাওয়ার আগে কেন্দ্র ঠিক করতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় দলকে গোছানো ও চাঙা করা বেশি জরুরি। মাঠের নেতাদের এ মনোভাবের সঙ্গে দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাও একমত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর মাঠের নেতাদের অনাস্থাও ফুটে উঠেছে। 
এ বিষয়ে বিএনপির রংপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় ও পরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতা ছিল, মাঠের নেতাদের নয়। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের অবস্থা ছিল শোচনীয়। এখন সাংগঠনিক সফরে গিয়ে মাঠের নেতাদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে ও তাঁদের ওপর দায় চাপিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা খবরদারি করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। 
এসব নেতা আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ঢাকা থেকে করে দেওয়া কমিটি গিয়ে স্থানীয় কমিটির ওপর হস্তক্ষেপ করে। কমিটিতে কাউকে স্থান করে দিতে কিংবা স্থানীয় কমিটি সম্পর্কে খারাপ প্রতিবেদন দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেকে মাঠপর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ারও চেষ্টা করেন। নির্বাচনের পর এখন এমনিতেই মাঠের নেতারা বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় এসব কমিটির সাংগঠনিক সফরকে নতুন ‘উৎপাত’ বিবেচনা করে তাঁরা এ সফর কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন। 
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরের নেতারা আন্দোলনে কষ্ট করেছেন। তাঁরা সক্রিয় আছেন। তাঁরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে আন্দোলন করেছেন। তাঁদের ওপর হস্তক্ষেপ করার দরকার আছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, দলের স্থায়ী কমিটি মনে করে, ঢাকা মহানগর কমিটি ঢেলে সাজানো দরকার। চেয়ারপারসনও এতে একমত।
সারা দেশে বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা আছে। এসব জেলা পরিদর্শন, সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভাল, স্থানীয় দুর্বল কমিটিগুলোর পুনর্গঠন, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুপারিশ করাসহ নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিএনপি দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের কর্মসূচি নিয়েছিল। এ জন্য ৫৬টি কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের রাখা হয়।
সপ্তাহ খানেক আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এসব কমিটির প্রধানদের ফোন করে নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার নাম জানানো হয়। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এ ধরনের কমিটি গঠন করে জেলা সফরের উদ্যোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁরা বিষয়টি দলীয় চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তিনি দলের ‘হাইকমান্ডকে’ প্রস্তাব করেছেন, যেন ওই ৫৬টি প্রতিনিধিদলকে যেন ঢাকার ৫৬টি এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাতে যদি ঢাকার কমিটিগুলো চাঙা হয়, তা কাজে লাগবে। 
স্থায়ী কমিটির অপর দুজন সদস্য ও চারজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের নেতারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলন করেছেন। বরং রাজধানী কেন্দ্রে তথা রাজধানী ঢাকায় বেশ দুর্বলতা ছিল। এখন কেন্দ্র থেকে এসব কমিটি গিয়ে মাঠের নেতাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে কোনো পরামর্শ দিতে গেলে তোপের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
অবশ্য বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান দাবি করেন, উপজেলা নির্বাচন, মামলার কারণে নেতা-কর্মীদের পালিয়ে থাকা, হত্যা-গুমের মতো ঘটনার কারণে এখন একত্র হওয়াটা অনেকের জন্যই কঠিন। এসব বিষয় বিবেচনা করে আপাতত সাংগঠনিক সফর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে আবার এ কার্যক্রম শুরু হবে।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment