
সরদহ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের ওই জনসভায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি আন্দোলনেও ফেল, ম্যাট্রিকেও ফেল। এখন ভাবছেন, হায় হায় এ কী হলো।’ হরতাল-অবরোধ-অগ্নিসংযোগ উপেক্ষা করে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ভোট দিয়ে ফেলটু পার্টি বিএনপির নেতাকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। তাঁর যদি লজ্জা থাকে জীবনে আর কখনো এভাবে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করবেন না।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে নির্বাচন হয়েছে। আমরা সরকার গঠন করেছি। ২০০৬ সালে ঢাকার একটি জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবেন না। আগামী ১০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না।” ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। পক্ষান্তরে বিএনপি ৩০টার বেশি আসন পেল না। কিন্তু এবার বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারলেন না।’
বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় আসা মানেই সন্ত্রাস-দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদ সৃষ্টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না, তেমন বিএনপি-জামায়াতের চরিত্রেরও পরিবর্তন হয় না। তাদের রাজনীতি ধ্বংসের রাজনীতি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আর কিছুই দিতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতাল-অবরোধ উপেক্ষা করে জানুয়ারি মাসেই ৩০ কোটি নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এক লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সহায়তার জন্য তহবিল গঠন করা হয়েছে।
রাজশাহীতে পদ্মার ভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ ও খননের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা হবে। মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, আওয়ামী লীগ সেই ব্যবস্থা করে। কিন্তু মানুষের শান্তি খালেদা জিয়ার সহ্য হয় না।
চারঘাট থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাগমারা উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর উদ্বোধন ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ভবন, রাজশাহী সরকারি কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রীনিবাস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের ভৌত সুবিধাদি বর্ধিতকরণ প্রকল্প, রাজশাহী (উত্তর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বাঘা উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, পুঠিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, পবা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও মোহনপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সারদায় প্রধানমন্ত্রী: সকালে সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি জনগণের প্রতি সুশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩১তম বিসিএসের ১৭৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলো। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে একাডেমি মাঠে অবতরণ করেন।
অনুদান প্রদান: পুলিশ একাডেমির একটি ডরমিটরিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ৯৮ জনকে ১০ লাখ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে নিহত ছয়জনের পরিবারসহ ১৬ জনকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে চেক তুলে দেন।
0 comments:
Post a Comment