Sporty Magazine official website |

স্কুটারে ছুটছেন ভারতের তরুণীরা

Monday, February 10, 2014

Share this history on :
চলন্ত বাসে ও ট্রেনে গণধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় ভারতের পথেঘাটে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। আর ঠিক এ সময়টাতেই দেশটিতে নারীদের বাহন হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে স্কুটারের।
অর্থনৈতিক অস্থিরতায় ভারতের অন্যান্য গাড়ির বাজারে মন্দা দেখা গেলেও ‘স্কুটি’র বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে রাস্তায় নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে।
‘প্লাশ পিংক’, ‘বার্গান্ডি ব্লিস’ কিংবা ‘প্লেজার’ নামের বাহারি রঙের এসব স্কুটার ইতিমধ্যেই নারীবান্ধব বাহন হিসেবে ভারতজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অফিস কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য ভারতীয় তরুণীদের এই পছন্দকে ভারতীয় সমাজের গভীরে মানসিকতার পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এ পরিবর্তনের ঢেউ নজরে পড়েছে বিদেশি গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোরও। জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেড এবং ইয়ামাহা মোটরের মতো কোম্পানিগুলো এখন ভারতের বাজারে এমন নারীবান্ধব বাহনের জোগান বাড়াচ্ছে।
স্বাধীনচেতা এবং উদ্যমী তরুণী কিংবা কর্মজীবী নারীদের অনেকেই এখন জন পরিবহনে যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতে স্কুটার চালানোয় উত্সাহী হচ্ছেন। এটা পথঘাটের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাঁদের খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে শুধু তা-ই নয়, বরং সামাজিক জীবনে নারীর অবস্থানের প্রশ্নেও একে একটা বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অনেকেই। এর ফলে শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতই নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনযাপনে এখানে-সেখানে বেড়াতে বা কেনাকাটার জন্য যাওয়া-আসায়ও স্কুটারে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন নারীরা।
‘সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স’-এর এক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে পরের নয় মাসে ভারতের বাজারে এমন নারীবান্ধব স্কুটারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এর ফলে পুরো ভারতে কেবল মোটরসাইকেলের বিক্রির হার বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, এ সময়ে বাস ও ট্রাকের বিক্রি কমেছে। জাপানের হোন্ডা এবং ইয়ামাহা ভারতের বাজারে এমন চাহিদা লক্ষ করে নারীদের উপযোগী স্কুটারের নকশা করছে এবং নতুন কারখানা স্থাপন করছে।
২০১২ সালে ইয়ামাহা প্রথমবারের মতো ভারতের বাজারে নারীদের জন্য বিশেষ নকশার স্কুটার ছাড়ে। ‘দ্য রে’ নামের ওই মোটরসাইকেলের দাম ৪৭ হাজার ভারতীয় রুপি। ‘স্টারি হোয়াইট’, ‘প্লাশ পিংক’ ও ‘বার্গান্ডি ব্লিস’ নামের তিনটি আকর্ষণীয় রঙে এ স্কুটার বাজারে ছাড়া হয়। কোম্পানিটির তথ্যমতে, ক্রেতাদের প্রায় ৭০ ভাগ নারীই ৩০ বছরের কম বয়সী। ইয়ামাহা ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রয় কুরিয়ান বলেন, ‘তাঁরা বাবা বা ভাইকে বিরক্ত করতে চান না। তাঁরা নিজেদের গতিশীলতা চান।’
মোটরসাইকেল জায়ান্ট হোন্ডা মোটর এই সপ্তাহে জানিয়েছে, ১১ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি বিনিয়োগ করে ভারতে নিজেদের চতুর্থ মোটর সাইকেল কারখানা খুলতে যাচ্ছে তারা। বছরে ১২ লাখ মোটরসাইকেল বানাতে সক্ষম হবে ওই কারখানাটি। গুজরাটে প্রস্তাবিত ওই কারখানাটি ২০১৫ সালের মধ্যে উত্পাদনে যেতে পারবে বলে আশাবাদী তারা। নির্মাতা এবং বিপণন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ভারতের দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের নারীদেরই স্কুটারের চাহিদা বেশি। উত্তর ও পূর্ব ভারতের চেয়ে এসব অঞ্চল কম রক্ষণশীল বলেই এমনটা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। 
এদিকে, স্থানীয় নির্মাতা ‘হিরো মোটোকর্প’ অনেক দিন ধরেই নারীদের জন্য স্কুটার জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নারীদের জন্য হিরোর বিশেষ স্কুটার ‘প্লেজার’-এর এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলছেন, ‘কেন ছেলেরাই শুধু মাস্তি করবে?’     
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment