Sporty Magazine official website |

আলু উৎপাদন প্রচুর, রপ্তানি সামান্য

Monday, February 10, 2014

Share this history on :
আলু নিয়ে সারা দেশেই কৃষকের হাহাকার চলছে। খেত, মাঠ, উঠান, হাট—সর্বত্রই আলু। দাম না পাওয়ায় সেই আলুই এখন এই কৃষকদের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, আলু রপ্তানি বাড়াতে পারলে কৃষকের এই হাহাকার কমানো সম্ভব।
তবে আলু রপ্তানির চিত্র মোটেও আশাব্যঞ্জক না। দেশে যেখানে বছরে গড়ে ৮০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানে রপ্তানি হচ্ছে বড়জোর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টন।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, মান ভালো হওয়ার পরও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলু রপ্তানিতে পেরে উঠছেন না তাঁরা। কারণ, ভারত সরকার এ ক্ষেত্রে বেশি নগদ সহায়তা দেওয়ায় অনেক কম মূল্যে সে দেশের রপ্তানিকারকেরা আলু রপ্তানি করতে পারেন। আবার আলু রপ্তানির জন্য নতুন বাজার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে দূতাবাসগুলো।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বলেছেন, সরকারের প্রণোদনায় বেসরকারি উদ্যোগে ৭০০ কনটেইনার আলু রাশিয়ায় যাচ্ছে। দিনে দিনে রপ্তানি বাড়ছে।
এ বছর দেশে চার লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৮৬ লাখ টনেরও বেশি। এখনো অনেক স্থানে আলু তোলা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। এর সঙ্গে আবার যোগ হয় আগের বছরের উদ্বৃত্ত আলু। ফলে প্রতিবছর অন্তত ১৬ লাখ টন আলু রপ্তানি করা সম্ভব।
তবে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, গেল ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ দেশ থেকে ৪১ হাজার ৭৭৮ টন আলু রপ্তানি হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৩৪ হাজার ২০১ টন আলু। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে আলু রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৫৩৯ টন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে আলু রপ্তানি থেকে আয় হয় ছয় লাখ ৮৬ হজার ৮৯২ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫১ ডলারে। তবে এ যাবৎ সর্বোচ্চ এক কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৪ ডলারের আলু রপ্তানি হয় ২০১০-১১ অর্থবছরে। পরের বছর রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬১০ ডলারে। গত অর্থবছরে রপ্তানি আবার বেড়ে হয়েছে এক কোটি নয় লাখ ৩০ হাজার ৬৬ ডলারে।
বর্তমানে ২৭টি দেশে আলু রপ্তানি হয়। যদিও গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে আলু রপ্তানি হয়েছে ১৮টি দেশে।
বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী বেগম অবশ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের আলু রপ্তানির বাজার মূলত মালয়েশিয়াকেন্দ্রিক। অনেক দেশেই আলু রপ্তানির সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের দূতাবাসগুলো সে খোঁজ রাখে না। আমরা তাই মালয়েশিয়ানির্ভর হয়ে যাচ্ছি।’
ইপিবির তথ্যমতে, গত অর্থবছরে শুধু মালয়েশিয়ায় ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের আলু রপ্তানি হয়েছে। আর সিঙ্গাপুরে হয়েছে ২৬ লাখ ২৭ হাজার ডলারের আলু। দেশের মোট আলু রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশই যায় এ দুটি দেশে।
রপ্তানি কেন বাড়ছে না: ভারতের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতাকে আলু রপ্তানি কম হওয়ার বড় কারণ মনে করেন রপ্তানিকারকেরা। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতে একই সময়ে আলু তোলা হয় বলে দুই দেশ থেকে রপ্তানিও হয় প্রায় একই সময়ে।
রপ্তানিকারকেরা উন্মুক্ত কনটেইনার এবং কুল চেইন কনটেইনার (রেফার)—এই দুভাবে আলু রপ্তানি করেন। উন্মুক্ত কনটেইনারে প্রতি টন আলু ২২৫ থেকে ২৩৫ ডলারে, আর কুল চেইন পদ্ধতিতে ২৮০ থেকে ২৯০ ডলারে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে ভারত আলু রপ্তানি করে ১৮৫ থেকে ২১০ ডলারে। তাই বিশ্ববাজারে ভারতের আলুর চাহিদা বেশি। চীনও কম মূল্যে আলু রপ্তানি করে। তবে চীনের আলু এ দেশের আলুর চেয়ে কয়েক মাস পর বাজারে আসে।
ফেরদৌসী বেগম আরও বলেন, ‘ভারতে আলু রপ্তানিকারকেরা ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা পান। আমাদের ২০ শতাংশ সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু অনেক কিছু কেটেকুটে রাখায় আমরা পাই ১৫ শতাংশের মতো।’
রপ্তানির সময় বন্দরকেন্দ্রিক কিছু সমস্যায় পড়েন রপ্তানিকারকেরা। তাঁরা জানান, বন্দরে ট্রাক আটকে থাকায় অনেক সময়ই আলু পড়ে থাকে দু-তিন দিন। এতে অনেক সময় আলু নষ্টও হয়।
দেশীয় রপ্তানিকারকেরা শুধু গ্রানোলা জাতের আলুই রপ্তানি করেন। অন্য আলুগুলোর গুণগত মান রপ্তানি করার মতো না। তাঁদের অভিযোগ, সরকার অনেক ধরনের জাতের কথা বললেও সেগুলোর বেশির ভাগই পাওয়া যায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর স্বাভাবিক রং কিছুদিন পর পাল্টে যায়।
ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘রং পাল্টে গেলে অনেক আমদানিকারক ওই আলুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এ নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ি। কীভাবে ওই আলুটা আগের রঙে ফিরিয়ে আনা যায়, এ নিয়ে দেশে কোনো গবেষণা হচ্ছে না।’
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment