Sporty Magazine official website |

আপাতত কিপিং ছাড়ছেন না মুশফিক

Monday, February 3, 2014

Share this history on :
অনুশীলন শুরু দুপুর দেড়টায়, কিন্তু ১২টার মধ্যেই তিনি মাঠে। নেটে ব্যাটিং করলেন ঘণ্টা খানেক। ততক্ষণে চলে এসেছেন দলের অন্যরা। অনুশীলন সেশনের শুরুতে মাঠেই গোল হয়ে ছোটখাটো টিম মিটিং। সেখানে কোচের সঙ্গে বক্তা তিনিও। এরপর এক পাশের সেন্টার উইকেটে দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট ও সাবেক উইকেটকিপার নাসির আহমেদের সঙ্গে কিপিং অনুশীলনে। নিবিড় কিপিং অনুশীলনও চলল অনেকক্ষণ, নানাভাবে। কখনো ডামি ব্যাটসম্যান সাজিয়ে, কখনো সরাসরি থ্রো, এমনকি পিচ রোলারের ওপরে বল পিছলে দিয়েও হলো কিপিং অনুশীলন!
খণ্ড খণ্ড দৃশ্যগুলো গত পরশুর। তবে বাংলাদেশ দলের সব অনুশীলনেরই কমবেশি নিয়মিত চিত্র এটি। এ তো গেল অনুশীলন। ম্যাচের কথা ভাবুন। দলের অধিনায়ক তিনি। ব্যাট হাতে মিডল অর্ডারে সবচেয়ে বড় ভরসাও, দল তাঁর কাছ থেকে চায় লম্বা ইনিংস। কিপিং প্যাড-গ্লাভস পরে এরপর দাঁড়াতে হয় উইকেটের পেছনে। উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি বোলিং-ফিল্ডিং পরিবর্তন করতে হয়। মাথায় থাকে রণপরিকল্পনা, ম্যাচের পরিস্থিতি বিচারে যা বদলাতে হয় প্রতিনিয়ত। মাথায় ঘোরে কত কিছু। কিপিংয়ে আবার একাগ্র থাকতে হয় সর্বক্ষণ। মনঃসংযোগে খানিকটা চিড় ধরলেই চরম মূল্য। মুশফিকুর রহিমের কাঁধে কত ভার!
কিন্তু কাঁধে দায়িত্বের পাহাড় থাকলেও একটুও হেলে পড়ার সুযোগ নেই। ব্যাটিং, কিপিং ও নেতৃত্ব—তিনটিই যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একটির সঙ্গে আরেকটির যোগাযোগ গভীর। মুশফিক দলের সবচেয়ে ফিট এবং পরিশ্রমী ক্রিকেটার। কিন্তু শারীরিক সামর্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সামর্থ্যটাও বিচার্য। শরীর টানলেও অনেক সময় পাওয়া যায় না মনের সমর্থন। আঁটসাঁট টেকনিকের মুশফিক যে মাঝেমধ্যেই এলোমেলো শট খেলে ফেলেন, সেটা এমনিতেই নয়। কিপিংটা খুব পরিশীলিত ছিল না কখনোই। টুকটাক ক্যাচ বা স্টাম্পিং মিসে কিপিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকবারই। তবে ব্যাটিংয়ের কারণে কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে জায়গাটা প্রশ্নাতীত। কিন্তু মিরপুর টেস্টে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং মিস করায় মুশফিকের ভার কমানোর প্রসঙ্গটি উঠছে জোরেশোরেই।কত ভার অধিনায়ক মুশফিকের কাঁধ! প্রথম আলো
বর্তমান বাস্তবতা বলছে, অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের বিকল্প নেই। বাকি থাকল ব্যাটিং ও কিপিং। প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ মনঃসংযোগ দাবি করে এই দুটোই। ব্যাটসম্যান মুশফিকের কাছে দল চায় লম্বা ইনিংস। বোলিং আক্রমণ ক্ষুরধার নয় বলে প্রায়ই মুশফিককে কিপিং করতে হয় দীর্ঘ সময়। এমনিতে কিপারদের কাছে কিপিংটাই আগে। কিন্তু কিপার যদি হন মুশফিকের মতো দলের সেরা ব্যাটসম্যান, তখনই চলে আসে একটিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপার। আদর্শ একটি উদাহরণ হাতের কাছেই আছে। ব্যাটিংয়ে বাড়তি মনোযোগ দিতে ২০০৬ সালেই টেস্টে উইকেটকিপিং ছেড়ে দিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। সিদ্ধান্তটিকে দূরদর্শী প্রমাণ করেছে সময়। কিপিং করা ৪৮ টেস্টে সাঙ্গাকারার ব্যাটিং-গড় ৪০.৪৮, শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬৭ টেস্টে ৬৭.৩৪! ৮টি ডাবল সেঞ্চুরির একটিই শুধু কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে। আর অধিনায়ক সাঙ্গাকারা কিপিং করেননি কখনোই।
ক্রিকেট ইতিহাসও বলে, কিপাররা খুব ভালো অধিনায়ক নন কখনোই। মহেন্দ্র সিং ধোনি ছাড়া দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া আর কোনো উইকেটকিপার অধিনায়কও নেই। উল্টো করে বললে সত্যিটা হলো, কাজটা খুব কঠিন বলেই কেউ পারেনি। ধোনিও ৫১ টেস্টে নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন হয়তো দলের মূল ব্যাটসম্যানদের একজন নন বলেই। ধোনির পর সবচেয়ে বেশি টেস্টে (১৮টি) নেতৃত্ব দিয়েছেন যে উইকেটকিপার, সেই জেরি আলেকজান্ডারও মূল ব্যাটসম্যান ছিলেন না। কিন্তু মুশফিক যে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ!
এটির ব্যাখ্যা সবচেয়ে ভালো দিতে পারেন যিনি, সেই সাঙ্গাকারা বেশ কিছু বিকল্পই খোলা রাখলেন, ‘আমি শুরু থেকে তিনে ব্যাটিং করি, ওপেনার দ্রুত আউট হলে অনেক সময়ই কিপিংয়ের পরপরই ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে। এ জন্যই কিপিং ছেড়েছি। মুশফিক ছয়ে ব্যাট করে, ব্যাটিংয়ে নামতে নামতে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দূর হয়ে যাওয়ার কথা। তবে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে টিকে থাকার আত্মবিশ্বাস যদি মুশফিকের থাকে এবং আরেকজন ভালো উইকেটকিপার থাকে, তাহলে অবশ্যই ভেবে দেখা যেতে পারে।’
এটা একটা সমস্যা বটে। শ্রীলঙ্কার প্রসন্ন জয়াবর্ধনের মতো উইকেটকিপার ছিল, বাংলাদেশের সেই মানের টেকনিক্যালি নিখুঁত কিপার নেই। তবে এটাও সত্যি, সুযোগ পেয়েছেন বলেই বিশ্বসেরা কিপার হতে পেরেছেন জয়াবর্ধনে।
মুশফিক নিজে স্বাভাবিকভাবেই চ্যালেঞ্জ থেকে পিছপা হতে নারাজ। আপাতত তাই কিপিং ছাড়তে চান না। তবে নিকট ভবিষ্যতে ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, ‘আমি চাই যত ভাবে সম্ভব দলে অবদান রাখতে। বাড়তি পরিশ্রমেও আমার আপত্তি নেই। কিপিং ছাড়ার কথা তাই মনেও হয় না। তবে ভার কমানো বা পরিশ্রমের কারণে নয়, ব্যাটিংয়ে বাড়তি মনোযোগ দিতেই হয়তো কিপিং ছাড়ার কথা ভাবতে পারি নিকট ভবিষ্যতে। তখন হয়তো তিন-চারে ব্যাট করব।’
দল-অন্তঃপ্রাণ মুশফিকের কাছে এমন উত্তরটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টকেও তো ভাবতে হবে তাঁকে নিয়ে! কিপিংয়ের জাঁতাকলে ব্যাটসম্যান মুশফিককে পুরো প্রস্ফুটিত হতে না দেওয়ার বিলাসিতা নিশ্চয়ই বাংলাদেশ দেখাতে পারে না!
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment